প্রচেষ্টা হোক আন্তরিক

হাসান আজিজুল হক:  পুঁজিতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামোয় গণমানুষের দাঁড়ানোর জায়গা কোথায়, এ নিয়ে বহু বিতর্ক আছে। সাম্যবাদী সমাজ ব্যবস্থার যে স্বপ্ন আমরা দেখি, যথার্থ গণতন্ত্র সেই সমাজ কাঠামো তৈরির অন্যতম প্রক্রিয়া। বাংলাদেশের বাস্তবতায় সংঘাত-হানাহানি রাজনীতির প্রধান অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে বহুকাল।

ক্রমবর্ধমান রেষারেষির কালে গণমানুষের দাঁড়ানোর জায়গা আসলেই খুব কম। এই বাস্তবতায় নির্বাচনের প্রাক্কালে বিবদমান পক্ষগুলো সংলাপে বসছে, এটি অবশ্যই শুভলক্ষণ।

কেবল অন্ধ হয়ে নিজের পায়ের নিচের মাটি আঁকড়ে রাখা সভ্যতা নয়। একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কোনো দিনই আধুনিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করতে পারে না। পারস্পরিক সহাবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হলে সংলাপ ভিন্ন আর কোনো উপায় আমাদের জানা নেই। এটা স্বস্তিকর যে, সংলাপ হতে যাচ্ছে। আশা করব, সকল পক্ষই গণমানুষকে প্রাধান্য দেবেন। মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো এ দেশে আজও নিশ্চিত নয়। বহুবিচিত্র ছলে-কৌশলে ছিন্নভিন্ন হচ্ছে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা; মৌলিক অধিকার।

অধিকারসমূহ নিশ্চিত করা রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব। আর রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনের মাধ্যমে এই দায়িত্ব প্রদান করে গণমানুষ। নির্বাচন যদি অবাধ-সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ হয়, তাহলে গণমানুষের কাছে রাজনৈতিক দলগুলোর একটা জবাবদিহি থাকে। কাজেই সংবিধানের মধ্যে থেকে, গণমানুষকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো এমন একটা অবস্থানে পৌঁছুবে যে- যাতে সকল মানুষের অধিকার নিশ্চিত হয়, সকল দল, মত, ধর্ম ও শ্রেণির মানুষ তার স্বকীয়তা নিয়ে, তার বহু বৈচিত্র্য নিয়ে সমাজে প্রত্যেকে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে।

এ রকম একটি সংলাপমুখর প্রাণবন্ত পরিস্থিতি তৈরি করবার কৃতিত্ব আমি দিতে চাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে। আমার বিশ্বাস, এই প্রচেষ্টা আন্তরিক। এবং আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমরা পরস্পরের মতের প্রতি সহিষ্ণু আচরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ স্থিতিশীল সমাজ তৈরিতে আরও এগিয়ে যাব- এই শুভকামনা জানাই।