ঠাকুরগাঁও বাসীর চাওয়া পুরন করলেন প্রধানমন্ত্রী

নবীন হাসান ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে ঠাকুরগাঁওবাসীর স্বপ্নের দাবি পুরণ হয়েছে আজ। শনিবার সকাল সাড়ে ৭ টায় ঠাকুরগাঁওয়ের উপর দিয়ে ঢাকা-পঞ্চগড়গামী ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন করা হয়।

ট্রেনের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাংসদ রমেশ চন্দ্র সেন এমপি। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামলীগের সাধারন সম্পাদক মুহা: সাদেক কুরাইশী, জেলা পুলিশ সুপার ঠাকুরগাঁও মো: মনিরুজ্জামান মনির, জেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক জুলফিকার আলী ভট্টু, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মোশারুল ইসলাম সরকার, যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলাম স্বপন, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল ওয়াফু তপু জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহাবুবুর রহমান রনি, সাধারন সম্পাদক সানোয়ার পারভেজ পুলক, সহ আ:লীগের অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতৃবৃন্দসহ ঠাকুরগাঁও জেলার প্রিন্ট ইলেক্ট্রিক ও অনলাইন মিডিয়ার সংবাদকর্মীবৃন্দ।অনুষ্ঠানটি সার্বিক সহযোগীতা ও পরিচালনা করেন,১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর একরামুদৌলা সাহেব।

পরে উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথি ট্রেনের বিভিন্ন কামরা পরিদর্শন করেন এবং যাত্রীদের সাথে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এদিকে আন্ত:নগর ট্রেন পাওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ের সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে ঠাকুরগাঁও রোড রেল স্টেশন চত্বরে। একাধিক মানুষ বলেন ঠাকুরগাঁওয়ের বহুল প্রত্যাশিত আন্ত:নগর ট্রেন পাওয়ায় তারা আনন্দিত। তাই এই ঐতিহাসিক দিনটির স্বাক্ষী হয়ে থাকার জন্য তারা এসেছেন। তারা বলেন চলতি বছরের গত ২৯ মার্চ ঐতিহাসিক জনসভায় বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্ত:নগর ট্রেনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সরকারের স্বদিচ্ছার কারনেই ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ আন্ত:নগর ট্রেনের সুফল ভোগ করতে পারবেন। এ জন্য তারা সরকারের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ঠাকুরগাঁও রোডবাসী আব্দুল মতিন বাহার জানান, বহুল প্রত্যাশিত আন্ত:নগর ট্রেন পাওয়ায় আমি অনেক আনন্দিত। আজকের দিনটি আমার জীবনে ঐতিহাসিক দিন হিসেবে স্মরনীয় হয়ে থাকবে।

জানা গেছে, দ্রুতযান ট্রেনটি পঞ্চগড় রেলস্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবে প্রতিদিন সকাল সাতটা ২০ মিনিটে। ১০ ঘণ্টা ৫০ মিনিট পর ট্রেনটি ঢাকায় পৌঁছাবে সন্ধ্যা ছয়টা ১০ মিনিটে। ঢাকা থেকে ট্রেনটি ছাড়বে প্রতিদিন রাত আটটায় এবং পঞ্চগড় পৌঁছাবে সকাল ছয়টা ৩৫ মিনিটে। একতা এক্সপ্রেস পঞ্চগড় থেকে ছাড়বে প্রতিদিন রাত নয়টা। ট্রেনটি ঢাকায় পৌঁছাবে পরদিন সকাল আটটা ১০ মিনিটে। ঢাকা থেকে একতা এক্সপ্রেস ছাড়বে প্রতিদিন সকাল ১০টায় এবং পঞ্চগড় পৌঁছাবে রাত পৌনে ৯টায়।

দ্রুতযান ও একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের বগি সংখ্যা মোট ১৩টি। প্রায় ১২০০ যাত্রী বহন করতে পারবে। দ্রুতযান ও একতায় প্রতিটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বার্থের ভাড়া ১ হাজার ৯৪২ টাকা, এসি চেয়ারের ভাড়া ১ হাজার ৫৩ টাকা, নন এসি বার্থের ভাড়া ১ হাজার ১৪৫ টাকা ও শোভন চেয়ারের ভাড়া ৫৫০ টাকা।

৯৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে রেল মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২০১০ সালের অক্টোবরে মিটারগেজ রেলপথকে আধুনিকায়ন ও ডুয়েল গেজে রূপান্তরিত করতে তমা কনস্ট্রাকশন ও ম্যাক্স কনস্ট্রাকশন নামে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে। দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর থেকে ঠাকুরগাঁও হয়ে পঞ্চগড় পর্যন্ত ১৫০ কিলোমিটারের এ রেললাইনের নির্মাণ কাজ করা হয়।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম/জাহিদ