বাংলাদেশের সংবিধানে শেখ মুজিব ও জিন্নাহর দুই চেতনা!

সুমন দত্ত: দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমরা যে সংবিধান পেলাম তাতে ধর্মনিরপেক্ষতা আছে। যা ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের চেতনা। পরে এখানে ঢোকানো হলো রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম যা পাকিস্তানের জনক কয়েদে আযম মোহম্মদ আলী জিন্নাহর চেতনা।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এডাব আয়োজিত জাতিগত সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমনাগরিকত্ব বিষয়ক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মিল্টন বিশ্বাস, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর।

রানা দাশ গুপ্ত বলেন, যে লক্ষ্য ও চেতনা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। সেখান থেকে আমরা সরে গেছি। তাই আজ বলা হয় মুক্তিযোদ্ধা রাজাকার, সব আজ একাকার। তিনি বলেন, আমি যেই সেক্টরে যুদ্ধ করি তার কমান্ডার ছিলেন জিয়াউর রহমান। যদি জানতাম এদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হবে তবে যুদ্ধেই যেতাম না। সেদিন যারা যুদ্ধ করেছিলেন তাদের একটাই লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা। তিনি আরো বলেন, স্কুলে শপথ পড়ানো হয় বিশেষ ধর্ম সম্প্রদায়ের শব্দ আল্লাহ দিয়ে। সেখানে স্রষ্টা বললে কি অসুবিধা হয়?

আয়শা খানম বলেন, নানা কারণে আজ নারীদের সমঅধিকার আইন করা যাচ্ছে না। ধর্মীয় সম্প্রদায় থেকে বাধা আসে। আজ পাঠ্য বইতে পড়ানো হয় ওতে ওড়না। আমরা কি পড়তাম আর এখন কি সব পড়ানো হচ্ছে। 

অনুষ্ঠানে বেদে সম্প্রদায়ের লোকজনের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও তাদের কেউ মারা গেলে মৃতদেহ ভাসিয়ে দিতে হয়। তাদের দাফন কাফন করতে দেয়া হয় না। নানা দিক থেকে বাধা আসে। তাদের নির্দিষ্ট কোনো কবর স্থান নেই।

জয়ন্ত অধিকারী বলেন, বাংলাদেশ সরকার নাগরিকের সম অধিকার সংক্রান্ত নানা চুক্তি জাতিসংঘে সই করলেও মানুষ সমান অধিকার থেকে বঞ্চিত। দেশের সংবিধানেও সম অধিকারের কথা বলা আছে। কিন্তু তার প্রতিফলন দেখা যায় না। সমান অধিকার থেকে বঞ্চিত শ্রেণি হচ্ছে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, নারী, দরিদ্র মানুষ, দুর্গম অঞ্চলে বসবাসকারী জনগণ, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, তৃতীয় লিঙ্গ (হিজরা), দলিত সমাজ।

সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় তাদের সংগঠন এডাব দেশব্যাপী বিভিন্ন সেমিনার আয়োজন করার উদ্যোগ নিয়েছে।