ময়মনসিংহ বিভাগ : সাইফ শোভন

১৭৮৭ সালের ১মে স্থাপিত হয় ময়মনসিংহ জেলা। আজ এর বয়স 225 বছর। প্রায় দুই কোটি লোকের বাস ময়মনসিংহে। এককালে আয়তনে এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম জেলা হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমানে রংপুর জেলার সীমানা থেকে আসামের কিছু অংশ এ জেলার অর্ন্তভূক্ত ছিল। এটি প্রাচীনকাল থেকে কৃষি প্রধান অঞ্চল হিসাবে খ্যাত ছিল। ময়মনসিংহ গীতিকা ১৭-১৮ টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে যা পৃথিবী খ্যাত। এ জেলা ঐতিহ্যমন্ডিত রাজনৈতিক, সাস্কৃতিক, শিক্ষা ও সামাজিকভাবে অনেক এগিয়ে রয়েছে। এখানে রয়েছে বিগত দিনের অনেক অনেক আন্দোলনের ইতিহাস। ফকির বিদ্রোহ, টংক আন্দোলন, তারও আগে নীলকর বিদ্রোহ, বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন, স্বদেশী আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলন বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়েছে এ অঞ্চলের সন্তানেরা ১৯৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে ১৯৬৯ এর গণ আন্দোলন. ১৯৭১এর স্বাধীনতা সংগ্রাম, পরবর্তীতে, ৯০-র আন্দোলনে এ জেলার সন্তানরা প্রান দিয়ে প্রমাণ করেছে এরা অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না।

১৯০৫ সালে যখন বৃটিশরা ময়মনসিংহকে বিভাগ করার চিন্তা-ভাবনা করছিল এখন 111 বছর পরও ময়মনসিংহকে বিভাগে রূপান্তরিত না করার কোন যুক্তি নেই। ১৯৬৬ সালে খুলনাকে যখন বিভাগে উন্নীত করা হলো। ৭০ দশক থেকে আজ পযন্ত বৃহত্তর মযমনসিংহকে ৬টি জেলায় ভাগ করা হয়েছে। মযমনসিংহ শিক্ষা, কৃষি। সাংস্কৃতিক ও দেশের অর্থনীতিতে এগিয়ে থাকলেও ময়মনসিংহকে বিভাগে উন্নীত না করার পেছনে কি যুক্তি থাকতে পারে আমরা ভেবে পাই না। এ জেলায় রয়েছে অনেক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যাক্তিত্ব কমরেড মনিসিংহ, কর্নেল আবু তাহের, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রমুখ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছাড়াও রয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন যাদুকর যাদু সম্রাট পিসি সরকার, শিল্পাচার্জ জয়নুল আবদীন, স্বনামধন্য চিত্র পরিচালক স্বর্গীয় সুকুমার রায়,সত্যজিত রায় প্রমুখ ব্যক্তিত্ব।

ময়মনসিংহে যা আছে : ১. প্রশাসনিক পর্যায় (ক) থানার সংখ্যা ৬টি জেলায় ৪৮ টি, (খ) সংসদ সদস্য ৩১ জন ২. জনসংখ্যা ১ কোটি ৮৫ লাখ ৩. আয়তন ৬,৩,৬১ বর্গমাইল। ৪. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা (ক) ১টি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, (খ) কলেজ ১৫১ টি বৃহত্তর ময়মনসিংহে। (গ) উচ্চ বিদ্যালয় ৪০০ এরও বেশি। (ঘ) প্রথমিক বিদ্যালয় বরিশালের প্রায় দ্বিগুন (ঙ) মেডিক্যাল কলেজ, সরকারি ১ টি ও বেসরকারি ১ টি। (চ) হোমিও মেডিক্যাল কলেজ ৪টি (ছ) আয়ুর্বেদিক কলেজ ২টি (জ) শিক প্রশিন কলেজ ১ টি (ঝ) মহিলা টিচার্স ট্রেনিক কলেজ ১টি (ট) আইন মহাবিদ্যালয় ২টি (ঠ) সন্তোষ আবাসিক স্কুল ও কলেজ (ভারতেশ্বরী হোমস ) (ড) সামরিক প্রতিষ্ঠান ১. বি ডি আর হেড কোয়ার্টাও ৩টি ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও জামালপুর ২. ক্যান্টনমেন্ট ২টি

৩. এয়ারবেইজ ১টি ৪. যাতায়াত রেলপথ ও সড়ক পথে প্রতিটি জেলা ও থানা সদরে। ১৯ ফ্রেব্রুয়ারী ৯৩ ময়মনসিংহ বিভাগ বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ কর্র্তৃক আয়োজিত এক সূধী সমাবেশ বিচারপতি আব্দুর রউফ বিভাগ বাস্থবায়নের লক্ষে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের সুপারিশ করেন। তিনি বলেন এটা আদায় করা আমাদের নাগরিক অধিকার। তার বক্তব্যে সরকারের নিকট সুপারিশ রাখেন ঢাকাকে বিভাগে না রেখে ময়মনসিংহ বিভাগ ঘোষনা করা, এর পেছনে একটি যুক্তি রয়েছে। লোক সংখ্যার চাপ রাজধানীভিত্তিক কর্মকান্ডকে হাফিয়ে উঠেছে। তাই ময়মনসিংহ বিভাগ হলে সব দিক থেকে জনগণ উপকৃত হবে। ঢাকায় বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির মহাসচিব জনাব ফকির আশরাফ তার বক্তব্যে বলেন এটা আমাদের ন্যায়সংগত দাবি। বিভাগ ছাড়া ও অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে না। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য বৃহত্তর ময়মনসিংহের কৃতী সন্তান প্রফেসর ডঃ মোঃ আমিনুল হক তার বক্তব্যে বলেন, এটা আমাদের অনেক দিনের প্রাণের দাবি|  এ অঞ্চলে বুদ্ধিজিবী, সাংবাদিক, শ্রমজিবী ও শিতি সমাজকে যুক্তি সহকারে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের নিকট জোর দাবি জানানোর জন্যে সংঘবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান। ময়মনসিংহকে বিভাগ বাস্থবায়নের লক্ষে বৃহত্তর ময়মনসিংহের প্রতিটি জেলায় ১টি আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। ঢাকায় বিভিন্ন ফোরামে এ দাবি উথাপিত হয়েছে। বিভাগ হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে। প্রশাসনিক দিক থেকে বিভিন্ন বিভাগীয় অফিস সদরে দফতর হবে এতে করে জনগনের ভোগান্তিও উপশম হবে। বৃহত্তর ময়মনসিংহের জেলাগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে, তাতে শিল্প উন্নতির উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন সামাজিক উন্নয়নের সাথে সাথে বিভাগ হলে জনগণকে অর্থনৈতিকভাবে ÿতিগ্রস্ত হতে হবে সেটা নিতান্তই ভ্রান্ত ধারনা| সারাদেশের উন্নয়নের সাথে একটা বিরাট অসমতা বয়ে যাচ্ছে gqgbwms‡n ।

লেখক:সাবেক ছাত্রনেতা ও শিক্ষাবিদ.

Mobile: 01715063956

E-mail: shyf60@gmail.com