বাংলাদেশের হিজড়াদের প্রশিক্ষণে বলিউডের জাভেদ হাবিব

সুমন দত্ত: বাংলাদেশে তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) মানুষরা অবহেলিত। তাদের জীবনমান উন্নয়নে বাংলাদেশের উত্তরণ ফাউন্ডেশনের সঙ্গে ভারতের হাবিব ফাউন্ডেশনের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তি অনুসারে প্রতি বছর দুইজন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিকে কলকাতায় বিনা পয়সায় বিউটিশিয়ানের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

বৃহস্পতিবার ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন জাভেদ হাবিব। তিনি হাবিব ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, এভাবে প্রশিক্ষণ প্রাপ্তরা অন্য হিজড়া সম্প্রদায়ের লোকদের মাঝে নিজেদের বিদ্যা ছড়িয়ে দেবেন। হিজড়াদের আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

এদিন জাভেদ হাবিবের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা বিধান ত্রিপুরা। তিনি উত্তরণ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ডিআইজি হাবিবুর রহমানের পক্ষে কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য পড়ে শোনান মাহাবুব হাসান। তিনি উত্তরণ ফাউন্ডেশনের প্রধান সমন্বয়কারী।

জাভেদ হাবিব একজন বিশ্ববিখ্যাত হেয়ার ড্রেসার। মুম্বাই থেকে তার যাত্রা শুরু। ভারতে বিভিন্ন রাজ্যে তার হাজারো বিউটি পার্লার ও সেলুন রয়েছে। বলিউডের বিভিন্ন অভিনেতা ও অভিনেত্রীদের সাজ সজ্জায় হাত রয়েছে বিখ্যাত এই হেয়ার ড্রেসারে।

অতিথি জাভেদ হাবিব ভারতে কতগুলো তার প্রতিষ্ঠান আছে সে বর্ণনা দেন। সেখানে তৃতীয় লিঙ্গের লোকরা কীভাবে নিজেদের গড়ে তুলেছে, সে কথা বলেন। বাংলাদেশে আসতে পেরে ও এখানকার লোকদের জন্য কিছু করতে পেরে তিনি খুশি হয়েছেন বলে জানান।

বিধান ত্রিপুরা বলেন, হিজড়াদের সমাজ ভয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে। তাদের জন্য রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা নেই। এই জন্য উত্তরণ ফাউন্ডেশন তাদের জন্য কয়েকটি বিউটি পার্লার তৈরি করে দিয়েছে। ওইসব পার্লারে তারা কাজ করে। এতে হিজড়াদের জীবন ধারা বদলে গিয়েছে। হিজড়া বেশ কয়েকটি ডেইরি ফার্মে কাজ করছে। এসব ডেইরি ফার্ম ঢাকা, গাইবান্ধা ও রাজবাড়ীতে আছে।

তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধি হিসেবে কথা বলেন, শাম্মী আখতার। তিনি একটি বিউটি পার্লার চালান। হিজড়া হওয়ার কারণে তাকে মানসিক যন্ত্রণার শিকার হতে হয়েছে। কেন তাকে নারী কিংবা পুরুষ কোনোটিই বানানো হলো না? মৃত্যুর পর তিনি বিধাতার কাছে এজন্য জবাবদিহিতা চাইবেন।

অনুষ্ঠানে আলোচকরা বলেন, সমাজে হিজড়াদের নিয়ে বহু ভুল ধারণা আছে। অনেকে মনে করেন কারো বংশে হিজড়া থাকলে সেই বংশে ছেলে মেয়ে বিয়ে দেয়া ঠিক নয়। এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হিজড়াদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে ছবি তোলেন। এটা হিজড়া সম্প্রদায়ের জন্য বড় প্রাপ্তি বলে জানান তারা। অন্য মানুষদের মত হিজড়াদেরও সবকিছু করার অধিকার রয়েছে। তাদের জন্য রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংরক্ষণ ব্যবস্থা থাকতে হবে। আগামী নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে হিজড়া সম্প্রদায় কিছু দাবি পেশ করেছে। তাদের কথা প্রতিটি রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে থাকতে হবে।

১. জাতীয় বাজেটে হিজড়াদের জন্য বরাদ্দ থাকতে হবে। ২. হিজড়া গোষ্ঠীকে নারী-পুরুষে মত সমভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। ৩.হিজড়াদের কে যোগ্যতা অনুসারে সরকারি বেসরকারি কিংবা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরি দিতে হবে। ৪. বয়স্ক ও অক্ষম হিজড়াদের জন্য রাষ্ট্রীয় ভাতার ব্যবস্থা করতে হবে। ৫ হিজড়াদের জন্য মনরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিতে হবে। ৬. হাসপাতালে হিজড়াদের বিনা পয়সায় চিকিৎসা দিতে হবে ৭. হিজড়াদের জন্য ব্যাংকগুলো বিশেষ ঋণ ব্যবস্থা চালু করবে ৮.হিজড়াদের জন্য সরকারিভাবে আবাসন ব্যবস্থা করতে হবে। ৯. হিজড়াদের জন্য আলাদা ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে। ১০. তাদের লেখাপড়া ও কর্মমুখী শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম