বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে ভোটের মাঠে একঝাঁক তারকা

নিউজ ডেস্কঃ ক্রীড়াজগৎ, সঙ্গীত, চলচ্চিত্র এবং নাট্যাঙ্গনের তারকারাও এবার অনেক বেশি তৎপর ভোটের মাঠে। ক্রিকেটের সুপার স্টার মাশরাফি বিন মুর্তজা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়ে সৃষ্টি করেছেন সবচেয়ে বড় চমক। সংখ্যায় আওয়ামী লীগের চেয়ে কম হলেও বিএনপির মনোনয়ন পেতেও প্রতিযোগিতায় নেমেছেন একঝাঁক তারকা।

জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক, জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী মনির খান, বেবী নাজনীন, কনকচাঁপা, চিত্রনায়ক হেলাল খান ও চিত্রনায়িকা শাহরিয়ার ইসলাম শায়লা এবার বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী। দলীয় মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন তারা। গায়ক আসিফ আকবর একসময় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য থাকলেও পরে ‘অভিমানে’ পদত্যাগ করেন। এখনও তিনি ফরম নেননি।

তারকা ফুটবলার আমিনুল হক বিএনপির ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক। তিনি ঢাকা-১৪ ও ঢাকা-১৬ আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। দুটি আসনের যে কোনো একটিতে দলের মনোনয়ন চান তারকা এই গোলরক্ষক। ভোটের অনানুষ্ঠানিক প্রচারও শুরু করেছেন তিনি। মিরপুর স্টেডিয়াম এলাকায় শোভা পাচ্ছে তার পোস্টার। ঢাকা-১৪ ও ঢাকা-১৬ আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে পরাজিত হন বিএনপির এস এ খালেক এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া।

আমিনুল বলেন, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে আগামী নির্বাচন করতে তাদের রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এরপরও হাইকমান্ডের নির্দেশে তিনি ঢাকার দুটি আসনের মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। তরুণ ভোটারদের প্রত্যাশা অনুযায়ী নবীন ও প্রবীণদের নিয়ে আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ নির্মাণে কাজ করতে চান তিনি।

সঙ্গীতশিল্পী মনির খান বিএনপির সংস্কৃতিবিষয়ক সহ-সম্পাদক। ঝিনাইদহ-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী তিনি। বড় সমাবেশ-জনসভায় গান গেয়ে দলের তৃণমূলেও পরিচিত তিনি। ঝিনাইদহ-৩ আসনে ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত টানা তিনবার জয়ী হন বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম মাস্টার। ২০০৮ সালে তিনি তৃতীয় হন। জামায়াতের প্রার্থী ছিলেন দ্বিতীয় স্থানে। জামায়াত এবার এ আসনে বিএনপি জোটের মনোনয়ন চায়। তবে মনির খান আশাবাদী, জোটের মনোনয়ন তিনিই পাবেন।

মনির খান বলেন, সঙ্গীত মানুষের জন্য, রাজনীতিও মানুষের জন্য। সঙ্গীতের জন্য মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন। তাই তিনি চান, জন্মস্থানের সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করতে। তবে এর জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম দরকার। জাতীয়তাবাদী আদর্শের কারণে তিনি বিএনপিতে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। মনোনয়ন পেলে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন।

জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী বেবী নাজনীন বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সহ-সম্পাদক। তিনি দলীয় মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন নীলফামারী-৪ আসনের (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ)। নব্বই-পরবর্তী ২০০১ সালের নির্বাচনে এ আসনে জয়ী হয়েছিল বিএনপি। এবার আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চান বেবী নাজনীন। এখানে দলীয় মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন সাবেক এমপি আমজাদ হোসেন সরকারও।

সিলেট-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে চান চিত্রনায়ক হেলাল খান। তিনি বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাধারণ সম্পাদক। বিএনপি এ আসনে অতীতে কখনও জয়ী হয়নি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আসনটি জামায়াতকে ছেড়ে দেয় বিএনপি। জয়ী হন আওয়ামী লীগের নূরুল ইসলাম নাহিদ। হেলাল খান আশাবাদী, দলের মনোনয়ন পেলে সিলেট-৬ আসনে প্রথমবারের মতো ধানের শীষকে জয়ী করতে পারবেন।

হেলাল খান বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করতে তিনি ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন থেকে দেশকে বাঁচাতে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধি হিসেবে জাতীয় সংসদে ভূমিকা পালন করতে চান তিনি। তিনি জানান, শখের বশে তিনি চলচ্চিত্র করেন, দেশের জনগণের সেবার জন্য রাজনীতি করেন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় তিনি সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাচ্ছেন। মনোনয়ন পেলে এ আসনটি বিএনপিকে উপহার দিতে পারবেন বলে বিশ্বাস করেন তিনি।

সিরাজগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির একতরফা নির্বাচন বাদে এ আসনেও নব্বই-পরবর্তী সময়ে কখনও জয়ী হতে পারেনি বিএনপি।

চিত্রনায়িকা শাহরিয়ার ইসলাম শায়লা বিএনপির মনোনয়ন চাইছেন ফরিদপুর-৪ আসন থেকে। তিনি বলেন, ১৯৯৮ সালে চিত্রজগতে আসার পর থেকেই তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে ২০১৪ সালের পর থেকে তিনি রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়ার পর প্রতিটি কর্মসূচিতেই তার অবস্থান সবার আগে। এ কারণে পুলিশি নির্যাতনেরও শিকার হয়েছেন। এলাকার রাজনীতিতেও সমান সক্রিয় তিনি। সপ্তাহের তিন দিন তিনি এলাকায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে দলীয় কার্যক্রম চালান। সমকালকে তিনি বলেন, দলের নেত্রী খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচনের প্রশ্নই আসে না। তাকে মুক্ত করে এবং তাকে নিয়ে যে নির্বাচন হবে, সে ভোটে তিনি মনোনয়নপ্রত্যাশী।