স্বীকার কর মাওলানা সা’দ বিশ্ব আমীর, নইলে জানে মেরে ফেলবো

ময়মনসিংহ ব্যুরো : ‘ব্যাগের ভিতর থেকে লাঠি, চাপাতি, ছুরি, রড, পিস্তল বের করে দিল্লীর মাওলানা সা’দ’র অনুসারী সশস্ত্র সন্ত্রাাসীরা (বাহুতে কালো ও সবুজ ফিতা সংকেত পড়ে) নামাজরত এবং কুরআন তেলাওয়াতরত মাদ্রাসা শিক্ষক-ছাত্রদের উপর বির্বোরোচিত হামলা চালিয়ে সারাশরীরে রক্তাক্ত যখম করে। এরপর ওরা বলতে বলে আমাদের মতো তোরাও স্বীকার কর মাওলানা সা’দ বিশ্ব আমীর, নইলে জানে মেরে ফেলবো, এই কথা বলে ওরা শিক্ষক-ছাত্রদের দুইকান ধরে বার বার উঠ-বঠ করায়, এরপর আমাদের ব্যাগের ভিতর কুরআন মজিদসহ সামানায় আগুণ ধরিয়ে দেয়, হিফজ শিখতে আসা শিশু মাদ্রাসার ছাত্রদের কহর দরিয়া ( তোরাগ) নদীতে নিক্ষেপ করে উল্লাস প্রকাশ করে পাষ-রা। আমাদের গনন বিদায়ী আর্তচিৎকারে টঙ্গীর আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠলেও পাষ- সীমারদের বুক একটুও কাপেনি।’

এভাবেই এই প্রতিবেদকের কাছে সেইদিন ১ ডিসেম্বর সকালে টঙ্গী ময়দানে বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতির কাজে অংশ নিতে এসে ময়মমনসিংহ জেলার মুক্তাগাছার সীমান্ত রসুলপুর বাজারে গ্রামের বাড়িতে দিল্লীর মাওলানা সা’দের অনুসারী সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলার বর্ণণা দিয়ে গিয়ে মাওলানা হেলাল উদ্দিন সোহেল ৫ডিসেম্বর দুপুরে এসব কথা বলেন। ঢাকার মিরপুর ১২নং সেক্টরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জামিয়া এমদাদীয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা হেলাল উদ্দিন সোহেলের মাথা সন্ত্রাসীরা ফাটিয়ে ফেলে, ৭টি সেলাই দেয়া হয়। এছাড়াও হাত-পা রক্তাক্ত যখম হয় এবং সারা শরীরে আঘাত করে। ওই মাদ্রসার একশত শিক্ষক-ছাত্র টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতির কাজে অংশ নিতে প্রায় একশত শিক্ষক-ছাত্র তিন দিনের জন্য এসেছিলেন। মাওলানা হেলাল উদ্দিন বলেন পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের বার বার আশ্বাস দেয়া হয়েছে যে, ময়দাদে তাদের উপর কোনো হামলা হবে না। তারা ভোবেই হোক হামলা প্রতিরোধ করবে কিন্তু বাস্তবে হয়েছে উল্টোটা। পুলিশের সামনেই আমাদের উপর হামলা করা হয়।

তার সাথে মুক্তাগাছার রসুলপুর গ্রামের হাফেজ রাজীবুল হাসান। পবিত্র কুরআন মজিদ হিফজ শেষে ওই মাদ্রাসায় ৫ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত রাজীবুলেরও মাথা ফাটিয়ে ফেলে সন্ত্রাসীরা, ৮টি সেলাই দেয়া হয়, হাত-পা রক্তাক্ত যখম হয় এবং সারা শরীরে আঘাত করে। আঘাতে- আঘাতে তার গায়ে একটি মাত্র পাঞ্জাবীটি ছিড়ে টুকরা-টুকরা করে ফেলে। গায়ে জামা বিহীন হাসপাতালে চিকিৎসা এবং গ্রামের বাড়িতে ফিরতে হয় ইলেম শিখতে যাওয়া গরীব অসহায় রাজীবুল। পিতৃহারা রাজীবুলকে তার মামাসহ অন্যরা পড়ালেখায় সহযোগিতা করতো।

ময়মনসিংহ শহরতীর মধ্য বাড়েরার মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন (৬৬) এবং মোঃ আব্দুর রহিম, কাকরাইলে এন্তজামের জামাতে গিয়েছিলো একমাসের জন্য। ১ ডিসেম্বর সকালে বাড়িতে ফেরার কথা ছিলো। ওইদিনেই আক্রমনের স্বীকার হন তারা। নরপশুদের হামলা থেকে বাঁচতে টয়লেটে গিয়ে পালালেও দরজা ভেঙ্গে বের করে তাদের সারাশরীরে আঘাত হাত-পা রক্তাক্ত যখম করে পা ভেঙ্গে ফেলে।