মণিরামপুরে সর্বপ্রথম ড্রাগন চাষী প্রদীপ

মোঃ মনোয়ার হোসেন, মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধিঃ বিদেশি ফল ‘ড্রাগন’ ইদানীং বাংলাদেশে বেশ পরিচিত। দেশের অনেক কৃষক ও শিক্ষিত যুবক বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ড্রাগন চাষ শুরু করেছে। তেমনই একজন কৃষক যশোরের মণিরামপুরের বাসুদেবপুর গ্রামের মৃত নির্মল বিশ্বাসের ছেলে প্রদীপ বিশ্বাস। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উপজেলার একমাত্র ড্রাগন চাষি তিনি। এই চাষে সফলতাও পেয়েছেন প্রদীপ। উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন তার ক্ষেত দেখতে আসছেন। তার দেখাদেখি অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন এই চাষে।
প্রতি কেজি ড্রাগন ফল ৩০০-৩৫০ টাকা দরে এবং ড্রাগনের চারা বিক্রি করে বছরে প্রায় লাখ টাকা উপার্জন করছেন প্রদীপ। নিজের ক্ষেতে উৎপাদিত ড্রাগন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও যশোরের একটি সুপারশপে বিক্রি করেন তিনি।
স্নাতক পাশ করে দীর্ঘ ১৮ বছর বিভিন্ন এনজিওতে কাজ করেছেন প্রদীপ বিশ্বাস। চাকরি ছেড়ে এসে ‘সাসটেইনেবল এগ্রিকালচার ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড লিংকেজেস’ (সফল) নামে এনজিও’র মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ড্রাগন চাষ শুরু করেন তিনি। ২০১৪ সালে এনজিও-টি ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিনামূল্যে ৫০টি ড্রাগনের চারা এনে দেয় প্রদীপকে। ছয় শতক পতিত জমিতে সেই চারাগুলো রোপণ করে স্বল্প পরিসরে এই চাষ শুরু করেন তিনি। ৫০টি চারার মধ্যে ১৩টি জীবিত থাকে। সেই চারাগুলো নিয়ে এগিয়ে যান প্রদীপ বিশ্বাস। বর্তমানে তার আট শতক জমিতে ৪২টি ফলবতী ড্রাগন গাছ রয়েছে।
প্রদীপের পাশাপাশি একই গ্রামের আরো ছয়জন চাষিকে ড্রাগনের চারা সরবরাহ করেছিল এনজিওটি। কিন্তু প্রদীপ ছাড়া বাকিরা কেউ চারাগুলো রক্ষা করতে পারেননি। উপজেলা কৃষি অফিসসহ সফল এনজিওর সহযোগিতায় তিনি আজ সফলতার মুখ দেখেছেন বলে জানান প্রদীপ।
প্রদীপ বিশ্বাস দৈনিক সকালের সময়কে জানান, ড্রাগন গাছের চারা লাগানোর দেড় বছরের মাথায় ফল আসা শুরু হয়। ২৮-৩০ দিনের মাথায় সেই ফল পেকে বিক্রির উপযোগী হয়। ৩-৫টি ফলের ওজন এককেজি। প্রতিকেজি ফলের বাজারদর ৩০০-৩৫০ টাকা।
প্রদীপ বলেন, ‘গত বছর ফল একটু কম ধরেছে। তখন ফল ছাড়াও ৪২ হাজার টাকার চারা বিক্রি করেছি। এই বছর ক্ষেত থেকে ফল ও চারা গাছ বিক্রি করে প্রায় ৭০ হাজার টাকা উপার্জন হয়েছে। সামনের বছর ফলন বাড়বে বলে আশা করি।’
তার অভিমত, ‘নিঃসন্দেহে ড্রাগন চাষ লাভজনক। একবার চারা লাগালে ১৮-২০ বছর ফল পাওয়া যায়। যেহেতু চারাগাছ রোপণের দেড়-দুই বছর পর ফল ধরে, সেই ক্ষেত্রে চাষিকে ধৈর্যশীল হতে হবে। এই চারার রোগবালাই নেই বললেই চলে। রাসায়নিক সার ছাড়াই বাড়িতে তৈরি জৈবসার ও বালাইনাশক জৈব স্প্রে (চুন ও তুঁতে মিশ্রিত) করে যতœব নিলেই ভালো ফলন পাওয়া যায়। ড্রাগন চাষের জমিতে আরেকটি সুবিধা হলো, গাছগুলো পিলার ও টায়ার দিয়ে ৫-৬ ফুট উচুঁতে উঠিয়ে দেওয়ায় ওই জমিতে বিভিন্ন প্রকার শাক-সবজির চাষ করা যায়। আমি নিজেই ড্রাগন চাষের জমিতে ব্রকলি, বেগুন, লাল শাক, পালংসহ বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষ করেছি। যা থেকে পরিবারের চাহিদা মেটানো ছাড়াও বাড়তি আয় হচ্ছে।’
উপসহকারী কৃষি অফিসার তুহিনকুমার বিশ্বাস বলেন, ‘উপজেলার একমাত্র বাণিজ্যিক ড্রাগন চাষি প্রদীপ বিশ্বাস। ড্রাগন চাষ করে তিনি সফলতা পেয়েছেন। আমরা তাকে পরামর্শসহ সার্বিক সহায়তা দিচ্ছি।’
ড্রাগন সুস্বাদু, পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ওষধি ফল। প্রচুর আয়রন ও মিনারেল তথা খনিজ পদার্থসমৃদ্ধ হওয়ায় গর্ভবতীসহ রক্তস্বল্পতায় ভোগা রোগীদের জন্য ফলটি অত্যন্ত কার্যকরী। তাছাড়া এই ফল মানুষের হার্ট ও রক্ত পরিষ্কার করতেও অধিক ফলপ্রসূ। ফলটি ভিনদেশি হলেও স্বাস্থ্যগত গুণাগুণ ও অধিক চাহিদাসম্পন্ন হওয়ায় আমাদের দেশে এটি বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছে।
মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হীরককুমার সরকার বলেন, ‘ড্রাগন ফল।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম/জাহিদ