বেগম জিয়ার প্রার্থিতা আপিল শুনানিতেও বাদ

নিউজ ডেস্কঃ তিন আসনে প্রার্থী হয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) করা আপিলে টিকলেন না বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।শনিবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা আপিল শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে এ রায় দেন।

অবশ্য ইসির এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে খালেদার উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে দুই বছরের বেশি দণ্ডিতদের নির্বাচন করার পথ উচ্চ আদালতের মাধ্যমে বন্ধ হওয়ায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসনের আর ভোটে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই।

খালেদার প্রার্থিতা ফেরানোর আবেদনে বিপক্ষে রায় দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ (সিইসি) চার কমিশনার। আর প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেওয়ার পক্ষে ভোট দেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছরের দণ্ডিত হয়ে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া। নির্বাচন কমিশনের শনিবারের রায়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে থাকা ৭২ বছর বয়ী খালেদাকে ছাড়াই এবার নির্বাচনে যাচ্ছে বিএনপি।

খালেদা জিয়ার আপিলের শুনানির পর নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ জানান, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপিল আবেদনটি ৪-১ ভোটে নামঞ্জুর করা হয়েছে।ফেনী-১, বগুড়া-৬ এবং বগুড়া-৭ আসনের মনোনয়নপত্র নিয়ে আপিল আবেদন করেছিলেন খালেদা জিয়া। তবে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। এর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করা হয়।

এর আগে সকাল ১০টায় নির্বাচন কমিশনের অস্থায়ী এজলাসে একাদশ সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার যাচাই-বাছাইয়ে বাতিল হওয়া মনোনয়নপত্রের ওপর শেষ দিনের শুনানি শুরু হয়। দুপুরে শুরু হয় খালেদা জিয়ার আপিল শুনানি। এক পর্যায়ে জানানো হয়, এর ওপর বিকেল ৫টার পর আবার শুনানি হবে। এরপর সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

আপিল শুনানিতে খালেদা জিয়ার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন এবং মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ আরও কয়েকজন আইনজীবী।একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে আগামী ৩০ ডিসেম্বর। গত ২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে ২ হাজার ২৭৯টি মনোনয়নপত্র বৈধ ও ৭৮৬টি বাতিল ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। রিটার্নি কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্দ ব্যক্তিরা ৫৪৩টি আবেদন করেন।