সরকারের প্রতিশ্রুতি, গ্যারান্টি কি যে মানবে

সুমন দত্ত:  
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে। আর এতেই খুশি সরকারি দল আওয়ামী লীগ। রাস্তায় আনন্দ মিছিল। এই যদি হয় অবস্থা, তাহলে ফল ঘোষণার দিন কি হবে? সেটা না হয়, এখন আর ভাবলাম না। 
 
শাসক আওয়ামী লীগ এখন যে অবস্থায় রয়েছে, তাদের ঠেকায় কে? তাদের ইচ্ছা মতো সব হচ্ছে। বাংলাদেশে কে শান্তিতে থাকবে, সেটা এখন নির্ভর করে শেখ হাসিনার ওপর। কে মাদক বিক্রি করবে, আর কে মাদক বিক্রির অভিযোগে ক্রসফায়ারে গুলি খেয়ে মরবে সেটাও কে জানি ঠিক করে দেয়। 
 
তাইতো দেখায় যায় মাদকের বিরুদ্ধে ঘোষণা দিয়ে অভিযান চালিয়েও একে বন্ধ করা যাচ্ছে না। মাদকসেবীর সংখ্যা দ্রুত বেড়েই চলছে। পুলিশকে যত বেশি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হবে, তত বেশি এই শ্রেণি অপরাধে জড়িয়ে পড়বে। 
 
নির্বাচনে এই পুলিশ কতটা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে সেটা এক বিরাট প্রশ্ন। সূত্রমতে নির্বাচনে গোয়েন্দা পুলিশকে মাঠে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। এদের কাজ তথ্য সংগ্রহ করা। স্কুলের শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের বায়োডাটা সংগ্রহ করতে হবে। খবর নিতে হবে কারা সরকার পক্ষের? কারা বিপক্ষের? নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা এক শিক্ষকের কাছ থেকে এসব জানা গেল। এদিকে সরকার ও নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দিয়েছে তারা শতভাগ নিরপেক্ষ হয়ে কাজ করবে। 
 
সংলাপে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর অধিকাংশ দাবি সরকার মেনে নিয়েছে। তাই যদি হয়, তবে তার প্রতিফলন কোথায়? মুখে যা বলা হচ্ছে, তা যে পালন করা হবে, সেটার গ্যারান্টি কি? এই বাংলাদেশে মুখে বলা কথার উল্টা প্রতিপালন হতে দেখা গেছে।
 
 সর্বোচ্চ আদালতের মুখে বলা রায়ও পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশে পালটিয়ে দেয়া হয়েছে। নির্বাচনে যে তা করা হবে না সেটার নিশ্চয়তা কি? এতদিন শেখ হাসিনা ও কাদের সাহেবরা নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের কথা বলে এসেছেন। এখন নিজেদের কথা পাল্টিয়ে বলছেন এটাই নির্বাচনকালীন সরকার। এমন ধাপ্পা আপনাদের মত লোকরাই দিতে পারে। আপনারা যে কত বড় বাটপার তা ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে।
 
চুরি করে নির্বাচনে হয়ত জিততে পারবেন। কিন্তু জনগণের মনে স্থান পাবেন না। খাম্বা চোরদের প্রতি জনগণ সহানুভূতিশীল হয়ে উঠবে। এটা আপনাদের মাথায় আসছে না। তাই এখনো সময় আছে। রাজনৈতিক দলগুলো যেসব দাবি করছে, তা পূরুন করুন। সত্যিকার অর্থে একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করুন। এতেই সবার মঙ্গল। সেই নির্বাচনে হারলেও লোকজন আপনাদের শ্রদ্ধা করবে সম্মান করবে। পরবর্তীতে এই জনগণই আবার আপনাদের ক্ষমতা নিয়ে যাবে। এই বিশ্বাসটা ধরে রাখার চেষ্টা করুন।