জনগণ ভোট কেন্দ্রে গেলে আ.লীগের ভরাডুবি হবে: ফখরুল

নিউজ ডেস্ক:  বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জনগণ যদি ভোট কেন্দ্রে যায় তাহলে আওয়ামী লীগ কোনো মতেই এই নির্বাচনে সফল হতে পারবে না, তাদের ভরাডুবি হবে।রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বুধবার সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই দেশ আপনাদের। আপনারা দেশের মালিক। আপনাদের নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে— এটা নাগরিক হিসেবে আপনাদের দায়িত্ব। ভোটারদের প্রতি তাই আহ্বানই জানাচ্ছি— নির্বাচনের দিন বেরিয়ে আসুন, ভোট কেন্দ্রে যান, ভোট নিশ্চিত করুন, ভোট সুরক্ষা করুন।’

রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানকে সরকারি দল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একদলীয় ও একতরফা নির্বাচন করার চক্রান্ত করছে বলেও এ সময় অভিযোগ করেন তিনি।

আন্দোলনের অংশ হিসেবে তারা নির্বাচনে এসেছেন দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, একদিকে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে আটক করে রেখেছে, অন্যদিকে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক করে রেখেছে। অবিলম্বে খালেদা জিয়া ও আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি দিতে হবে।

নির্বাচনের পরিবেশ ও সমতল ভূমি (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) তৈরি হয়নি দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না, একাদশ জাতীয় নির্বাচন একটা প্রহসনের নির্বাচনে পরিণত হতে চলেছে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তো দূরে থাকুক এখন চেষ্টা করা হচ্ছে এটাকে আরো কী করে খারাপ করা যায়। খানা-খন্দর আরো খোঁড়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রতিমুহূর্তে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন পরিপত্র জারি করছে বিভিন্ন সময়ে, যে পরিপত্রগুলো কখনোই নির্বাচনের সহায়ক নয়।’

তিনি বলেন, নির্বাচনের বিধিতে আছে— মনোনয়নপত্র দাখিল করার পরে যতক্ষণ প্রতীক বরাদ্দ করা না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো সভা-সমাবেশ-মিছিল করা যাবে না। অথচ সরকারি দল আওয়ামী লীগ প্রতিদিন সভা-সমাবেশ-মিছিল করছে, সেখানে তারা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছে না।

নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন,আপনারা দায়িত্ব পালন করতে না পারেন তাহলে মৌলিক নীতিগত অবলিগেশন থেকে দেশবাসীর কাছে বলুন— নিরপেক্ষভাবে মুক্তভাবে, স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছি না। তাহলে আপনাদের দায়িত্ব যেটা, পদত্যাগ করা উচিৎ। অন্যথায় সংবিধান আপনাদের যে দায়িত্ব দিয়েছে সেই দায়িত্ব নিয়ে আপনারা নির্বাচনটাকে নিরপেক্ষ করার সব ব্যবস্থা করুন।’

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনকে তার দায়িত্ব পালনে সর্বাত্মক সহযোগিতা তারা করবেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন যদি সরকারের মন্ত্রী ও সরকারি দলের নেতারা যা বলে সেভাবে কাজ করে, তাহলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না।