তবুও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সমঝোতার আশায়

নিউজ ডেস্কঃ নির্বাচন পেছানোর আহ্বানে সাড়া না দিয়ে তফসিল ঘোষণা করায় ক্ষুব্ধ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এই তফসিলের মাধ্যমে একতরফা নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা।

তারা বলছেন, এটা সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ছাড়া আর কিছুই নয়। এরপরও ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা করবেন জোটের নেতারা। একইসঙ্গে তাদের আন্দোলন-কর্মসূচিও চলবে। সরকার ও নির্বাচন কমিশন তাদের অবস্থানে অনড় থাকলে কঠোর আন্দোলনে যাবে ঐক্যফ্রন্ট।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার রাতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা এসব কথা বলেন।

২০ দলীয় জোটের বৈঠক শেষে ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এ তফসিলে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। নির্বাচন কমিশন একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তফসিল ঘোষণা করেছে। এতে সরকারের ইচ্ছারই প্রতিফলন ঘটেছে। এই তফসিল ঘোষণার ব্যাপারে ঐক্যফ্রন্টের বক্তব্য একেবারে পরিস্কার- জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠান এ দেশের জনগণ গ্রহণ করবে না।

মির্জা ফখরুল বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে গিয়েছিল। সেখানে ইসিকে তফসিল পিছিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। সে আহ্বানে সাড়া দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটি, ২০ দলীয় জোট এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক শেষে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন এক বিবৃতিতে বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও সরকার যখন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সংলাপ অনুষ্ঠান এবং আলাপ-আলোচনা চালাচ্ছে, তখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করে তার নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন।

জেএসডি নেতারা বলেন, এই তফসিলে ১৯ নভেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি ছুটি বাদ দিলে এক সপ্তাহের মধ্যে দলগুলোকে মনোনয়ন আহ্বান, প্রার্থী বাছাই ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে এ সময়ের মধ্যে জমা দেওয়া একটি দুঃসাধ্য ব্যাপার। তাই প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে যে কোনো মূল্যে এ তফসিল পেছাতে হবে।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, তারা সংলাপের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেহায়েতই দলীয় স্বার্থে তা আমলে নেয়নি। এরপরও তিনি মনে করেন, এখনও সংলাপ শেষ হয়ে যায়নি।

তিনি বলেন, আগেও তফসিল পেছানো হয়েছে। তারা আন্দোলনের পাশাপাশি আলাপ-আলোচনার দরজাও খোলা রাখতে চান। সরকারের প্রতি অনুরোধ থাকবে সমাধানে আসেন, না হলে দেশ একটি বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে পড়তে পারে। এর দায়ভার সরকারকে বহন করতে হবে।

নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রার সিদ্ধান্ত: সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপের পর ঐক্যফ্রন্টের নেতারা আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠক না করলেও নিজেদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। সাত দফা দাবি নিয়ে সরকারের অনমনীয় মনোভাব নিয়ে তারা আলোচনা করছেন। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে নতুন কর্মসূচি নিয়েও কথা বলেন শীর্ষ নেতারা। ঐক্যফ্রন্টের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রার বিষয়েও তারা সিদ্ধান্ত নেন। আগামী রোববার তারা নির্বাচন কমিশনের দিকে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করবেন বলে সূত্র জানিয়েছে। এরপরও সরকার কোনো পদক্ষেপ না নিলে পর্যায়ক্রমে কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন বলে ঐক্যফ্রন্টের একজন নেতা জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নেতা বলেন, সরকারের সঙ্গে তাদের সংলাপে যে সাত দফা দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে বেশ কয়েকটি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করেছিলেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার, গ্রেফতার না করা এবং সভা-সমাবেশে বাধা না দেওয়ার বিষয়টি ছিল। কিন্তু সংলাপের দিন বিকেল থেকে সারাদেশে সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল থেকে কারাগারে নেওয়া হয়, যা উদ্দেশ্যমূলক। বিরোধী দলকে চাপে রাখার কৌশলের অংশ হিসেবে সরকার এটা করছে বলে মনে করছেন তারা।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম/জাহিদ