একজন মানুষও না খেয়ে থাকবে না: শেখ হাসিনা

রওশন ঝুনু , কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জ থেকে :  এবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশের একজন মানুষও আর না খেয়ে থাকবে না, বেকার থাকবে না, গৃহহারা থাকবে না। ইতিমধ্যে মানুষের ভাগ্যেও অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে। আগামীতেও ক্ষমতায় এলে দেশ আরো উন্নত হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে। আমরা ২০২০-২১ সালে মুজিববর্ষ পালন করব।

বুধবার বিকেলে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় জাতীয় নির্বাচনের উদ্ভোধনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লাখো জনতার উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন। কোটালীপাড়া শেখ লুৎফর রহমান আদর্শ সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে উপজেলা ও জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজন করে। গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া) আসনে শেখ হাসিনার নিজ সংসদীয় এলাকায় আয়োজিত উদ্ভোধনী জনসভা থেকে আওয়ামী লীগ সভাপতি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দলের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেন।

এবার নৌকায় ভোট দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের দোসর ও আগুন সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করা ও জবাব দেয়ার আহবান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, নৌকায় ভোট দিয়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি এবং বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে বাঁচতে শিখেছি। উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে জনগণকে নৌকায় আবারো ভোট দেয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আগামীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে গ্রামের মানুষ শহরের সুযোগ-সুবিধা পাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে যাচ্ছে। যারা যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের দোসর-স্বাজন তাদের যারা মনোনয়ন দিয়ে নির্বাচনের মাঠে নেমেছে, তাদের বিরুদ্ধে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে প্রতিবাদ জানাতে হবে।

তিনি বলেন, এই কোটালীপাড়ার মানুষের ভালোবাসাই আমাকে আজ এতোদূর এনেছে। আমাকে বারবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে, ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। আমি বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি, তবুও ভয় পাইনি। আমার হারাবার কিছু নেই। আমাকে মারার জন্য কোটালীপাড়ার বোমা পুঁতে রাখা হয়েছিল। যে বোমা পুঁতেছিল সেও কোটালীপাড়ার মানুষ। আবার সেই বোমা যে খুঁজে পেয়েছিল সেই চায়ের দোকানদারও এই কোটালীপাড়ারই মানুষ। আমি আপনাদের ভালোবাসার কারণেই প্রাণে বেঁচে আছি। কোটালীপাড়ার মানুষের প্রতি গভীর মমতা নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমি পিতা-মাতা-ভাইসহ পরিবারের সকল আপনজনকে হারিয়েছি, এখন আমার একমাত্র বোন আছে আর আপনারা আছেন। আপনারাই আমার পরম আপনজন। আপনারা ভোট দেন বলেই আমি জনগণের সেবা করার সুযোগ পাই। আপনারা গ্রামে গ্রামে গিয়ে আমার জন্য নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে আরেকবার মানুষের সেবা করার সুযোগ করে দেন। আর আপনাদের উপর এই দায়িত্বটিও দিয়ে গেলাম, কোনো অবস্থাতেই যেনো, যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দোসর, আগুন সন্ত্রাসী, বোমাবাজরা যেনো কিছুতেই ক্ষমতায় আসতে না পারে!

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমাকে মারার জন্য ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি কিন্তু মৃত্যুকে ভয় করিনি। কখনো ষড়যন্ত্রকে ভয় করিনি। আমার লক্ষ্য ছিলো বাংলার মানুষের জন্য স্বাধীনতার সুফল নিশ্চিত করা। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

প্রধানমন্ত্রী বুধবার সকাল সাড়ে ৮ টায় ঢাকার গণভবন থেকে সড়ক পথে টুঙ্গীপাড়া যাত্রা করেন। দুপুর ২টা ১০ মিনিটে টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জিয়ারত করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতবৃন্দ।

সকাল থেকেই সমাবেশে যোগ দেয়ার জন্য বহুদূর থেকে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সের লাখো জনতা সভাস্থলে এসে হাজির হন। কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় সভাস্থলসহ আশপাশের গোটা এলাকা। এমন কি প্রতিটি গাছের ঢাল ছেঁয়ে যায় মানুষে মানুষে। প্রধানমন্ত্রী সভা বিকাল ৪টায় মঞ্চে উপস্থিত হন এবং বিকাল সাড়ে চারটায় বক্তব্য শুরু করেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি কোটালীপাড়া থেকে এবারের নির্বাচনি উদ্ভোধনী প্রচারণা ঘোষণা দিলে উপস্থিত লাখো জনতা মুহুর্মূহ করতালির মাধ্যমে চারদিক উৎসব মুখর করে তোলে। এসময় তারা জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু শ্লোগানেও চতুর্দিক মাতিয়ে তোলে।

কোটালীপাড়ার মা-বোনদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আপনাদের উন্নত জীবনের জন্য আমি কাজ করে যাচ্ছি। স্কুল, কলেজ, রাস্তাঘাট করে দিয়েছি। যা যা প্রয়োজন তাই করে দিচ্ছি। আপানাদের জীবন মান উন্নয়নের দায়িত্ব আমার। আগামীতে প্রতিটি গ্রামের মানুষ শহরের সুযোগ সুবিধা পাবে। আমার গ্রাম আমার শহর হিসেবে গড়ে উঠবে। সেইভাবে আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা আমরা গড়ে তুলবো। এটাই জাতীর পিতার কাছে আমাদের প্রতিজ্ঞা। তিনি বলেন, জাতির পিতা আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু জাতির পিতা স্বপ্ন দেখেছিলেন বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের। আমি সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, আমরা মানুষের জন্য এসব সুবিধা এনে দিয়েছি। আজকে সবার হাতে মোবাইল ফোন। এই সরকারের কল্যাণে এটা সম্ভব হয়েছে। সরকারের অগ্রযাত্রার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আজ ঘরে বসে মানুষ টাকা উপার্জন করতে পারছে। শিক্ষা গ্রহণ করার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন কর সহজ হয়। আমরা শিক্ষা বিস্তারে কাজ করেছি। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। ব্যবসা বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি করেছি। দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করেছি। এর ফলে বিনিয়োগ বাড়বে। বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশের মানুষও বিনিয়োগ করতে পারবে।

তিনি বলেন, আমরা একটি শিক্ষিত জাতি গড়ে তুলতে চাই কারণ লক্ষ একটাই বাংলাদেশ আর গরিব থাকবে না। সেজন্য কারিগরি শিক্ষার ব্যাপক প্রসার করেছি। যেনো একজন মানুষ শুধু নিজে একাই চাকরী না করে, আরো দশ জনকে চাকরি দিতে পারে। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নিঃস্ব আমি রিক্ত আমি, দেবার কিছু নাই, আছে শুধু ভালোবাসা দিয়ে গেলাম তাই।

কোটালীপাড়া আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. সুভাষ চন্দ্র জয়ধরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ছোট কন্যা শেখ রেহানা, দলের উপদেষ্টা মÐলীর সদস্য কাজী আকরাম উদ্দীন আহম্মেদ, দলের সভপতিমÐলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, লে. কর্ণেল (অব.) ফারুক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আহমদ হোসেন, ধর্মবিষয়ক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আব্দুস সবুর, কেন্দ্রীয় সদস্য এস এম কামাল হোসেন, রিয়াজুল কবির কাউসার, যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হারুনর রশিদ, চিত্রনায়ক রিয়াজ, চিত্রনায়ক ফেরদৌস, সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা আবু কাউসার, গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এমদাদুল হক খান, জেলার সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী খান, কোটালীপাড়া পৌর মেয়র হাজী কামাল হোসেন, কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম হুমায়ুন কবির, উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বিমল কৃষ্ণ বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক আয়নাল হোসেন শেখ, সাবেক মেয়র এইচ এম অহিদুল ইসলাম, ত্রাণ ও সমাজ কল্যান বিষয়ক সম্পাদক হাজী আমীনুজ্জামান খান মিলন, ভাইস চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান হাজরা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ল²ী রানী সরকার, মহিলা আওয়ামীলীগ সভানেত্রী রাফেজা বেগম, জেলা পরিষদ সদস্য দেবদুলাল বসু পল্টু এবং নজরুল ইসলাম হাজরা মন্নু প্রমুখ।