পুলিশের ক্লিয়ারেন্স অবসান ঘটেছে

নিউজ ডেস্ক:  বিদেশগামীদের জীবনে পুলিশের ছাড়পত্র লাভের ঝকমারির নাটকীয় অবসান ঘটেছে। এটা সত্যি অভাবনীয় এবং প্রশংসনীয়। প্রচলিত ঘুণে ধরা ব্যবস্থা, যার আওতায় আমরা অনেক ক্ষেত্রে পুলিশের সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলি, তাদের কারণে–অকারণে শাপান্ত করি, তারা তাদের কিছু ভালো কাজের মধ্যে একটি আশ্চর্য অনুকরণীয় উদাহরণ তৈরি করেছে।

পুলিশি তদন্ত এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিয়ে যত অপবাদ এত দিন ছিল, সেটি পেছনে ফেলে পুলিশ কীভাবে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারল, তা বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। ২০০৭ সালে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার নাঈম আহমেদ প্রথমবারের মতো এই বিষয়ে ওয়ান পয়েন্ট সার্ভিস চালু করেন। বর্তমান কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া সেটি সাফল্যের সঙ্গে কম্পিউটারাইজড করেন। এখন ঘরে বসেই নাগরিকেরা থানা-পুলিশের সাহায্যনির্ভর ক্লিয়ারেন্স আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করতে পারছেন। পুলিশের সঙ্গে সেবাপ্রার্থীদের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগাযোগ পর্যন্ত নেই। এমনকি সেবাপ্রার্থীর তদবির ছাড়া এবং তাঁদের সম্পূর্ণ অগোচরে এবং অনুপস্থিতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে পুলিশ সত্যায়নের কাজটাও ত্বরিত গতিতে করিয়ে আনছে।

প্রতিদিন ১৩০ থেকে ১৫০টি আবেদন জমা পড়ছে। গত দুই বছরে এভাবে দেশের ৪০ হাজারের বেশি মানুষকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দেওয়া সম্ভব হয়েছে। আর এর ফলে রাজস্ব খাতে আয় হয়েছে ৯ কোটি টাকার বেশি। এই সাফল্য প্রমাণ করে যে পুলিশের সেবার প্রতি মানুষের আস্থাহীনতার পুনরুজ্জীবন ঘটানো সম্ভব। আমরা বিশ্বাস করি, পুলিশ জনগণের বন্ধু এবং পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার কোনো বিকল্প নেই। কারণ, এমন সব কল্যাণমুখী কাজ তাদের দিয়ে করানো সম্ভব, যা অন্যদের দিয়ে করানো সম্ভব নয়। বর্তমান প্রচলিত অব্যবস্থা এবং নানা অনিয়ম রাতারাতি বদলানো সম্ভব নয়। কিন্তু এমন সুন্দর উদাহরণ যে বাস্তবতা, সেটা অস্বীকার করা যাবে না।

পাসপোর্ট তৈরি করতে গিয়ে পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে পাসপোর্টপ্রত্যাশীদের কী পরিমাণ ভোগান্তির শিকার হতে হয়, তা ভুক্তভোগীরা জানেন। আমাদের দেশের পাসপোর্টপ্রত্যাশীদের একটি বড় অংশ হচ্ছে বিদেশগামী প্রবাসী শ্রমিক। এবং পাসপোর্ট তৈরি করতে গিয়ে পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে তাঁরা অনেক ক্ষেত্রেই চরম হয়রানির শিকার হন।

আমরা বিশ্বাস করি, আন্তরিকতার সঙ্গে উদ্যোগ নিলে এই পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়াকেও সহজ করা সম্ভব। সাধারণ মানুষ যাতে এই সেবাটি সহজে পায়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পুলিশের। পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের মতো করে শুধু পুলিশ ভেরিফিকেশনের সেবাই নয়, আরও অনেক ক্ষেত্রে এই ধরনের ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করার সুযোগ আছে।

পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের ক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসন যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, সেটি একটি রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার দাবিদার। আমরা পুলিশের কাছ থেকে এমন নতুন নতুন সেবামূলক উদ্যোগ প্রত্যাশা করছি।