নিয়মিত হাটা ও শাকসবজি গ্রহণে পাইলস রোধ হয়

সুমন দত্ত: মানুষের জীবনে স্বাস্থ্য এক অমূল্য সম্পদ। তারপরও আমরা স্বাস্থ্য নিয়ে অবহেলা করি। ঠিক মত স্বাস্থ্যের যত্ন নেয়া হয় না। এতে নানা রোগে আক্রান্ত হই। তার মধ্যে পাইলস (অর্শ) রোগ অন্যতম। প্রতিদিন শাকসবজি, পানি ও ১ ঘণ্টা হাঁটলেই পাইলস রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। সব বয়সীদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ দেখা যায় তবে বাংলাদেশে ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে যাদের বয়স তারা পাইলস রোগে আক্রান্ত হোন বেশি।

২০ নভেম্বর বিশ্ব পাইলস দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে পাইলস রোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন বিশিষ্ট পাইলস, ফিস্টুলা, কোলন, রেক্টাম ক্যানসার ও পলিপ বিশেষজ্ঞ ডা. রাকিবুল আনোয়ার। তিনি ৩০ বছর ব্রিটেনের বিভিন্ন হাসপাতালে পাইলস রোগের চিকিৎসা দিয়েছেন ও দেশটির সেনাবাহিনীর মেডিকেল কোরের কোলরেক্টাল বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক। এদিন তার সঙ্গে ছিলেন বিএমএ সভাপতি ডা. জামাল উদ্দিন খলিফা।

ডা. রাকিবুল বলেন, পায়ু পথে রক্ত বেরিয়ে আসা পাইলস রোগের লক্ষণ। তবে রক্ত বেরিয়ে আসার মধ্যে কয়েকটি লক্ষণ আছে যা দেখে পাইলস রোগের ক্যাটাগরি নির্ণয় করা হয়। পাইলস দানাটি যদি ভিতরে থাকে রক্তক্ষরণ করতে থাকে তবে সেটি প্রথম স্তরের পাইলস, যদি রক্তে সাথে পাইলস দানা বেরিয়ে আবার ভিতরে চলে যায় তবে সেটি দ্বিতীয় স্তরের পাইলস। আর যদি রক্তক্ষরণের সঙ্গে পাইলস দানা বেরিয়ে আসা তাকে ঠেলে ঢুকাতে হয় তবে এটি তৃতীয় স্তরের পাইলস। আর যদি পাইলস দানা বেরিয়ে আসে ঠেলেও একে ভিতরে ঢোকানো না যায় তবে চতুর্থ স্তরের পাইলস। তৃতীয় ও চতুর্থ স্তরের পাইলস চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার করতে হয়। সার্জারি ছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ ক্যাটাগরির পাইলস ভালো হয় না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে পাইলসের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অল্প। আমরা যারা দেশে বিদেশে পাইলস চিকিৎসার প্রশিক্ষণ দেই তারা এদেশে এই কাজ করতে পারি না। বিভিন্ন দিক থেকে বাধা আসে। এক ধরনের অজ্ঞাত মাফিয়া সিন্ডিকেট কাজ করে। তা না হলে এতদিনে বহু পাইলস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরি করা যেত। এতে প্রতিবেশী দেশে গিয়ে ১৫ বিলিয়ন ডলার খরচ পড়ত না। সেটা উল্টো আরো কমে আসত।

উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ডা. রাকিবুল। অনেকের প্রশ্ন ছিল পাইলসের সার্জারি করার পরও সেটি আবার হয়েছে দেখা গেছে। কেন এমন হয়? এক্ষেত্রে করণীয় কি? উত্তরে তিনি বলেন, পাইলসের সার্জারি ঠিক মত না করার কারণে এমনটি হতে পারে। সার্জারি করার সময় যে জায়গায় স্টিচ (সেলাই) করা উচিত সেই জায়গায় না করলে আবার পাইলস হতে পারে। আরেকটি কারণ হচ্ছে, যে কারণে পাইলস হয় সে কারণ গুলি যদি অব্যাহত থাকে তবে পাইলস আবার হবে। যেমন আপনি প্রচুর পরিমাণে লাল মাংস খান, পোলাও বিরিয়ানি খান, হাটা চলা একদম না করেন, তবে আপনার পাইলস হতে পারে। বাংলাদেশে এক সময় বলা হতো মাছে ভাতে বাঙালি। এখন মাছে ভাতে না। এখন মাংসে ভাতে বাঙালি। যে কারণে এই রোগের প্রকোপ বেড়েছে।

পাইলস রোধে আমাদের লাইফ স্টাইল চেঞ্জ করতে হবে। প্রতিদিন কমপক্ষে ১ ঘণ্টা হাটতে হবে, খাবারের তালিকায় আশ যুক্ত খাবার মানে শাক সবজি বেশি পরিমাণে খেতে হবে। গরু-ছাগলের মাংস পুরোপুরি বাতিল করে দিতে হবে। কদাচিৎ খাওয়া যেতে পারে। আর পানি ৩ থেকে ৪ লিটার খেতে হবে প্রতিদিন। তাহলেই পাইলস থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

ডা. জামাল উদ্দিন খলিফা বলেন, পাইলস এমন একটি রোগ যাকে হিডেন ডিজিস বলে। লোকজন লজ্জায় এই রোগের কথা বলে না। ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এই রোগ প্রকাশ করতে বেশি লজ্জা পায়। আমি নিজে চিকিৎসা করতে গিয়ে দেখেছি কোনো কোনো নারী এই রোগের চিকিৎসার জন্য নারী চিকিৎসকের খোজ করেন। কিন্ত আমাদের দেশে এই রোগের নারী চিকিৎসক কম। তাই সচেতন হন এই রোগ সম্পর্কে। ৪০-৫০ বছর পর আমাদের শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন আসে। এজন্য খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হয়।

দেখা যায় যারা ভেজিটেরিয়ান তাদের এই রোগটা কম। আমাদের নতুন প্রজন্ম মাছই খেতে চায় না। তারা মাংসে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। এতে আগামী প্রজন্ম আরো বেশি সাফারার হবে। যারা ভেজিটেরিয়ান তাদের চামড়া কত সুন্দর থাকে। শরীর কত ফিট থাকে। দেখা যায় যারা শহরে থাকে তাদের পাইলস বেশি। আর যারা গ্রামে থাকে তাদের পাইলস কম। এর কারণ গ্রামের মানুষরা কায়িক শ্রম করে।

ডা.রকিবুল আনোয়ার গুলশান-২ এর আর এ স্পেলালাইজড হাসপাতালে পাইলসে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম