টাইগারদের হারিয়ে সিরিজ সমতায় উইন্ডিজ

স্পোর্টস ডেস্ক: সাইফ শোভন
শাই হোপের এই ব্যাটেই স্বপ্ন ভঙ্গ টাইগারদের। ক্যারিয়ার সেরা ১৪৬ রানের ইনিংস খেলে দলকে জয় উপহার দেন উইন্ডিজের এ ওপেনার-

জিতলেই ট্রফি নিশ্চিত। এমন সমীকরণের ম্যাচে হেরে গেল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তবে মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বাধীন দলকে ৪ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে (১-১) সমতায় ফিরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আগামী শুক্রবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে স্বাগতিক বাংলাদেশ দলকে প্রথমে ব্যাটিং পাঠায় উইন্ডিজ। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে লেগ স্ট্যাম্পে ইয়র্কার ছোড়েন ক্যারিবীয় পেস বোলার ওশানে থমাস।

তার ডেলিভারি দেয়া বলটি ফ্লিক করতে যান লিটন দাস। তবে ব্যাটে-বলে হয়নি। সরাসরি আঘাত হানে লিটনের ডান পায়ের গোড়ালিতে। স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন লিটন। আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাকে নেয়া হয় হাসপাতালে।

ইনিংসের ১.৪তম ওভরে দলীয় ৬ রানে ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধা করতে পারেননি ইমরুল কায়েস। আগের ম্যাচে মাত্র ৪ রান করা জাতীয় দলের এই টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান ফেরেন মাত্র ৮ রানে।

এরপর মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গে নিয়ে ১১১ রানের জুটি গড়েন তামিম ইকবাল। এই জুটি ক্যারিয়ারের ৪৩তম ফিফটি তুলে নেয়ার পাশাপাশি তিন ফর্ম্যাটের ক্রিকেটে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ১২ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তামিম। এদিন ৬৩ বল খেলে চারটি চার ও একটি ছক্কায় ৫০ রান করে ফেরেন তামিম।

তামিমের বিদায়ের পর ৮০ বলে পাঁচ চারের সাহায্যে ৬২ রান করা মুশফিক সাজঘরে ফেরেন। এরপর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে সঙ্গে নিয়ে ৬১ রান যোগ করেন সাকিব আল হাসান। ৩ উইকেটে ১৯৩ রান করা বাংলাদেশ এরপর ৪৬ রানে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ দল।

৫১ বলে তিন চারের সাহায্যে ৩০ রান করে ফেরেন রিয়াদ। আগের ম্যাচে ১৯ রান করা সৌম্য সরকার এদিন ফেরেন ৮ বলে ৬ রান করে।

দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে ইনজুরি নিয়েই ফের ব্যাটিংয়ে নেমে পড়েন ওপেনার লিটন কুমার দাস। তবে সুবিধা করতে পারেননি। ফেরেন মাত্র ৮ রানে। দুর্দান্ত খেলতে থাকা সাকিব খেলা শেষ করে আসতে পারেননি। ইনিংস শেষ হওয়ার ১৮ বল আগে কেমার রোচের বলে বোল্ড হয়ে ফেরার আগে ৬২ বলে ৬৫ রান করেন সাকিব আল হাসান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে একাই তিন উইকেট নেন থমাস।

টার্গেট তারা করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় উইন্ডিজ। এরপর বাড়তি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেন শাই হোপ। দ্বিতীয় উইকেটে ড্যারেন ব্রাভোর সঙ্গে গড়েন ৬৫ রানের জুটি। ব্রাভো ফিরে গেলে তৃতীয় উইকেটে মারলন স্যামুয়েলসকে সঙ্গে নিয়ে ফের ৬২ রান যোগ করেন হোপ।

এরপর বাংলাদেশের পেস আক্রমণে দিশেহারা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল। ২ উইকেটে ১৩২ রান করা দলটি এরপর ২৫ রানের ব্যবধানে হারায় ৩ উইকেট। তিন ব্যাটসম্যানের উইকেট তুলে নেন রুবেল-মাশরাফি ও মোস্তাফিজরা।

দলের এই আসা-যাওয়ার মিছিলে ব্যতিক্রম ছিলেন শাই হোপ। জিম্বাবুয়ে, ভারতের পর মঙ্গলবার বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। তার একার লড়াই থামাতে পারেননি মাশরাফিরা।

জয়ের জন্য শেষ ২৪ বলে উইন্ডিজের প্রয়োজন ছিল ৩৫ রান। এমন কঠিন পরিস্থিতে অসাধারণ বোলিং করেন মোস্তাফিজুর রহমান। ৬ বলে মাত্র ৩ রান খরচ করে তিনি।

৪৮তম ওভারে রুবেল হোসেন ১০ রান খরচ করলেও কিমো পাওয়েলকে আউট করার একটা সুযোগ তৈরি করেছিলেন। ক্যাচ তুলে দিয়েও বদলি ফিল্ডার নাজমুল ইসলাম অপুর কল্যাণে লাইফ পান পাওয়েল।

জয়ের জন্য শেষ ১২ বলে ক্যারিবীয়দের প্রয়োজন ছিল ২২ রান। তখনও জয়ের স্বপ্ন দেখেছিল বাংলাদেশ। আগের ওভারে মাত্র ৩ রান খরচ করা মোস্তাফিজ, ৪৯তম ওভারে ১৬ রান দিলে টাইগারদের সেই স্বপ্ন ফিকে হয়ে যায়।

শেষ ছয় বলে ৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করা উইন্ডিজ, শেষ পর্যন্ত ২ বল হাতে রেখেই ৪ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে

ঢাকানিউজ২৪.কম/এসএস