উপমহাদেশের দ্বিতীয় নগর সভ্যতা উয়ারি-বটেশ্বর

নিউজ ডেস্ক:  দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল উয়ারি-বটেশ্বর। নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলা থেকে ৩ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত দুটি গ্রাম উয়ারি ও বটেশ্বর ছাপাঙ্কিত রৌপ্য মুদ্রার প্রাপ্তিস্থান হিসেবে অনেক আগে থেকেই পরিচিত। প্লাইস্টোসিন যুগে গঠিত মধুপুর গড়ের পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত এ প্রত্ন অঞ্চলে অনুসন্ধান ও খননে বের হয়ে এসেছে আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন দুর্গ নগর। খ্রিষ্টপূর্ব ছয় শতকের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থান হিসেবে উয়ারি-বটেশ্বর বাংলার ইতিহাসে যোগ করেছে নতুন অধ্যায়। এ প্রত্ন অঞ্চলের আবিষ্কার বাংলার ইতিহাসকে নতুন করে লিখতে বাধ্য করেছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিওলজি বিভাগের অধ্যাপক সুফী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ভারতবর্ষে খ্রিষ্ট্রপূর্ব প্রায় ছয় শতকে যে দ্বিতীয় নগর সভ্যতার পরিচয় পাওয়া যায়, তা গড়ে ওঠে গঙ্গা নদী উপত্যকা ধরে। হিমালয় পর্বত থেকে উত্পন্ন হয়ে গঙ্গা নদী ভারতের উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়েছে। গঙ্গা নদী পূর্ব ভারতীয় মানুষের জীবনে যে গভীর প্রভাব রেখে গেছে, তার সাক্ষ্য হিসেবে রয়ে গেছে উয়ারি-বটেশ্বরের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন। আর সে কারণেই পুরোবিশ্ব এখন উয়ারি-বটেশ্বর সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে উঠছে। ক্যামব্রিজ ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এ বিষয়ে পড়াচ্ছে। এসবই আমাদের এই সভ্যতার স্বীকৃতি।

সুফী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, উয়ারি-বটেশ্বরে মাত্র ৫টি প্রত্নস্থান খনন করা হয়েছে। আমরা মোট ৫০টি প্রত্নস্থান খননের জন্য তৈরি করেছি। সরকার বার্ষিক ১৫ লাখ টাকা অনুদান দিচ্ছে। কিন্তু সেটা খুব অপ্রতুল। কেননা গবেষকরা আসে। এ টাকায় কুলায় না। তারপরেও ধীর গতিতে হলেও খনন কাজ চলছে। তিনি জানান, উপমহাদেশে প্রথম নগর সভ্যতা ছিল সিন্ধু ও হরপ্পা সভ্যতা। যা এক হাজার বছর টিকে ছিল। এর পরবর্তী এক হাজার বছরের কোনো সভ্যতার খোঁজ পাওয়া যায়নি। এর পরে উয়ারি-বটেশ্বরই দ্বিতীয় নগর সভ্যতা।

ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ এশিয়ান আর্কিওলজি বিভাগের অধ্যাপক দিলীপ কুমার চক্রবর্তী মনে করেন, উয়ারি-বটেশ্বরের সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও রোমান সাম্রাজ্যের যোগাযোগ ছিল। বিশেষত এখানে পাওয়া গেছে রুলেটেড মৃত্পাত্র, স্যান্ডউইচ কাচের পুঁতি, স্বর্ণ আবৃত কাচের পুঁতি, টিন মিশ্রিত ব্রোঞ্জ প্রভৃতি উপকরণ। উয়ারি-বটেশ্বরে জনপদ ও সামাজিক এ দুই শ্রেণির ছাপাঙ্কিত রৌপ্য মুদ্রা আবিষ্কার হয়েছে। জনপদ শ্রেণির মুদ্রাগুলো খ্রিষ্টপূর্ব ছয়-চার শতক পর্যন্ত প্রচলিত হওয়ার কথা জানা গেছে। এগুলোর আলোকে উয়ারি-বটেশ্বরকে উপমহাদেশে ষোড়শ মহাজনপদের রাজ্য বা রাষ্ট্র ব্যবস্থার সঙ্গে সমগোত্রীয় ও সমসাময়িক বলে ধারণা করছেন গবেষকগণ। আর যদি তাই হয়, তাহলে উয়ারি-বটেশ্বর ছিল সে জনপদের রাজধানী।

পিতা-পুত্রের গল্প :১৯৩৩ সালে উয়ারি গ্রামে মাটি খনন করতে গিয়ে শ্রমিকরা মাটির পাত্রে সঞ্চিত কিছু রূপার মুদ্রা পেয়েছিলেন। সেগুলো তারা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেন। সেখান থেকে ২০-২৫টি মুদ্রা সংগ্রহ করেন হানিফ পাঠান। তিনি এই প্রাচীন মুদ্রা প্রাপ্তির বিষয়ে ওই বছরই সাপ্তাহিক মোহাম্মদী পত্রিকায় লেখেন। স্থানীয় এই স্কুলশিক্ষকের মাধ্যমেই উয়ারি-বটেশ্বরে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংগ্রহের সূচনা হয়। এই বিষয়ে তার ব্যাপক উত্সাহ সন্তান মো. হাবিবুল্লা পাঠানের মনে উদ্দীপনা ও কৌতূহল সৃষ্টি করে। সেই কৌতূহল থেকেই পিতার সঙ্গে পুত্র মুহাম্মদ হাবিবুল্লা পাঠান যোগ দেন। ১৯৫৫ সালে তিনি তখন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। ওই বছরের ৩০ জানুয়ারি হানিফ পাঠান নিবন্ধ লিখেন দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। তার লেখার শিরোনাম ছিল ‘পূর্বপাকিস্তানের প্রাগৈতিহাসিক সভ্যতা’। এরপর থেকেই উয়ারি-বটেশ্বর দেশ ও দেশের বাইরের সুধী সমাজের নজরে আসতে শুরু করে। পরবর্তী সময়ে এই খনন কাজে যোগ দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সুফী মোস্তাফিজুর রহমান। তাদের নিরলস পরিশ্রমেই উয়ারি-বটেশ্বর এখন বাংলাদেশের এক আলোচিত প্রত্নস্থান।

যেসব প্রত্নবস্তুর সন্ধান মিলেছে :১৯৩০ সালের দিকে স্কুলশিক্ষক মুহম্মদ হানিফ পাঠান এ অঞ্চলের প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব জনসমক্ষে তুলে ধরেন। পরবর্তীকালে তার ছেলে মুহম্মদ হাবিবুল্লা পাঠান এ অঞ্চলের প্রত্নঐতিহ্য নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। তাদের নিরলস শ্রম অব্যাহত থাকায় একপর্যায়ে দীর্ঘদিন পর ১৯৯৬ সালে এ অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপের কাজ সম্পন্ন হয়। তারপর ২০০০ সাল থেকে উয়ারি-বটেশ্বরে শুরু হয় প্রত্নতাত্ত্বিক খননের কাজ। এছাড়া গ্রাম দুটিতে কৃষকের জমি চাষ ও নালা কাটা, গৃহস্থের বর্জ্য-গর্ত তৈরি ও মাটি কেটে ঘরবাড়ি নির্মাণের সময়ও বিভিন্ন ধরনের প্রত্নবস্তুর দেখা মিলেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের ছাপাঙ্কিত রৌপ্য মুদ্রার পাশাপাশি পাওয়া গেছে বিচিত্র প্রকৃতির স্বল্প মূল্যবান পাথর ও কাচের পুঁতি, রৌপ্য মুদ্রা, টেরাকোটা নিদর্শন, যক্ষমূর্তি, লোহার ধাতুমল ও প্রাগৈতিহাসিক যুগের ফসিল কাঠের হাতিয়ার। অন্যদিকে পুঁতির পাশাপাশি পুুঁতি তৈরির ভগ্নাংশ প্রাপ্তি থেকে মনে করা যেতেই পারে, একসময় এখানে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র ও পুঁতি তৈরির কারখানা ছিল।

প্রত্নতাত্ত্বিক খননে উয়ারি প্রত্নস্থলে আবিষ্কৃত হয়েছে ৬০০ মি.-৬০০ মি. আয়তনের চারটি মাটির দুর্গ-প্রাচীর। দুর্গ প্রাচীরের ৫-৭ ফুট উঁচু ধ্বংসপ্রাপ্ত কিছু অংশ এখনো টিকে আছে। এ ছাড়াও দুর্গের চারদিকে ছিল পরিখা (এখন তাতে মাটি ভরাট হয়েছে)। ভরাট হলেও পূর্ব প্রান্তের পরিখার চিহ্ন এখনো দৃশ্যমান। দুর্গের পশ্চিম, দক্ষিণ-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রায় ৫.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ, ২০ মিটার প্রশস্ত ও ১০ মিটার উঁচু অসম রাজার গড় নামে একটি মাটির বাঁধ রয়েছে। সম্ভবত এটি দ্বিতীয় দুর্গ প্রাচীর হিসেবে উয়ারি দুর্গনগরের প্রতিরক্ষার কাজ করত। ভারতের নাগার্জুনকুন্ড হলো এরকম দ্বিস্তর বিশিষ্ট দুর্গ প্রাচীরের আরেকটি উদাহরণ। বীর মাউন্ড, হস্তিনাপুর, রাজগৃহ, কৌশাম্বী, বৈশালী প্রভৃতি স্থানেও একটি দুর্গকে ঘিরে রেখে আরেকটি দুর্গ গড়ে উঠেছে।

পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত উয়ারি দুর্গনগরের বাইরে আরো ৫০টি প্রত্নস্থান এ যাবত্ আবিষ্কৃত হচ্ছে। বন্যামুক্ত উঁচু স্থানে বসতি স্থাপনকারী মানুষের মতো উন্নত পরিকল্পনা ও বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় মহাস্থান ও উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদ অঞ্চলের বসতি বিন্যাসেও দেখা যায়। কৌটিল্য প্রণীত অর্থশাস্ত্রে দুর্গকে নগর বলা হয়েছে। ১১ শতকের বৈয়াকরণবিদ কৈয়টের মতে, ‘নগর হলো উঁচু পাঁচিল এবং পরিখা দিয়ে ঘেরা বাসভূমি, যেখানে কারিগর ও ব্যবসায়ী সংঘের তৈরি আইন ও নিয়মকানুন বলবত্ থাকতো।’ গ্রামীণ এলাকায় নগরায়নের ক্ষেত্রে যে দশটি নিয়ামকের তথ্য গর্ডন চাইল্ড ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তাতেও একই মত সমর্থন করে। উয়ারি-বটেশ্বর ছিল এই প্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠা একটি দুর্গনগর, নগর বা একটি নগর কেন্দ্র। আবিষ্কৃত প্রত্ন সামগ্রী বিশ্লেষণ করে ঐতিহাসিকরা বলছেন, উয়ারি-বটেশ্বর ছিল একাধারে একটি নগর ও সমৃদ্ধ বাণিজ্য কেন্দ্র।

সামপ্রতিক গবেষণায় একে ‘লৌহিত্য’ নামের সমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে অনুমান করা হচ্ছে। তবে তার অবস্থান ও বিস্তৃতি নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে। উয়ারি-বটেশ্বর গ্রাম দুটির বিশাল এলাকায় প্রাচীন বসতি ছিল; যা এর সীমানা ছাড়িয়ে বিস্তার লাভ করে পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোর দিকেও। রাইঙ্গারটেক, সোনারুতলা, কেন্দুয়া, মরজাল, চন্ডীপাড়া, পাটুলি, জয়মঙ্গল, হরিসাঙ্গন, যশোর, কুন্ডাপাড়া, গোদাশিয়া ও আব্দুল্লাহ নগরেও প্রাচীন বসতির চিহ্ন পাওয়া যায়। উয়ারি দুর্গনগরীর কাছাকাছি এ যাবত্ আবিষ্কৃত অর্ধশতাধিক প্রত্নতাত্ত্বিক স্পট থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রত্নবস্তুর দেখা মিলেছে। যা থেকে ধারণা করা হয়, এখানকার অধিবাসীরা ছিল কৃষিজীবী। উয়ারি-বটেশ্বরের অধিবাসীরা উন্নত প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত ছিল। তারা ধাতু গলিয়ে মুদ্রা তৈরি করার প্রযুক্তি জানত এবং পুঁতির সঙ্গে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে অলঙ্কার তৈরি করতে পারত। উত্তরাঞ্চলীয় কালো মসৃণ মৃত্পাত্রের সঙ্গে এ নগর সংস্কৃতির সম্পর্ক রয়েছে। এ মৃত্পাত্র তৈরি করার জন্য উন্নত ধরনের প্রযুক্তির প্রয়োজন ছিল।

প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষকরা বলছেন, উয়ারি ও বটেশ্বর দুই গ্রামের পুরো অংশের মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে আরও অনেক অনাবিষ্কৃত নিদর্শন। তবে অর্থের অভাবে পুরোদমে খনন কাজ চালানো যাচ্ছে না। উয়ারি-বটেশ্বরকে সম্পূর্ণভাবে জানতে প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি অর্থনৈতিক সহযোগিতা।

বটেশ্বর প্রত্ন সংগ্রহশালা ও গ্রন্থাগার:হানিফ পাঠান প্রতিষ্ঠা করেন এই পারিবারিক জাদুঘর। বর্তমানে পুত্র মো. হাবিবুল্লা পাঠান তার প্রত্নতত্ত্বের প্রতি মমতা দিয়ে আগলে রেখেছেন এই জাদুঘর। পিতা-পুত্রের যৌথ সাধনার ফসল এই ‘বটেশ্বর প্রত্ন সংগ্রহশালা ও গ্রন্থাগার’। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন এই জাদুঘর দেখতে এবং মো. হাবিবুল্লা পাঠানের সঙ্গে কথা বলতে আসেন। অশীতিপর বৃদ্ধ মো. হাবিবুল্লা পাঠান বয়সের বাধা ভুলে আগ্রহ নিয়ে দর্শনার্থীদের বলেন উয়ারি-বটেশ্বরের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং এর অতীত-বর্তমানের সম্ভাবনার গল্প। বটেশ্বর প্রত্ন সংগ্রহশালা ও গ্রন্থাগারে প্রাগৈতিহাসিক যুগের বিভিন্ন হাতিয়ারের মধ্যে রয়েছে তিনহাজার বছর আগের লৌহ কুঠার, চার-পাঁচহাজার বছর আগের নব্য প্রস্তর যুগের নিদর্শন, তিন-চার হাজার বছর আগের তাম্র প্রস্তর যুগের ব্রোঞ্জ বলয়, যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহূত পোড়া মাটির গোলক ইত্যাদি। আরও রয়েছে নানা বর্ণের পাথরের পুঁতি এবং খ্রিস্টপূর্ব সময়ের ছাপাঙ্কিত রৌপ্যমুদ্রা। বিভিন্ন সময়ে সংকলিত ঐতিহাসিক সাময়িকী ও স্মারক ছাড়াও রয়েছে কয়েক হাজার দুষ্প্রাপ্য বইয়ের সংগ্রহ।

প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উন্মুক্ত জাদুঘর :স্থায়ী সংরক্ষণের পূর্ব পর্যন্ত প্রত্নস্থানসমূহ অস্থায়ীভাবে মাটিচাপা দিয়েই ঢেকে রাখতে হয়। তাই সারা বছর অনেক দেশি-বিদেশি পর্যটক উয়ারি-বটেশ্বর পরিদর্শনে এসে কিছুই দেখতে পারেন না। একটা কাল্পনিক ধারণা নিয়েই ফিরে যেতে হয় তাদের। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পর্যটকদের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে বেলাব উপজেলার উয়ারিতে সোয়া ১ বিঘা জমিতে স্থায়ীভাবে ‘উয়ারি-বটেশ্বর দুর্গনগর উন্মুক্ত জাদুঘর’ প্রতিষ্ঠা করেছে প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা কেন্দ্র ‘ঐতিহ্য অন্বেষণ’। এখানে আসার পর দর্শনার্থীরা দেখতে পাবেন অনেক দুর্লভ সব নিদর্শন। গর্ত নিবাসে নেমে উপলব্ধি করতে পারবেন সেই সময়ের মানুষের জীবনযাপন। এই প্রাচীন নগর সভ্যতা সম্পর্কিত বিস্তারিত ধারণা পাবেন পোস্টার প্রদর্শনী দেখে। আর দর্শনার্থীদের জন্য প্রতি ঘণ্টায় দেখানো হচ্ছে উয়ারি-বটেশ্বর নিয়ে নির্মিত বিভিন্ন ডকুমেন্টারি। ‘ঐতিহ্য অন্বেষণ’ বলছে, এমন উন্মুক্ত জাদুঘর বাংলাদেশে তো অবশ্যই প্রথম, পৃথিবীর আর কোথাও আছে বলে জানা নাই।

যেভাবে যাবেন :ঢাকা থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরত্বে নরসিংদীর রায়পুরার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মরজাল বাসস্ট্যান্ডে নামতে হবে। সেখান থেকে সিএনজি অথবা রিকশাতে করে বটেশ্বর বাজার আসুন। তারপর রিকশায় করে উয়ারির ডাকবাংলোর কাছে নেমে একটু হেঁটেই দেখতে পাবেন উন্মুক্ত জাদুঘর। আর বটেশ্বর বাজারে যেকোনো রিকশাচালককে বলতে হবে, হাবিবুল্লা পাঠানের বাড়ি। সেখানেই রয়েছে ‘বটেশ্বর প্রত্ন সংগ্রহশালা ও গ্রন্থাগার’।

সূত্র: ইত্তেফাক ।