একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষণগণনা শুরু

নিউজ ডেস্ক:  দেশজুড়ে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী আমেজ। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নানামুখী প্রচারে এখন মুখর প্রত্যন্ত জনপদ। আরেকটি ভোটের আয়োজনে ব্যস্ততা বাড়ছে নির্বাচন কমিশনেরও। এমনই এক আবহে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষণগণনা শুরু হচ্ছে আজ বুধবার থেকে। সংবিধান অনুযায়ী সংসদের পাঁচ বছরের মেয়াদ পূরণের আগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা জানিয়েছে ইসি। সে হিসেবে আজ থেকে ৯০ দিন গণনা শুরু হবে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত দশম সংসদের প্রথম বৈঠক বসেছিল ২৯ জানুয়ারি।

নির্বাচন আয়োজনে তৎপরতার অংশ হিসেবে ৩ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের সভা ডাকা হয়েছে। তার আগে ১ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে দেখা করতে বঙ্গভবনে যাবেন কমিশনের সদস্যরা। কমিশনের পক্ষ থেকে এর আগে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণার কথা জানানো হয়েছিল। তবে ৩ নভেম্বরের সভার কার্যতালিকায় তফসিলের বিষয়টি রাখা হয়নি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে সংলাপে কোনো সমঝোতা হলে সে বিষয়টিই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে করণীয় নির্ধারণ করতে চায় ইসি। এমনকি প্রয়োজন হলে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার থেকেও বিরত থাকবে তারা।

ইসি সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, এবারের কমিশন সভার কার্যতালিকায় দুটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রথমটি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংক্রান্ত বিধিমালা পর্যালোচনা এবং দ্বিতীয়টি সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, ৩ নভেম্বরের বৈঠকে সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে। আওয়ামী লীগ ও ঐক্যফ্রন্টের সংলাপ সম্পর্কে তিনি বলেন, এই সংলাপে কোনো সমঝোতা হলে ইসি আইনের মধ্য থেকে তা গ্রহণ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যদিও শতকরা ১০ ভাগ ভোটকেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহারের প্রস্তুতি ইসির রয়েছে। তবে রাজনৈতিক সমঝোতা হলে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত থেকে ইসি পিছু হটতে রাজি। অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, সংলাপের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখবে ইসি। সংলাপে সমঝোতা হলে পিছিয়ে যেতে পারে তফসিল ঘোষণাও। এ বিষয়ে ইসি কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, অতীতে তফসিল ঘোষণার পরও রাজনৈতিক দলের দাবির কারণে পিছিয়ে দেওয়ার নজির রয়েছে। সবকিছুই নির্ভর করছে সংলাপের ভবিষ্যতের ওপর।

নির্বাচন কমিশনার শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, ৩ নভেম্বর কমিশন সভায় তফসিল নিয়ে আলোচনা না হলে ৪ নভেম্বরও কমিশন বৈঠকে বসবে। তাই নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা না হওয়ার আপাতত কোনো কারণ নেই।

ইসি সচিবালয় অবশ্য তফসিল ঘোষণার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। আগামী সপ্তাহের যে কোনো দিন তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। সে হিসেবে ভোট হতে পারে ১৮ থেকে ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে. এম. নুরুল হুদার সভাপতিত্বে কমিশনের ৩ নভেম্বরের সভায় সংশোধিত আরপিও এবং বিধিমালা পর্যালোচনা ও সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে সংশোধিত আরপিওর তিনটি সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার, অনলাইনে মনোনয়ন দাখিল এবং ঋণখেলাপির শর্ত শিথিলের বিষয়টি রয়েছে। বিধিমালায় এ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যদিও এগুলো এখন পর্যন্ত আইনি ভিত্তি পায়নি। সংসদ অধিবেশন শেষ হওয়ায় আরপিওর সংশোধনীগুলো অধ্যাদেশ আকারে জারির মাধ্যমে আইনে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বৃহস্পতিবারের মধ্যেই এ-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি হবে বলে ইসির কর্মকর্তারা আশা করছেন।

তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭০০ কোটি টাকা। এরই মধ্যে অনেক নির্বাচন সামগ্রী ক্রয় করে গুদামজাত করা হয়েছে। অবশিষ্টগুলো দু-একদিনের মধ্যেই কেনা হবে।

তফসিল ঘোষণার অংশ হিসেবে আজ আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক ডেকেছে নির্বাচন কমিশন। জাতীয় নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা গ্রহণসহ ১১টি বিষয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। ইসি সচিবের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক ও জনপ্রশাসন, শিক্ষাসহ ২৩ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের মধ্যে এ বৈঠক হবে।

ইসির সর্বশেষ প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী বর্তমানে মোট ভোটার ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০ জন। এর মধ্যে পুরুষ পাঁচ কোটি ২৫ লাখ ৪৭ হাজার ৩২৯ ও নারী পাঁচ কোটি ১৬ লাখ ৪৩ হাজার ১৫১ জন। তবে তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত যারা ভোটার হবেন, তারাও ভোট দিতে পারবেন।