নির্বাচনের আগে নতুন ব্যাংকের অনুমোদন

সিনিয়র রিপোর্টার: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ ব্যাংক আরো একটি নতুন ব্যাংকের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে পরিচালনা পর্ষদের সভায় ‘বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক’ নামে এই ব্যাংকের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম।

তিনি জানান, পর্ষদে তিনটি ব্যাংকের আবেদনের বিষয়ে এজেন্ডা থাকলেও বাকি দুটি ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার পবিবর্তন ও করসংক্রান্ত জটিলতার কারণে ফিরিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দুই ব্যাংক হলো- পিপলস ব্যাংক ও সিটিজেন ব্যাংক।

তিনি বলেন, সন্তোষজনক ব্যাংকটির বিষয়ে এলওআই দিতে আগামী বোর্ডসভায় স্মারক উপস্থাপনের জন্য বলা হয়েছে। অন্য দুটি ব্যাংকের কাগজপত্র কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে আগামী বোর্ড উপস্থাপনের জন্য বলা হয়েছে।

‘বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের’ প্রধান উদ্যোক্তা হলেন বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন। যদিও শুরুতে ‘বাংলা ব্যাংক’ নামেই অনুমোদনের আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। দেশে তাদের প্লাস্টিক শিল্পসহ বিভিন্ন ব্যবসা রয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মোরশেদ আলমের ভাই।

এর আগে গত অক্টোবরে বাংলাদেশ পুলিশের ‘কমিউনিটি ব্যাংক অব বাংলাদেশ’ ব্যাংকের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক গবেষণা বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তুলনায় বাংলাদেশের ব্যাংক সংখ্যা অনেক বেশি। বাংলাদেশের তুলনায় ১৩ গুণ বড় মেক্সিকোর ব্যাংক সংখ্যা ৪৭টি। বাংলাদেশে প্রতি ১ হাজার বর্গকিলোমিটারে গড়ে ৭৫টি ব্যাংকের শাখা রয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়া ঠিক নয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনেক ক্ষেত্রে নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ না করে ‘সুবোধ বালক’র মতো আচরণ করছে।