সংলাপের খবরে চাঙ্গা শেয়ারবাজার

নিউজ ডেস্ক:   জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংলাপে যেতে রাজি হয়েছে এ খবরটি শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ধারাবাহিক পতনের পরে একদিনেই শেয়ারবাজার চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সংলাপের খবরে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের মাঝে আশার সঞ্চার হয়েছে। যার প্রভাব বাজারে স্পষ্টই দেখা গেছে। অন্যদিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কৌশলগত বিনিয়োগকারী দুই চীনা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাওয়া টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের শর্তে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স ছাড় দিয়েছে। একইসঙ্গে ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) বন্ড বিক্রি করে বিনিয়োগ শুরু করেছে এমন গুঞ্জনও দেশের শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়ানোয় বড় ভূমিকা রেখেছে।

অন্যদিকে, সামাজিক মাধ্যম ও মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে শেয়ারবাজার নিয়ে বিভিন্ন গুজব ছড়ানো বেশ পুরনো রীতি। বিভিন্ন সময় বিশেষ করে বাজার যখনই কিছুটা ইতিবাচক ধারায় যায়, তখনই একটি সংঘবদ্ধ চক্র মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। তারা বিভিন্নভাবে গুজব ছড়িয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করে। কখনো তারা চেষ্টা করে দাম বাড়াতে আবার কখনো কমাতে। দ্রুত মুনাফার আশায় অনেক বিনিয়োগকারী এসব গুজবে কান দেয়। দিনশেষে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক এবং শেয়ারবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ বলেন, সংলাপের খবরই শেয়ারবাজার উত্থানের জন্য মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। এটা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে যে, এতে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন হবে। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়ে সরকার গঠন হলে তখন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এ বাজারে বিনিয়োগ করবেন, একই সঙ্গে দেশীয় বিনিয়োগকারীরাও উত্সাহিত হবেন। অন্যদিকে গুজবের কারণে শেয়ারবাজারে পতন হতে পারে। সেটা ভালো বাজারেও হতে পারে। সেক্ষেত্রে পুরো বাজারের ওপর প্রভাব না পড়ে তা কোম্পানি ভিত্তিক হয় বলে তিনি মনে করেন।

শেয়ারবাজার দ্রুত ওঠানামার বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাজেদুর রহমান বলেন, এখনো আমাদের বাজারের সাইজ ছোট। ফলে অল্প উঠানামা করলেই তা চোখে পড়ে। বাজারের সাইজ যখন বড় হয়ে যাবে তখন এ বিষয়গুলো আমাদের মাথাব্যথার কারণ হবে না।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর প্রেসিডেন্ট মোশতাক আহমেদ সাদেক বলেন, ওঠানামা বাজারের ধর্ম। তবে গত কয়েকদিন কোনো কারণ ছাড়াই বাজার পড়ে গেছে। রাজনৈতিকভাবে ভালো খবর এবং আইসিবির বন্ড বিক্রির খবর বিনিয়োগকারীদের আশাবাদী করায় বাজার ভালো হয়েছে। গুজবের বিষয়ে তিনি বলেন, যেকোন গুজবই বাজারের জন্য খারাপ। তাই আমরা চেষ্টা করছি বিনিয়োগকারীরা যাতে ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি (আর্থিক জ্ঞান) ভালোভাবে পায়। সেজন্য নানান উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজার সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান রাখলে তখন তারা আর গুজবের পেছনে না দৌড়ে বুঝে বিনিয়োগ করবেন।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক সিএসসিএক্স ১০৯ পয়েন্ট বেড়ে ৯ হাজার ৮৩৯ পয়েন্ট হয়েছে। বাজারটিতে মোট ২৪০টি প্রতিষ্ঠানের ৩০ কোটি ১৩ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৬৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দাম বেড়েছে। কমেছে ৪৭টির। আর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ২৫টির।