এরশাদের সঙ্গে ঘর করেও আ.লীগ অসাম্প্রদায়িক!

সুমন দত্ত
দেশের বুদ্ধিজীবীরা জানেন সামরিক ব্যারাকে জন্ম নেয় বিএনপি ও জাতীয় পার্টি। আর গণতান্ত্রিকভাবে জন্ম নেয় আওয়ামী লীগ, গণফোরাম ও অন্যরা।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছে জাতীয় পার্টি ও কিছু পাতি বাম। অন্যদিকে গণফোরামের সঙ্গে আছে বিএনপি, বাম ও মধ্যপন্থিরা। ঐক্যফ্রন্ট নামে তারা এক অভিন্ন জোট করেছে। যার নেতৃত্বে আছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আইনজীবী ও বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন।

বিএনপির মত রাজনৈতিক দল নিজেদের দুর্গ বাচাতে ড. কামাল হোসেনের শরণাপন্ন হয়েছে। রাজনীতির এই মেরুকরণ অনেকে হজম করতে পারছে না।

ড. কামাল হোসেন, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকি ও আ স ম আবদুর রবকে বিএনপি রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। এরফলে বিএনপির দিকে ধেয়ে আসা যেসব অস্ত্র আওয়ামী লীগ প্রয়োগ করত সেগুলো এখন ভোতা হয়ে গেছে। ঐক্যফ্রন্টকে সরাসরি রাজাকার বলা যাচ্ছে না। ভারত বিরোধী বলা যাচ্ছে না। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী বলা যাচ্ছে না। উল্টো তারা আওয়ামী লীগের মত সমমনা।

ঐক্যফ্রন্টে যখন আওয়ামী লীগের সাবেকরা যোগদান করছে তাতে গাত্রদাহ শুরু হয়েছে অনেকের মনে। যোগদানকারীদের উদ্দেশে কুৎসিত ভাষায় আক্রমণ করা হচ্ছে। যাকে তাকে রাজাকার ঘোষণা করা হচ্ছে। যেদিন এই লোকরা দল ত্যাগ করেছিল সেদিন কেন এর কারণ জানার চেষ্টা করা হয়নি। সেদিন কেন বিচার বিবেচনা করা হয়নি। যোগ্য লোককে প্রাপ্ত সম্মান না দিলে তারা এমনটা করবেনই।

প্রতিবেশী ভারতের রাজনীতিতে এমন বহু উদাহরণ আছে। শারদ পাওয়ার এক সময় কংগ্রেস করতেন। সম্মান পাননি। নিজে নতুন দল ঘোষণা করেন এনসিপি নামে। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভি পি সিং কংগ্রেস করতেন। সম্মান পাননি। দল ত্যাগ করে জনতা দল গঠন করেছিলেন। পরে জোট করে ক্ষমতায় গিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে প্রণব দাদা বলে ডাকেন, সেই তিনিও কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। পরে আবার তাকে ফিরিয়ে আনা হয়।

ড. কামাল হোসেন বহুদিন আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গ ত্যাগ করেন। কিন্তু করে গেছেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি। সংবিধানের কথা বলে গেছেন। আওয়ামী লীগ তাকে ধরে রাখতে পারেনি সেটা তাদের ব্যর্থতা। এখন যারা আওয়ামী লীগ ছেড়ে বেরিয়ে আসছে সেটাও তাদের ব্যর্থতা।

একটি দলে যদি বংশধররা সবকিছুর দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হয়, তখন অনেকেই সেখানে থাকতে পারে না। কারণ সেই দলে তখন মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকে না। সেখানে কায়েম হয় তেল মারার রাজনীতি। তোষামোদকারীরা প্রায় প্রাধান্য। এমন অবস্থায় আত্মসম্মান বোধ সম্পন্ন রাজনীতিবিদদের মানিয়ে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। ড. কামাল হোসেনের নাম উচ্চারণের আগে আন্তর্জাতিক কথাটা লাগানো হয়। আর এই অর্জন তিনি করেছেন নিজ যোগ্যতায়। কাউকে তেল মেরে তিনি এই যোগ্যতা অর্জন করেননি।

আজ বাংলাদেশে শুরু হয়েছে তেল মারার সংস্কৃতি। যারা শেখ হাসিনা ও তার পরিবারকে তেল মারবেন, তারা একুশের পুরস্কার থেকে শুরু করে সব জাতীয় পুরস্কার পাবেন। এমন উদাহরণ ভূরি ভূরি। যোগ্যতার বিচার করে কয় জন?

জ্ঞানপাপীরা বলেন, ড. কামাল হোসেন কেমন নেতা? যিনি নির্বাচনে হেরে যান। জিততে পারেন না। তাদের বলতে হয়, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং কোনো নির্বাচনে জেতেনি। এমনকি কাউন্সিলর নির্বাচনেও। তারপরও তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

নির্বাচনে বিজয়ী হয়েও লোকজন হিটলারকে গালি দেয়। তাকে স্বৈরাচার বলে। মহাত্মা গান্ধি নেতা হয়েছেন কিন্তু ভোটে জিতে নেতা হোননি। আবার ভোটে জিতেও নেতাজির মত লোকরা পদে থাকতে পারেনি।

আমি যে এলাকায় থাকি সেই ঢাকা-৬ এলাকায় ১৯৯১ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনাকে হারিয়েছে সাদেক হোসেন খোকা। যাকে নির্বাচনের আগে কেউ চিনতনা। সেই খোকা পর পর তিনবার বিজয়ী হয়ে হেরে যায় আরেক অখ্যাত মিজানুর রহমান দিপুর কাছে। এতে কি প্রমাণ হয় শেখ হাসিনা কোনো নেত্রী নয়। কিংবা সাদেক হোসেন খোকা কোনো নেতা নয়।

প্রকৃতপক্ষে লোকজনের ভোটে কে জিতল আর কে হারল এতে কিছুই প্রমাণ হয় না। দেশের প্রতি, মানুষের প্রতি কমিটমেন্টই সবচেয়ে বড়। নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত রাখা ও সৎ চরিত্র বজায় রাখাটাই বড়।

ড. কামাল হোসেন একজন উদার ও সাদা মনের মানুষ। সৎ রাজনীতিবিদ। প্রয়াত কলামিস্ট নির্মল সেন ভোট করেছেন। হেরেছেন । ভোটের সংখ্যা নাই বললাম। তাতে কি প্রমাণ হয় তিনি অসৎ ছিলেন? আসলে আমরা যারা ভোটার, তারাই সঠিক ব্যক্তিকে ভোট দেই না। তারাই কখনো ভালো লোককে ভোট দেইনা। ভোটে যারা পয়সা খরচ করে, তারাই জেতে। এটাই সব জায়গায় হয়। পয়সা খরচ নাই হেরে একাকার।

বাংলাদেশে দুই প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। প্রতিটি নির্বাচনে এই তথ্যই প্রমাণিত হয়েছে। দেশে ও বিদেশে এই সত্যই প্রতিষ্ঠিত। বিগত ১০ বছর বিএনপি ছিল না জাতীয় সংসদে। এরই মধ্যে ঘটে গেছে বহু পরিবর্তন।

১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধের মত কর্মকাণ্ড করায় পাকিস্তান পন্থি রাজনীতি যারা করতেন তাদের হয়েছে মৃত্যুদণ্ড। আর সেটি হয়েছে দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। প্রতিটি দণ্ড কার্যকরের পর বিএনপি কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। কারণ বিএনপি দাবি করে তারা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তারা গর্ব করে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা নিজেও ছিলেন রণাঙ্গনের যোদ্ধা এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের দ্বারা ঘোষিত বীর উত্তম খেতাবধারী।

এদিকে ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবকে সপরিবারের হত্যার জন্য জিয়াকে দায়ী করা হয়। প্রকৃতপক্ষে মুজিব হত্যার বিচারে জিয়ার নাম আসেনি। তাকে দায়ী করা হয়নি। তারপরও রাজনীতির খাতিরে জিয়াকেই বঙ্গবন্ধু হত্যার জন্য দায়ী করা হয়।

অথচ আওয়ামী লীগের লোক খন্দকার মোস্তাক ছিলেন সবকিছুর জন্য দায়ী। আর তাকে সাহায্য করেছিলেন তৎকালীন আমলের সেনা শাসকরা যারা আজকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী পার্টির নাম ফ্রিডম পার্টি।

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার জন্য এই পার্টির অধিকাংশ নেতার ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। তবে এই পার্টিকে বিএনপি বিভিন্ন সময় সমর্থন দেয়ায় বিএনপিকে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী হিসেবে দাবি করা হয়। এই পার্টির কিছু নেতা এখনো বিদেশে আত্মগোপন করে আছে। তারা এখন জামাতিদের সঙ্গে মিলে আইএসআইয়ের নেটওয়ার্ক চালাচ্ছে। বর্তমান রাজনীতিতে তারা এখন সাইড লাইনে। তবে যেকোনো সময় ভোল পাল্টে দেশের রাজনীতিতে ইন করতে পারে। এই ভয়টা আওয়ামী লীগের মধ্যে আছে। আর সেটা থাকা স্বাভাবিকও।

প্রেসিডেন্ট জিয়াকে হত্যা করে আরেক সামরিক জেনারেল এরশাদ যে রাজনীতিটি চালু করেন বাংলাদেশে, তিনিও পাকিস্তান পন্থি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনিও গোলাম আযমদের বুকে নিয়ে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে গেছেন টানা ১০ বছর। বিএনপির পাক প্রেমী রাজনীতিবিদরা সেদিন ভোল পাল্টে ওই জেনারেলের পেছনে অবস্থান নিয়েছিল। কারণ বিএনপির আদর্শ এরশাদের মধ্যে দেখতে পেয়েছিলেন তারা।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী সাকা ছিল জাতীয় পার্টির মন্ত্রী। তেমনি গোলাম আযমরা সেদিন আশ্রয় নিয়েছিলেন এরশাদের ছায়া তলে। আজ সেই সাম্প্রদায়িক এরশাদ আওয়ামী লীগের ছায়া তলে বসে রাজনীতি করে যাচ্ছেন। তবে আজ তিনি পাক পন্থি থেকে ভারত পন্থি হয়েছেন।

আমার মনে আছে যেদিন জিয়াউর রহমান মারা যায় সেদিন বিটিভিতে ২৪ ঘণ্টা হামদ নাথ প্রচার হতে থাকে। প্রখ্যাত এক নজরুল সঙ্গীত শিল্পী সারাদিন গান গাইতে থাকে। আর আমি টিভি ছেড়ে কার্টুন না দেখে হতাশ হয়েছি। সেদিন রাস্তায় যে পোস্টার ছাপানো হয়েছিল তাতে একদিকে বঙ্গবন্ধুর ছবি আরেক দিকে জিয়ার ছবি ছিল। তখন বিএনপি ওয়ালারা নিজেদেরকে আওয়ামী লীগের মত দু:খী, এটাই প্রমাণ করতে চেয়েছিল।

এদিকে গোলাম আযমদের বন্ধু এরশাদ আনন্দে রাজনীতি শুরু করেন। যা ১৯৯০ সালে গণ আন্দোলনের মাধ্যমে পতন হয়।এরশাদ বিরোধী ওই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ ৮ দলের ব্যানারে, বিএনপি ৭ দলের ব্যানারে ও বামজোট ৫ দলের ব্যানারে আন্দোলন শুরু করেছিল।

জামাতিরা ৯০ এর এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে অংশ নেয়নি। তারা সেদিন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। এরশাদ পতনের আগের দিন পর্যন্ত জামাতিরা স্বৈরাচারকে সমর্থন দিয়ে গেছে। যেদিন এরশাদের পতন হয় সেদিন হঠাৎ করে জামাতি আমীর আব্বাস আলী খান বিটিভিতে মুখ দেখিয়ে নিজেদের ভোল পাল্টানোর কথা বলেন।

এরশাদ অতীতে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করেছেন এবং গোলাম আযম গ্যাংকে সঙ্গে নিয়ে করেছেন। এখন সেই এরশাদ আওয়ামী লীগের কোলে বসে ক্ষমতার স্বাদ নিচ্ছে ও আওয়ামী লীগের বি টিমে পরিণত হয়েছে।

এরশাদের এমপিরা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করেন। তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত নারায়ণগঞ্জে তার দলের এমপি সেলিম ওসমান। এই সেলিম ওসমান সেদিন ইসলাম ধর্মের সম্মান রক্ষার নামে এক হিন্দু প্রধান শিক্ষককে কান ধরে উঠবস করিয়েছে। যা সমগ্র শিক্ষক সমাজকে অপমান করে। পরের দিন বহু লোক রাজপথে কান ধরে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে। আজ সেই শয়তান বুক ফুলিয়ে মিডিয়ায় কথা বলে। আর এই সাম্প্রদায়িক সেলিম ওসমান হচ্ছে চ্যাম্পিয়ন সেকুলার পার্টি আওয়ামী লীগের শামীম ওসমানের আপন ভাই।

ইসলাম রক্ষার নামে সাম্প্রদায়িক এরশাদ সেদিন উগ্র হেফাজতের আন্দোলনে শরীক হয়েছিল। অথচ এরশাদ হাসিনা সঙ্গী। এরশাদ হেফাজতের কর্মীদের শরবত ও ডাবের পানি খাইয়ে ইসলাম রক্ষা করেন। এরপর এরশাদের এমপিরা নাস্তিক ব্লগার হত্যাকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানায়।

দলটির এমপি ফিরোজ রশিদের মত লোকরা প্রকাশ্যে ব্লগারদের সমালোচনা করতে থাকে। টিভিতে তাদের সাম্প্রদায়িক আস্ফালন সবাই দেখেছে। তারপরও এই দলটি আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে রয়েছে। অথচ এর সমালোচনা করে না লীগ পন্থি বুদ্ধিজীবীরা।

জামাতিদের সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে যতটা সোচ্চার লীগ পন্থি ভাড়াটে বুদ্ধিজীবীরা ঠিক ততটাই নীরব তারা এরশাদের সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে।

আমাদের দেশে নতুন প্রজন্ম জাতীয় পার্টির সাম্প্রদায়িক রাজনীতি দেখেনি। বিশেষ করে যাদের জন্ম ৯০ এর পরে। জাতীয় পার্টি হচ্ছে এমন একটি সাম্প্রদায়িক দল যাদের নেতৃত্বে ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর বর্বর হামলা হয়েছিল।

সেদিন স্বৈরাচার এরশাদ নিজের পিঠ বাচাতে প্রতিবেশী দেশের বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে সারাদেশে হিন্দুদের হাজারো মন্দির ভেঙেছিল। বাদ যায়নি জাতীয় মন্দির ঢাকেশ্বরী পর্যন্ত। আর এতে সহায়তা করেছিল তৎকালীন জামাতি পত্রিকা দৈনিক ইনকিলাব। যার মালিক যুদ্ধাপরাধী। পত্রিকাটি পরে অবশ্য সাম্প্রদায়িক উসকানি দেয়ার জন্য ক্ষমা চেয়েছিল।

স্বাধীনতার পর সেটাই ছিল বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর প্রথম সাম্প্রদায়িক হামলা। সেদিন বহু হিন্দু সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশে তারা থাকবে না। বিশাল একটি সংখ্যার হিন্দু দেশ ত্যাগ করে ভারতে যায়। অথচ আজ পর্যন্ত এই সাম্প্রদায়িক এরশাদের বিচার হয়নি। উল্টো প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তৈরি করেন তিনি। প্রতিবেশী দেশের কথায় নাকি তিনি উঠবস করেন। এমন একটা ধারণা সাধারণের মনে। ২০১৪ সালে এরশাদ শেষ মুহূর্তে নির্বচনে যাবার ঘোষণা দেন সুজাতা সিংয়ের চাপে পড়ে। এতে ভোটার বিহীন নির্বাচন বৈধতা পায় আইনগতভাবে।

আ্ওয়ামী লীগের এক ওষুধ বিজ্ঞানী বলেন, খালেদা জিয়া সাম্প্রদায়িক কারণ তিনি কোনো মন্দিরে যাননি। এটা হয়ত সত্য। তবে খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক জিয়া ধামরাইতে গিয়ে তার মেয়েকে নিয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের রথের দড়ি টেনেছেন। ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী কালী বাড়িতে গিয়ে তিনি মন্দির সংস্কারে অর্থ দিয়েছেন। অথচ আমি শেখ হাসিনার ছেলে কিংবা মেয়েকে কখনও মন্দিরে যেতে দেখেনি। মন্দিরে গিয়ে প্রতিমার সামনে দাঁড়িয়েছেন এমন ছবি জয় কিংবা পুতুলের আছে আমার জানা নেই।

তাহলে কি ধরে নেব শেখ হাসিনা অসাম্প্রদায়িক কিন্তু তার ছেলে মেয়েরা সাম্প্রদায়িক হিন্দু বিদ্বেষী? আসলে কে সাম্প্রদায়িক ও অসাম্প্রদায়িক সেটা মন্দিরে যাওয়া না যাওয়ার ওপর নির্ভর করে না। সেটা নির্ভর করে ব্যক্তির চিন্তা চেতনার ওপর। তার দর্শনের ওপর। কারণ এরশাদ বহুবার ঢাকেশ্বরী গিয়েছেন। কিন্তু তিনি আগা গোড়া সাম্প্রদায়িক।

বাংলাদেশে ভোট টানার জন্য অনেকে সাম্প্রদায়িক কথা বার্তা বলেন। এটা হচ্ছে শয়তানি টোপ। এই টোপ যারা দেবেন তারা কোনো ধর্মের নয়। তারা শয়তানের অনুসারী। এজন্য নির্বাচন কমিশনকে বলা হয়েছে এদেশে ভোটের সময় কারা এই ধরনের রাজনীতি করে তাদের ওপর খেয়াল রাখুন। তাদের প্রার্থিতা বাতিল করুন।

নির্বাচন কমিশনের আচরণ বিধিতে এসব এখন লেখা হয়েছে। আশা করি এই টোপ যারা দেবেন তাদের প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যেতে পারে। তাই সবাই সাবধান। আজ সবার হাতে মোবাইল ফোন। কেউ যদি আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে আর তার প্রমাণ যদি নির্বাচন কমিশনের হাতে আসে। তাহলে আম ছালা সবই যাবে।

লেখক সাংবাদিক.