মির্জা ফখরুলের গাড়িতে হামলায় কমিশন বিব্রত : সিইসি

নির্বাচনী প্রচারের প্রথমদিনেই সহিংসতা ও হামলার ঘটনায়, বিশেষ করে মির্জা ফখরুলের গাড়িতে হামলায় ইলেকশন কমিশন বিব্রত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা।

তিনি বলেন, নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ। কিন্তু প্রতিযোগিতা যেন সহিংসতায় পরিণত না হয়, সেদিকে আপনাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।

বুধবার সকালে নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সিইসি বলেন, একটা মানুষের জীবন সব নির্বাচনের চেয়ে অনেক মূল্যবান। ৩০০ আসনের নির্বাচনের চেয়ে মানুষের জীবন মূল্যবান। এই সহিংসতা ও জীবনহানি কাম্য হতে পারে না।

তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান ও অনুরোধ রেখে বলেন, কারো প্রচারে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করবেন না। সবাই সহনশীলতা বজায় রাখবেন।

সিইসি বলেন, গতকালকে আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে বলেছিলাম যে, সারা দেশে নির্বাচনী কার্যক্রমে কোনো অঘটন ঘটেনি। কিন্তু গতকালই দুটো ঘটনা ঘটেছে। যেটা আমাদেরকে বিব্রত করেছে, মর্মাহত করেছে। নিহতের ঘটনায় আমাদেরকে অত্যন্ত বিব্রত করেছে, ব্যথা দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি মহাসচিবের গাড়িতে হামলা হয়েছে। যেটা অনাকাঙ্ক্ষিত  এবং আমরা বিব্রত। এটা কখনো কাম্য হতে পারে না। একটা মানুষের জীবন সমস্ত নির্বাচনের চেয়ে মূল্যবান। সারা দেশে যে ৩০০টি আসনে নির্বাচন হবে। সেটার যে মূল্য, আমরা মনে করি একটা মানুষের জীবনের মূল্য তার চেয়ে বেশি। সহিংসতার কারণে সেই জীবন চলে গেল এটা কারো কাম্য হতে পারে না। এই অবস্থা থেকে আমাদের উত্তরণের পথ খুঁজে বের করতে হবে।

সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা, কর্মী, প্রার্থী, ভক্ত, শোভাকাঙ্ক্ষী, সকলের প্রতি অনুরোধ করতে চাই-আপনারা ধৈর্যশীল আচরণ করবেন। নির্বাচনী  আচরণবিধি মেনে চলবেন। কারো নির্বাচনী প্রচারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবেন না। একে অন্যের গণতান্ত্রিক অধিকার, মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাবেন। যেকোনো উত্তেজনাকর, উদ্বেগজনক নির্বাচন পরিপন্থি ও অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যাবলি পরিহার করবেন এবং নিজেরাই তার প্রতিহত করবেন।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের সচেষ্ট থাকার নির্দেশনা দিয়ে সিইসি বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। মানুষকে আশস্ত করতে হবে নির্বাচন সহিংসতার জায়গা নয়। নির্বাচন মানুষের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের জায়গা। ধৈর্য্য ও একে অন্যের প্রতি সম্মান দেখিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করতে ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশ দেন সিইসি।

তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন বৈশিষ্ট্যপূর্ণ তো বটেই, সবদিক দিয়ে আলাদা নির্বাচন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আগের কোনো নির্বাচনের সাথে তুলনা করা যায় না। প্রতিটা কেন্দ্রে গড়ে প্রায় ছয়জন প্রার্থী, সারা দেশে মোট ১৮০০’র বেশি প্রার্থী মাঠে থাকবে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সিইসি।

কমিশন নির্বাচনের আগে সকল ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করে রিটার্নিং অফিসার ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে দেওয়া হয়েছে। আইনের সঠিক প্রয়োগ করে একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল নির্বাচন উপহার দিতে এসব কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন  কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী।