মানুষ পুড়িয়ে হত্যাকারীদের ছাড় দেয়া হবে না: জয়

নিউজ ডেস্ক:  একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং তাঁর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, ২০০৪ সালের একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার ৪/৫ বছর আগে বাংলাদেশে আসিনি। যখন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলা করে আইভী রহমানসহ আওয়ামী লীগের ২৪ জন নেতাকর্মীকে হত্যা ও তিনশ নেতাকর্মীকে আহত করা হলো, এরপর থেকে আমি রাজনীতিতে পা দিয়েছি এবং সেদিনই ওয়াদা করেছি যে, বিএনপি সরকারকে ক্ষমতা থেকে বের করবই করব। অনেক সময় লেগেছে। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার পেতে সময় লেগেছে ১৪ বছর।

আজ শনিবার বিকালে সুচিন্তা ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, কারণ আপনারা জানেন, আদালতে প্রকাশ হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ড চাপিয়ে দেয়ার ও মুছে ফেলার প্রচেষ্টা ছিল তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকারের। তখনকার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এই ষড়যন্ত্র দাবিয়ে দেয়ার সাথে জড়িত ছিলেন। তিনিই নিজেই এ হামলার হুকুম দিয়েছিলেন। নির্বাচনের কয়েকমাস আগে ড. কামাল হোসেন, মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ আরো কয়েকজন যাদের রাজনীতিতে কোনো পরিচয় নেই, তারা এখন ঐক্যফ্রন্ট করে বিএনপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন।

তিনি বলেন, ১/১১ সামরিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় প্রকাশিত হয়েছে যে গ্রেনেড হামলার সঙ্গে বিএনপি ও তারেক রহমান জড়িত। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে এটা প্রকাশ করেনি। তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে জড়িত ছিল এই কামাল হোসেন ও মইনুল হোসেনরা। সেসময় মইনুল ছিলেন ওই সরকারের আইন বিষয়ক উপদেষ্টা। একুশে আগস্টের মূলহোতা তারেক রহমানকে সেসময় সামরিক বাহিনী গ্রেপ্তার করলেও তাকে তখন পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে আজকের ঐক্যফ্রন্টের নেতা মইনুল হোসেন। আজকে তারা বিএনপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। এটাই প্রমাণিত হয় যে, তখন থেকেই তারা তারেক রহমানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বসে আছেন। তারাই সকল ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত।

তিনি আরো বলেন, বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট নালিশ করছে যে, সরকার তাদের নেতাদের গ্রেপ্তার করছে। মইনুলকে গ্রেপ্তার করায় তারা নালিশ করছে। আমি তাদের বলবো যে, তাদের শোকর করা উচিত। বিএনপি মাত্র ৫ বছরে আমাদের বহু নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া, আহসান উল্লাহ মাস্টারসহ আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে তারা গ্রেপ্তার করেছে। আওয়ামী লীগ বিএনপির মতো রাজনৈতিক দল নয়। বিএনপি যদি আমাদের মতো ১০ বছর ক্ষমতায় থাকত, তাহলে আওয়ামী লীগের কি একটি নেতাও বেঁচে থাকতো? থাকতো না। আজ তারা নালিশ করে যে আমরা গ্রেপ্তার করি। হ্যাঁ যারা মানুষ হত্যা করে, জঙ্গিদের পালে, যারা ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে শত শত মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে, আমরা অবশ্যই তাদের গ্রেপ্তার করব। এখানে কোনো ছাড় হবে না। যারা একুশে আগস্টের হত্যাকারীদের সঙ্গে হাত মেলাবে। সেই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত- অবশ্যই আমরা তাদেরকে গ্রেপ্তার করব।

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, আওয়ামী লীগ আইনে বিশ্বাস করে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব। সময় লাগলেও গ্রেনেড হামলা, ১৫ আগস্ট হত্যাকারী ও ৭১ এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমরা আদালতে করেছি।

তিনি বলেন, একটি সরকার যখন ক্ষমতায় থাকে, তার যে কি শক্তি- সেটি বিএনপিই আমাদেরকে দেখিয়ে গেছে। আজকে যে সুশীলরা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বড় বড় কথা বলে, তারা কি মনে করে? যে আওয়ামী লীগ যদি বিএনপির মতো হতো, তাহলে কি আমরা আদালতে যেতাম? আজকে যদি আমার চরিত্র তারেক রহমানের মতো হতো, তাহলে কি খালেদা জিয়া শুধুমাত্র জেলে থাকতেন? এ কথা তাদের মনে রাখা উচিত। আমাদের চরিত্র বিএনপির মতো না। আমরা খুনি না। আমরা সন্ত্রাসী দল না।

আওয়ামী লীগ হচ্ছে স্বাধীনতার দল।সুশীলরা নিরপেক্ষতার কথা বলে সন্ত্রাস, মানুষ হত্যাকারীদের নিয়ে কোনো নিরপেক্ষতা হতে পারে? তাহলে তারা একথা কিভাবে বলে? যারা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলতে লজ্জা পায় তারা সন্ত্রাসকে আশ্রয় দিয়েছে। যারা খুনিদের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পায়, তারা খুনিদের বাঁচিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। সুশীলরা বলছেন- বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হবে। আমি প্রশ্ন রাখি- কিসের থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করবেন? দেশের মানুষ এখন শান্তিতে আছে। ২১ আগস্টের মতো হত্যাকাণ্ড আর হচ্ছে না।

জয় বলেন, উন্নয়নশীল থেকে বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশে হয়েছে। আমার দুঃখ হয় যে. বাংলাদেশকে জঙ্গি দল বিএনপির হাত থেকে রক্ষা করার কাজে বাঁধা দিচ্ছে এই ঐক্যফ্রন্ট। এই জোটের চেষ্টা হচ্ছে বিএনপি রক্ষা করা, প্রতিষ্ঠিত করা। ঠিক জিয়াউর রহমান যুদ্ধাপরাধীদেরকে যেভাবে দেশে ফিরিয়ে এনে প্রতিষ্ঠিত করেছে, এই সুশীলরা ঠিক তেমনি এখন নেমেছে- তারেক রহমানকে ফেরত আনতে। আমরা কি সেটা দেখতে চাই? বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কী হবে? ২১ আগস্টের হত্যাকারী তারেক রহমানকে কি আমরা ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী দেখতে চাই? সুশীলরা সেটাই চান।