কাঙ্গালিনী সুফিয়ার পাশে প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক:  গুরুতর অসুস্থ প্রখ্যাত ফোক সঙ্গীতশিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়া। গেল সপ্তাহে অসুস্থাবস্থায় সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। সেখানে ডা. রিয়াজ উদ্দিনের অধীনে চিকিৎসা চলছিলো বলে সমকাল অনলাইনকে জানান কাঙ্গালিনী সুফিয়ার মেয়ে পুষ্প। আজ মঙ্গলবার পুষ্প জানালেন নতুন খবর।
হাসপাতালের বেডে কাঙ্গালিনী সুফিয়া

অসুস্থ কাঙ্গালিনী সুফিয়াকে সাভারের এনাম মেডিকেল থেকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর আগে গত ৯ ডিসেম্বর সমকাল অনলাইনে ‘অসুস্থ কাঙ্গালিনী সুফিয়া, পাশে নেই কেউ’ এই শিরোনামে খবর প্রকাশ করা হয়।

আজ পুষ্প নিজেই জানালেন, সোমবার ভোরে সাভার থেকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে স্থানান্তর করা হয়। আর এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তরফ থেকে।

অনলাইনকে পুষ্প বলেন, ‘সোমবার ফজরের আজানের পর আমাদের এনাম মেডিকেল হাসপাতালে কিছু মানুষ আসেন । তারা সঙ্গে করে অ্যাম্বুলেন্সও নিয়ে আসেন। তারা আমাদের রেডি হতে বলে। তারা অ্যাম্বুলেন্সে করেই আমাদের বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজে নিয়ে আসেন। তখনও জানিনা তারা আসলে কারা। পরে বলেন প্রধানমন্ত্রীর লোক তারা।মায়ের চিকিৎসার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নিয়েছেন নিয়েছেন। এখন থেকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলেই মায়ের চিকিৎসা চলবে বলে জানিয়েছেন তারা’

গেল মঙ্গলবারও সাভারে নিজ বাড়িতে সুস্থই ছিলেন কাঙ্গালিনী সুফিয়া। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হলে দ্রুত এনাম মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সুফিয়ার মেয়ে পুষ্পই তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তখন প্রাথমিক পরীক্ষা করে চিকিৎসকরা জানান, ব্রেইন স্ট্রোক করেছেন সুফিয়া। এমনকি হার্টে ও কিডনীতেও মেজর সমস্যা রয়েছে বলেও প্রাথমিক ভাবে জানিয়েছিলেন চিকিৎসকরা।

৯ ডিসেম্বর সমকাল অনলাইনে প্রকাশিত খবরে কাঙ্গালিনী সুফিয়ার মেয়ে পুষ্প বলেছিলেন,’ আমার মায়ের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাচ্ছি। কারণ ডাক্তাররা তার অবস্থা ভালো নয় বলে জানিয়েছেন। এদিকে আমাদের আর্থিক অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। আমার নিজের টাকা দিয়েই মাকে চিকিৎসা করাচ্ছি। জানিনা কতদিন করাতে পারবো।’

বাংলা বাউল গানের জনপ্রিয় শিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়া। মাত্র মাত্র ১৪ বছর বয়সে গ্রাম্য একটি অনুষ্ঠানে গান গেয়ে শিল্পী হিসেবে পরিচিতি পান। বিটিভির তালিকাভূক্ত শিল্পী তিনি। গান গেয়ে ৪০টির মতো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন। ‘কোনবা পথে নিতাইগঞ্জে যাই’, ‘পরাণের বান্ধব রে’, ‘বুড়ি হইলাম তোর কারণে’, ‘নারীর কাছে কেউ যায় না’ এবং ‘আমার ভাঁটি গাঙের নাইয়া’ গানগুলো তার কণ্ঠে জনপ্রিয়তা পায়।