মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা বিশেষ বিসিএস চায়

সুমন দত্ত: মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানরা ভালো নেই। তারা রাষ্ট্রের নানা সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। স্বাধীনতা বিরোধীদের অপপ্রচারের শিকার তারা। তাই অবহেলিত মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের চাকরির জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা চালুর আবেদন জানিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম ব্রিগেড।

রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সংগঠনের সভাপতি হাসান মাহমুদ রনি সরকারের কাছে এ দাবি করেন।

তিনি বলেন, এদেশে মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারের সম্মান এক হতে পারে না। রাজাকারদের তালিকা করে তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে। এরপর তা গরীব অসহায় ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে বিলিয়ে দিতে হবে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি কোটা বিরোধী আন্দোলন চালিয়েছে স্বাধীনতা বিরোধীরা। তারা মেধার বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এটা পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযুদ্ধে সন্তানরা সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পায় কম। প্রচার করা হয় সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা। বাস্তবে দেখা যায় কোটাতে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান নিয়োগ পেয়েছে ৫ থেকে ৬ শতাংশ। তাহলে বাকী ২৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের কোটা কারা পেল? সেটা জানার চেষ্টা করতে বলা হয়েছে সবাইকে।

আজ সারাদেশে ৩ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রয়েছে। তাদের অনেকে অবহেলিত। যোগ্যতা না থাকায় তারা কোনো চাকরিতে আবেদন করতে পারছে না। তাদেরকে সহায়তা করতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ১৯৭২ সালে জাতির জনক শেখ মুজিবর রহমান মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ কোটার ব্যবস্থা করেছিলেন এবং তার আইনি ভিত্তি দিয়েছিলেন। সংবিধানের ১৫০ অনুচ্ছেদের এই অনুমোদন দেয়া হয় এরপর ১০,২৭, ও ২৯(৩) অনুচ্ছেদে এ চাকরির বিষয়ে অনু সমর্থন রয়েছে। তাছাড়া উচ্চ আদালত কোটা বহাল রাখার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। তাই প্রজ্ঞাপন দিয়ে কোটা বাতিলের বিষয়টিতে আদালত অবমাননার বিষয়টি জড়িত রয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানদের অবস্থা উন্নতির জন্য চাকরিতে বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা নেবার আবেদন জানান তিনি। এই পরীক্ষায় তারাই অংশ নেবে যারা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। বছরে দুইবার এই পরীক্ষা নেয়া উচিত বলে তারা মনে করেন।

ঢাকানিউজ২৪.ডটকম