আদালতে ব্যস্ত রেখে নির্বাচনে লেভেল প্লেইং ফিল্ড হবে না-খালেদা জিয়া

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আদালতের উদ্দেশে বলেছেন, আমাকে জেলে আর আমাদের নেতা-কর্মীদের আদালতে ব্যস্ত রেখে নির্বাচনে লেভেল প্লেইং ফিল্ড হবে না।

বুধবার নাইকো দুর্নীতির মামলায় দুদকের প্রসিকিউটর সময় আবেদনের বিরোধিতা করলে খালেদা জিয়া এ কথা বলেন।

এদিকে এদিন আদালতের কার্যক্রম শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদসহ চার জন আইনজীবী খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

বেলা ১১টা ৫৮মিনিটে খালেদা জিয়াকে ঢাকার পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে ভেতরে অস্থায়ী আদালতে হাজির করা হয়। তিনি আদালতে উপস্থিত হয়ে আদালতের পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পুলিশ চারপাশ দিয়ে তাকে ঘিরে থাকা বিষয়ে দুদকের প্রসিকিউটর মোশারফ হোসেন কাজলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

প্রসিকিউটর কাজল বলেন, এটা দেখার দায়িত্ব পুলিশ প্রশাসনের। তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবেন না। বিচারকের কাছেও খালেদা জিয়া একই অভিযোগ করে বলেন, ‘পুলিশ সিকিউরিটির অর্থ কি আমাকে ঘিরে রাখবে। এভাবে থাকলে আমি আইনজীবীদের দেখতে পারি না। আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতে পারি না। তারা (পুলিশ) তো আদালতের বাইরে থাকবে। আমার কাছে কেন থাকবে? আর এই ছোট্ট পরিসরের আদালতে কীভাবে আপনি (বিচারক) এ মামলার বিচার করবেন। আগের আদালতে বিচার করুন।’

খালেদা জিয়া বিচারকের উদ্দেশে বলেন, ‘দেশে তো আরো অনেক মামলা আছে। সেগুলোর তো স্বাভাবিক বিচার হচ্ছে। আমার মামলার মতো দ্রুত বিচার আর কোন মামলায় হয়েছে দেখাতে পারবেন?’

এরপর বিচারক বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে আমি কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারব না। তবে প্রসিকিউটরকে বলছি এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, আদালত যেহেতু বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরেছেন তাই, আজ মামলার কার্যক্রম মুলতবি করে দিন। আমাদের দলের নোমিনেশন বিক্রি চলছে। আমি একজন প্রার্থী। তাছাড়া আজ আমাকে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনে যেতে হবে। বিষয়টি নির্বাচনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ম্যাডামের (খালেদা জিয়) সঙ্গে দেখা করেছি, উনি বলেছেন, নির্বাচন করতে। নির্বাচন না হলে, আবার ২০১৪ সালের মতো অবস্থা হবে। তাই নির্বাচনের পর একটি তারিখ দিন।

এরপর সময় আবেদনের বিষয়ে প্রসিকিউটর কাজল বলেন, মনে হচ্ছে ওনারা মামলা করতে আসেন নাই। নির্বাচনের কথা বলতে এসেছেন। এই মামলার সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। আজ মামলায় চার্জ শুনানির জন্য আছে।

দুদক প্রসিকিউটরের জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, আমাকে জেলে এবং আমাদের নেতা-কর্মীদের আদালতে ব্যস্ত রেখে, প্রতিদিন আদালতে দৌড়ঝাঁপ করিয়ে নির্বাচনে লেভেল প্লেইং ফিল্ড হবে না। একদল বছর ভরে ক্ষমতায় থেকে নির্বাচনি প্রচারণা করছেন। আর আমাদের আদালতে ব্যস্ত রাখবেন। এখানে আমাদের আইনজীবীরা নির্বাচনের প্রার্থী। আবার প্রার্থী না হলেও নির্বাচনের জন্য তারা কাজ করবে। মামলা চললে কেউ আসতে পারবে না। আবার আইনজীবীও আসতে পারবে না। বিষয়টি বিবেচনায় নিবেন।

এরপর প্রসিকিউটর কাজল বলেন, মামলার সঙ্গে নির্বাচনের সম্পর্ক নেই। আপনি (খালেদা জিয়া) যেটা বলেছেন তা রাজনৈতিক বক্তব্য।

শুনানিকালে জামিনে থাকা আসামি মওদুদ আহমেদ ছাড়াও ব্যবসায়ী তারেক রহমানের বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, প্রাক্তন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একে এম মোশাররফ হোসেন ও প্রাক্তন সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে জামিনে থাকা আসামি ঢাকা ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া (সিলভার সেলিম) ও  জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন  ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম অনুপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া আসামি নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বাপেক্সের প্রাক্তন মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক পলাতক রয়েছেন।

শুনানিকালে খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবীর মধ্যে সানাউল্লাহ মিয়া, আমিনুল ইসলাম, আহমেদ আযম খান, খোরশেদ মিয়া আলম, জয়নুল আবেদীন মেজবাহ, জাকির হোসেন ভুইয়া, জিয়া উদ্দিন জিয়া, হান্নান ভূইয়া, নুরুজ্জামান তপন, হেলাল উদ্দিন, তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ ও জাহিদুল ইসলাম কোয়েলসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বেলা সোয়া ১টার দিকে বিচারক নেমে যাওয়ার পর খালেদা জিয়াকে আদালত কক্ষ থেকে বের করে পাশে একটি কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও আহমেদ আজম খান ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলেন।