টঙ্গীতে ইজতেমার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

নিউজ ডেস্ক:   গাজীপুরের টঙ্গীতে ইজতেমা মাঠের দখল নিয়ে তাবলিগ জামাতের দুপক্ষের বিরোধের সমাধান চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে দিল্লি­র নিজামুদ্দিন মারকাজের বর্তমান মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা। তারা আশঙ্কা করছেন দুই পক্ষের বিরোধের কারণে সারাদেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দিল্লি­র নিজামুদ্দিন মারকাজের বর্তমান মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভী অনুসারী মাওলানা আশরাফ আলী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি পরিস্থিতি শান্ত করতে সরকারের কাছে ৭ দফা দাবি তুলে ধরেন।

সংঘর্ষের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ এ ৭ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, টঙ্গীর ইজতেমা ময়দান সরকারি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দখলদার মুক্ত রাখতে হবে। দুই পক্ষের বিরোধে কোনোভাবেই মাদ্রাসা ছাত্রদের ব্যবহার করা যাবে না। হতাহতদের ক্ষতিপূরণ প্রদান ও তাদের পরিবারের দায় দায়িত্ব নিতে হবে। দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য সারাদেশে উস্কানিমূলক সভা ও অপপ্রচার বন্ধ করতে হবে। তাবলিগ জামাতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বহিরাগতদের অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। আগামী ১১, ১২ ও ১৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব ইজতেমা যথাসময়ে সম্পন্ন করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা আশরাফ আলী বলেন, ইজতেমাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আগেই বিবদমান পরিস্থিতির সমাধান জরুরি হয়ে পড়েছে। তারা (সা’দ বিরোধীরা) যদি কোনো সমাধানে না আসেন, তাহলে তারা তাদের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করুক, আমরা আমাদের মতো করবো। আমরা কোনো বিরোধ চাই না। তারা তাদের পছন্দ মতো সময়ে ইজতেমা করবে, আমরা আমাদের মতো ইজতেমা করবো। আমাদের ইজতেমায় দেশ-বিদেশ থেকে মুরব্বিরা আসবেন, সেক্ষেত্রে তারা যেন বাধা না দেন। ভিন্ন ভিন্ন সময়ে কার্যক্রম পরিচালনা করার সুযোগ দেওয়া হোক, যেটি সরকারের পরিপত্রে ঘোষণা করা হয়েছিল।

তিনি সরকারের জারি করা আগের প্রজ্ঞাপনের বরাত দিয়ে বলেন, সরকার প্রজ্ঞাপন দিয়েছিল যে, যে যার মতো কাজ চালাবে, এক পক্ষ অন্য পক্ষের কাজে বাধা দেবে না। কিন্তু সরকার সেই প্রজ্ঞাপন বাতিল করার পর থেকে তারা (সা’দ বিরোধীরা) মারমুখী হয়ে উঠেছে।

লিখিত বক্তব্যে মাওলানা আশরাফ আলী জানান, গত ১ ডিসেম্বরের (শনিবার) সংঘর্ষে নিহত ঈশমাইল মণ্ডল ছিলেন তাদের (সা’দ) অনুসারী। তার হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার আহবান জানানো হয়। এ সময় নিহতের ছেলে জাহিদ হাসান উপস্থিত থেকে তার বাবার হত্যার বিচার দাবি করেন।