প্রতি আসনে একাধিক ডামি প্রার্থী দেবে বিএনপি

নিউজ ডেস্ক:  বিএনপি ২০ দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্টকে নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামার পর পরিস্থিতি এখনো তাদের অনুকূলে যায়নি। দলটির অভিযোগ, সারাদেশে গ্রেফতার অব্যাহত আছে। নির্বাচন কমিশনে তাদের দাবি-দাওয়া-অভিযোগ গুরুত্ব পাচ্ছে না। গত দেড় সপ্তাহে বিএনপির ৬ জন মনোনয়ন প্রার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আবু বকর আবু নামে একজন মনোনয়ন প্রার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। যাকে রবিবার রাতে নয়া পল্টন এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। দলের নেতারা বলছেন, নির্বাচন কমিশন সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে সব কিছু করছে এবং সামনে করবেও।

ইসি ঐক্যফ্রন্টের শক্তিশালী অনেক প্রার্থীর প্রার্থিতা নানা অজুহাতে বাতিল করতে পারে। নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রগুলোকে বিএনপির এজেন্ট শূন্য করতে সরকারকে সহযোগিতা করতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। মূল প্রার্থীর সাথে একাধিক ডামি প্রার্থী রাখা হবে। কোনো কারণ দেখিয়ে ধানের শীষের মূল প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হলে ডামি প্রার্থীদের মধ্য থেকে কাউকে দলের প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। তার পক্ষে মাঠে কাজ করবে বিএনপি।

এছাড়া দলের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, এবার ধানের শীষের প্রার্থী করা হবে সাহসী নেতাদের। যারা প্রতিপক্ষের সাথে মারদাঙ্গা করে হলেও টিকে থেকে বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারেন। এদিকে প্রার্থী চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে মানদণ্ড কি হচ্ছে এমন প্রশ্নে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নিঃসন্দেহে যার দলের প্রতি, গণতন্ত্রের প্রতি আনুগত্য বেশি থাকবে, যারা বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং প্রতিপক্ষের সঙ্গে ভোটে টিকে থাকার লড়াই করবে সেসব প্রার্থীরাই এখানে নমিনেশন পাবে।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, ক্ষমতাসীন দলের শত হুমকি ও বাধা উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে টিকে থেকে বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারে এমন মেধাবী ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থীদের বাছাই করছে বিএনপি। এবার ভোট শুধু ভোট নয়, এটা প্রতিপক্ষের সাথে লড়াই। আমাদের টিকে থাকার আন্দোলন।

স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, প্রতিপক্ষের হুমকি শক্ত হাতে মোকাবিলা করতে পারবে এমন প্রার্থীই বেছে নেয়া হবে। সাক্ষাত্কারে মনোনয়ন বোর্ড এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যে এটা স্পষ্ট যে, লড়াই করে টিকে থাকার মতো প্রার্থীকেই বাছাই করা হবে। নিজ নিজ এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সঙ্গে শক্তি সামর্থ্যে পেরে ওঠতে পারে এমন প্রার্থীদের গুরুত্ব দেয়া হবে।

এদিকে বিএনপির অভিযোগ, ইসির পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের উদ্দেশ্য হাসিল করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সুনির্দিষ্টভাবে বিএনপির সক্রিয় নেতাকর্মী ও মনোনয়ন প্রার্থীদের গ্রেফতার করছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, সরকারের প্রভাবশালী দু’টি গোয়েন্দা সংস্থা সারাদেশে ভোটকেন্দ্রের আশপাশের এলাকার নেতাকর্মীদের নাম, তাদের বিরুদ্ধে বিগত দিনের মামলা, বর্তমান অবস্থা, সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা, সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা, আনুমানিক বিরোধী জোটের ভোট, সরকারি দলের ভোট, বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের নাম, আর্থিক অবস্থা, সামাজিক অবস্থান, পেশীশক্তির ব্যবহারসহ নানা বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।