গৌরীপুরে পুরুষ সহকর্মীকে চর-থাপ্পড় মারলেন নারী সহকর্মী

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি :
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর বাছির উদ্দিনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে নারী সহকর্মী উচ্চমান সহকারি কাম হিসাবরক্ষক খালেদা পারভীন রেখার বিরুদ্ধে। গত শনিবার উপজেলা শিক্ষা অফিস কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। পরে রোববার রাতে বিষয়টি জানাজানি হলে তোলপাড় শুরু হয়।
স্থানীয় ও অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসে শিক্ষা অফিসের একটি দাপ্তরিক কাজের বিবরণী তৈরির দায়িত্ব দেয়া হয় খালেদা পারভীন রেখাকে। একাজে তাকে সহযোগিতা করছিলেন দুইজন অফিস সহকারি বাছির উদ্দিন ও শাহজাহান ফকির। শনিবার শিক্ষা অফিসার শফিকুল ইসলাম খান বিবরণীর প্রতিবেদন দেখতে চাইলে খালেদা পারভীন ও বাছির উদ্দিন কাজ অসমাপ্ত রেখে সেটা উপস্থাপন করেন। পরে শিক্ষা অফিসার অসমাপ্ত কাজের কারণ জানতে চাইলে ওই দুই সহকর্মী দুজন দুজনকে দোষারোপ শুরু করে বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে খালেদা পারভীন বাছির উদ্দিনকে থাপ্পড় মারেন। পরে শিক্ষা অফিসারের হস্তক্ষেপে পরিবেশ শান্ত হয়।
বাছির উদ্দিন বলেন (০১৭৩৩২৫৯৪৯২), রেখা আপা কথার অবাধ্য হলেই সে আমাকে গালি-গালাজ করতো। শনিবার অফিসের একটা কাজটা করতে দেরী হওয়ায় রেখা আপা আমাকে স্যারের সামেনেই চর-থাপ্পড় মেরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এর আগেও সে অফিসের আরো এক স্টাফকে লাঞ্ছিত করেছে। আমি এই ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত সাপেক্ষে সুষ্ঠু বিচার চাই।
অভিযোগ অস্বীকার করে খালেদা পারভীন রেখা বলেন, আমি শুধু মুখেই বলেছিলাম বাছিরকে থাপ্পড় মারবো। কিন্তু আমি বাছিরকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করিনি। অফিসের ছোট একটা বিষয় নিয়ে আপনাদের ঘাটাঘাটি করার কোনো দরকার নেই।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শফিকুল ইসলাম খান বলেন, অফিসের একটি দাপ্তরিক কাজ নিয়ে রেখা ও বাছিরের মধ্যে একটু ঝামেলা হয়েছে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোফাজ্জল হোসেন জানান, তিনি বিষয়টি এই প্রতিবেদকের কাছ থেকেই প্রথম শোনেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।