“নারী এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে” : ড. আতিউর রহমান

“বাংলাদেশ নারীর ক্ষমতায়ন বাড়ছে। অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক উদ্যোগ এবং কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ আরো বাড়ানোর প্রয়োজনে নীতিনির্ধারকদের বাড়তি মনোযোগ দরকার।” গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তেন একশন এইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি আয়োজিত ‘ন্যাশনাল ডিবেট ক্যাম্পেইন-২০১৮’ এর সমাপনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং উন্নয়ন সমন্বয়ের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরিন।

ড. আতিউর রহমান আরো বলেন যে শুধু অর্থনৈতিক কর্মকা-ই নয়, শিক্ষা, দীক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি অঙ্গনে নারীর অংশগ্রহণ দ্রুতই বাড়ছে। আমাদের ঐতিহ্য বিনির্মাণে, বিশেষ করে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে, নারীর অবিস্মরণীয় ভূমিকা স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। বাংলাদেশের সমকালীন চোখ ধাঁধানো উন্নয়ন অভিযাত্রাতেও উদ্যোক্তা ও আনুষ্ঠানিক কর্মী হিসেবে নারীর অংশগ্রহণ এক কথায় অনন্য। তাদের অবদান দিন দিনই দৃশ্যমান হচ্ছে বলেই জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান পুরো এশিয়ায় চোখে পড়ার মতো। রাজনীতিতেও নারীর অবস্থান দিন দিনই সুদৃঢ় হচ্ছে। এতো কিছু সত্ত্বেও অর্থনীতিতে, বিশেষ করে জাতীয় আয়ের হিসাব করার ক্ষেত্রে নারীর অবদান পুরোপুরি উঠে আসছে না। নারীকে ঘরে ও বাইরে একযোগে কাজ করতে হচ্ছে। কিন্তু ঘরের কাজের অবদান জিডিপি মাপার হিসাবে পূর্ণাঙ্গ ভাবে আসছে না। এজন্যে যারা হিসাব করছেন তাদের এবং পুরো সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির (‘মাইন্ডসেট’) পরিবর্তন অপরিহার্য।

তবে আশার কথা এতো সব বাঁধা ডিঙ্গিয়ে নারী এগিয়ে যাচ্ছে। এর সূত্র ধরে ড. আতিউর বলেন যে, এভারেস্ট বিজয়, রাইড-শেয়ারিং, ই-কমার্সসহ নানা উদ্যোগে নারীর অংশগ্রহণের ফলে সমাজের মানও বদলাচ্ছে। তবে এখনো আরো অনেক দূর হাঁটতে হবে একসঙ্গে।

রবীন্দ্রনাথ যথার্থই বলেছিলেন যে ‘মাতা বা গৃহিণীর বিশেষ মোড়কেই তাদের পরিচয় সীমাবদ্ধ নয়।’ নতুন যুগে ‘ঘরের মেয়েরা বিশ্বের মেয়ে হয়ে দেখা দিচ্ছে’ বলে রবীন্দ্রনাথ আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। তাঁর সেই আশার ক্ষেত্র আরো বিস্তৃত হোক। আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো নারীর ক্ষমতায়ন ও তাদের কাজের মূল্যায়ন আরো ভালোভাবে তুলে ধরুক সেই প্রত্যাশাই করছি।