ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি তে বাংলাদেশ ইয়ুথ সিম্পোজিয়াম-২০১৮ অনুষ্ঠিত

অনেকেই এ বিষয়ে একমত যে, শিক্ষা জীবনেই কর্মসংস্থানের চিন্তা অনেক তরুণকে সৃজনশীল
হতে দেয় না। তবে তরুণরাই যদি সৃজনশীল উপায়ে সামাজিক সমস্যা সমাধান করতে পারে তবে কর্মসংস্থানের
দু:শ্চিন্তা আর তাদের করতে হবে না। প্রতিপাদ্য বিষয়টিই অত্যন্ত সুস্পষ্ট ভাবে উঠে আসে ড্যাফোডিল
ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি প্রাঙ্গনে আয়োজিত “বাংলাদেশ ইয়ুথ সিম্পোজিয়াম-২০১৮” এর কর্মশালাতে। গত
৩০শে অক্টোবর “ইয়ুথ স্কুল ফর সোশ্যাল এন্ট্রেপ্রেনিউর” (ওয়াই.এস.এস.ই) এবং “স্যোসাল বিজনেস স্টুডেন্টস
ফোরাম”(এস.বি.এস.এফ)- এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়। শিক্ষা জীবন শেষ হওয়ার আগেই ছাত্র-
ছাত্রীরা কিভাবে নিজেদেরকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে পারে সে বিষয়ে সকল শিক্ষার্থীকে অবগত করতে এই
যুব ও উদ্যোক্তা বান্ধব কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

এস.বি.এ.সএফ এর সম্মানিত আহব্বায়ক ও ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি-এর জেষ্ঠ্য প্রভাষক জনাব মো: কামারুজ্জামান দিদারের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে সার্বিক ভাবে অনুষ্ঠানের পর্দা উন্মোচিত হয়। উদ্যোক্তাদের মধ্যে মানসিক শক্তি সঞ্চারিত করতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ব্যবসায় ও উদ্যোক্তা অনুষদের মাননীয় ডিন জনাব ড. মোহাম্মদ মাসুম ইকবাল। এরপরই ওয়াই,এস.এ.ই-এর লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, কার্যবলী নিয়ে সকলের সামনে উপস্থিত হন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি শেখ মোহাম্মদ ইউসুফ হোসেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন পল্লী কর্ম সহায়ক ফউন্ডেশন ও ঢাকা স্কুল অব ইকোনোমিক্স-এর চেয়্যারম্যান কাজী খলিকুজ্জামান আহমেদ।

দেশের তরুণ ও তরুণী উদ্যোক্তাদেরকে নারী ও গ্রাম ভিত্তিক বিজনেস আইডিয়া নিয়ে কাজ করতে তিনি উৎসাহিত করেন। সমস্যায় জর্জরিত দেশের একটা বড় অংশ এখনও সৃজনশীল উদ্যোক্তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারেনি। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন এডওয়ার্ড এম কেনেডি সেন্টার-এর পরিচালক জনাব নাভিদ আকবর। তরুণ বয়সকেই তিনি টেকসই ব্যবসা ধারণার পাইলট প্রকল্প প্রণয়নের যথোপযুক্ত সময় বলে মনে করেন। আত্মকর্মসংস্থানের অবস্থানকে তিনি বড় পরিসরে তুলে ধরেন। অপরদিকে দেশে ও বিদেশে তরুণদের উদ্ভাবনী ক্ষেত্রে সাফল্য বেশ আশার আলো জাগিয়েছে বলে মনে করেন।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি লিড-এর প্রেসিডিন্সট ও কুইন্স ইয়াং লিডার্স-এর উপদেষ্টা জনাব আশফাক জামান। ইন্টারন্যাশনাল কনসিউমার প্রোডাক্টস বাংলাদেশ লিমিটেড-এর মার্কেটিং এন্ড কমিউনিকেশন প্রধান সুরাইয়া সিদ্দিকা নতুন পণ্যের বাজারজাত করণের সুপরিকল্পিত উপায়গুলো তুলে ধরেন। সৌহাদ্য-এর প্রতিষ্ঠাতা, সোশ্যাল বিজনের ক্রিয়েশন রিজিওন ২০১৮ এর ২য় রানার্স আপ দলের সদস্য, জোবায়ের খান শিক্ষার্থী হতে উদ্যোক্তা হওয়ার সংগ্রামী ও বণার্ঢ্য যাত্রা তুলে ধরেন।

সেবা.এক্সওয়াইজেড- এর কো-ফাউন্ডার জনাব ইলমুল হক সজীব তাদের সফল স্টার্টআপ এর পিছনের কাহিনী সবার সামনে উন্মোচন করেন। সফল উদ্যোক্তাদের সাফল্যগাথাঁর ভীড়ে আরো একজন নিজের কাহিনী তুলে ধরেন। তিনি হলে উইক্রিয়েট লিমিটেড এর প্রধান নির্বাহী জনাব গুলাম সামদানি। এরপরই ক্যারিয়ার গ্রুমিং সেশন পরিচালনা করে সুবেক্স লিমিটেড এর ব্যবসায় পরামশ বিভাগের পরিচালক দিপাল এ. জেইন। অনুষ্ঠানের শেষের দিকে সামাজিক উদ্যোক্তা হওয়ার ৬টি কৌশল সম্পর্কে আলোচনা করেন সামাজিক ব্যবসায়ের আন্তর্জাতিক সক্রিয় কর্মী ও এস.বি.এস.এফ এর উপদেষ্টা কাজী মেজবাউর রহমান।
এস.বি.এস.এফ-এর সভাপতি ভাস্কর সরকার এবং ওয়াই.এস.এস.ই-এর সভাপতি শেখ মুহাম্মদ ইউসুফ হোসেনের
সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে “বাংলাদেশ ইয়ুথ সিম্পোজিয়াম-২০১৮” এর
পর্দা নামে। ওয়াই.এস.এস.ই এর পরবর্তী আয়োজনে ( বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে) সবাই সহযোগিতা কামনা
করেন ইউসুফ হোসেন।