নির্বাচন কেন্দ্র করে আর সহিংসতা নয়

সুমন দত্ত: জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো সহিংসতা হতে দেয়া যাবে না। সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আর কোনো নির্বাচন পূর্ব কিংবা নির্বাচনোত্তর সহিংসতা নয়। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি হলে জাগো বাংলা ফাউন্ডেশন নামের একটি সংগঠনের সেমিনার থেকে এসব বলা হয়। সেমিনারের মূল বিষয় ছিল আসন্ন নির্বাচন ও জননিরাপত্তা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ খলিকুজ্জামন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক হারুনউর রশিদ চৌধুরী। মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সুভাষ সিংহ রায়, প্রেসক্লাবের সভাপতি মোল্লা জালাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকি, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির ভিসি ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী, ড. মাহাবুব মাহাতাব।

হারুন উর রশিদ বলেন, নির্বাচন কেন্দ্রিক সহিংসতার ইতিহাস রয়েছে এদেশে। সম্প্রতি একটি বিশেষ জোটের শীর্ষ নেতা নির্বাচন কমিশনে গিয়ে বলে এসেছেন নির্বাচনের পরে আপনি থাকবেন আমরাও থাকবো। আপনি স্ত্রী পরিবার নিয়ে দেশে থাকতে পারবেনতো তো। এমন ধরনের কথা এক ধরনের হুমকি। এমন আচরণ কাম্য নয় বলে তিনি জানান। আজ দেশে একটি অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে দেশের নেতৃত্ব সঠিক হাতে থাকায়।

ড. মাহাবুব মাহাতাব বলেন, আসুন আমরা ভোট দেই সম্প্রীতির জন্য। যাতে নির্বাচন কেন্দ্র করে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে এমন কোনো আলোচনা করতে না হয়। আমাদের সকলকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন,আমার ভোট আমি দেব যাকে খুশি তাকে দেব এমনটা নয়। বলতে হবে আমার ভোট আমি দেব স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে দেব।

প্রফেসর আবদুল মান্নান বলেন, নির্বাচনে নির্যাতিত হয় শ্রমজীবী মানুষ। আর শ্রমজীবী মানুষ নারী হলে তো এক ডিগ্রি বেশি নির্যাতিত হয়। ইতিমধ্যে আমরা দেখেছি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশদের বিশেষ নির্দেশনা পাঠিয়েছেন। তিনি বলেন, ২০০১ সালে লতিফুর রহমান সরকার ক্ষমতা নেয়ার পর আওয়ামী লীগের কোনো বুদ্ধিজীবী ঢাকায় বসার জায়গাটা পর্যন্ত পায়নি। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। আমি আমার বাসায় এই ব্যবস্থা করে দেই। এরই মধ্যে খবর এলো চট্টগ্রামে এক হিন্দু এলাকায় হামলা করেছে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর লোকজন। তখনকার আইজি ছিলেন নূরুল হুদা। তিনি এ ঘটনা শুনে বললেন করনীয় কিছু নেই। তবে আপনারা যখন বলেছেন আমরা তা দেখবো। এ থেকে এটা বোঝা যায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার যে আপনাকে নিরাপত্তা দেবে সেই নিশ্চয়তা নেই।

সুভাষ সিংহ রায় বলেন, খালেদা জিয়া এমন এক মহিলা যিনি আজ পর্যন্ত কোনো মন্দিরে যাননি। তিনি পাকিস্তানের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতির কারণে এ কাজ করেননি। আজ তার দল বলে ক্ষমতায় গেলে সংখ্যালঘুদের জন্য কমিশন করবে ও আলাদা মন্ত্রণালয় করবে ইত্যাদি। বাংলাদেশে এই খালেদার আমলেই হিন্দুরা ঘট পূজা করেছিল। কারণ তারা ছিল নির্যাতিত। এই নির্যাতনের প্রতিবাদ স্বরূপ তারা এ কাজ করে। বিএনপি জামাত মানেই মিথ্যাচার। এর মিথ্যা বলতে ওস্তাদ।