আ.লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ হারাতে পারবে না: শেখ হাসিনা

নিউজ ডেস্কঃ দলের নেতাকর্মীরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ আওয়ামী লীগকে হারাতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে গেলে তাদের উদ্দেশ্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এদিন আওয়ামী লীগের ৪ হাজার ২৩ জন মনোনয়নপ্রত্যাশীর সিংহভাগ দলের সভাপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান। তাদের উদ্দেশ্যে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে নানা দিক-নির্দেশনাও দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী সূত্রে প্রধানমন্ত্রীর এসব দিক-নির্দেশনার তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচনকে দলের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে এবং এই নির্বাচনকে কোনো অবস্থাতেই অবহেলার চোখে না দেখতে মনোনয়নপ্রত্যাশীসহ দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে। ক্ষমতায় আছেন, তাই এমনিতেই ক্ষমতায় চলে আসবেন— এমনটা ভাববেন না। জনগণের কাছে যেতে হবে, তাদের মনজয় করতে হবে। ঘরে ঘরে গিয়ে নৌকার পক্ষে ভোট চাইতে হবে। কোনো রকম অবহেলা করলে ১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনের মতো হারতে হতে পারে। আর ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ আওয়ামী লীগকে হারাতে পারবে না।’

বিএনপি নির্বাচন থেকে সরেও দাঁড়াতে পারে— এমন আশঙ্কা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নির্বাচনের তারিখ পেছানোর দাবি করায় নির্বাচন কমিশন সেটাই করেছে। কিন্তু তারা আবারও নির্বাচন পেছানোর দাবি তুলেছে। এটার পেছনে নিশ্চয়ই কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে। তারা কখন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়, তারও ঠিক নেই। এর আগেও এটি করেছে। তাই সাবধান থাকবেন, বিএনপি যেন দেশের জন্য ক্ষতিকর কিছু করতে না পারে, আবারও জ্বালাও-পোড়াও করতে না পারে। নাশকতা ও সন্ত্রাসের চেষ্টা হলে প্রতিরোধ ও জনগণের পাশে থাকতে হবে।

নৌকা প্রতীকে যাকেই প্রার্থী করা হবে, দলীয় অনৈক্য ও দ্বন্দ্ব-কোন্দল ভুলে তার পক্ষেই কাজ করার জন্য সব মনোনয়নপ্রত্যাশীকে নির্দেশনা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এবার দলের মধ্যে প্রার্থী অনেক। কিন্তু আসন সংখ্যা সীমিত। একটি আসনে একজনকেই প্রার্থী করা যাবে, বাকিদের মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হবে না। তবে যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে, মতবিরোধ ভুলে বাকি সবাইকে তার পক্ষেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

এ সময় শেখ হাসিনা যাকেই প্রার্থী করা হোক না কেন, তা মেনে নিয়ে তার পক্ষেই কাজ করবেন কি-না, সেটিও জানতে চান দলীয় মনোয়নপ্রত্যাশীদের কাছে। সব মনোনয়নপ্রত্যাশী সমস্বরে দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে তাদের কাছে ওয়াদা চাওয়া হলে সবাই দুই হাত তুলে আশ্বস্তও করেন প্রধানমন্ত্রীকে।