ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবি না মানলে ঝড় উঠবে: মওদুদ

নিউজ ডেস্ক:   সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি না মেনে তফসিল ঘোষণা হলে দেশে আন্দোলনের ঝড় উঠবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, ‘আন্দোলনের সেই ঝড়ে আমরা আবার নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করার ব্যবস্থা করতে সক্ষম হবো।’

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয়তাবাদী ফোরামের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাজা বাতিল এবং চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, হাবীব-উন-নবী খান সোহেল, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মামুন হাসান, ইসহাক সরকার, রবিউল ইসলাম নয়নের মুক্তির দাবিতে ওই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়।

মওদুদ আহমদ বলেন, জাতীয় ঐক্য ছাড়া এই সরকারকে অপসারণ করা সম্ভব নয়। এই ঐক্যের মাধ্যমেই বর্তমান সরকারের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হবে। তাই জাতীয় ঐক্যের পক্ষে সবাইকে কাজ করতে হবে এবং এই ঐক্যকে আরও সুসংগঠিত, সুরক্ষিত করতে হবে। আরও যারা গণতন্ত্রমনা, দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল আছে, শ্রেণি ও বুদ্ধিজীবী-শ্রমজীবী যেসব সংগঠন আছে, তাদের ঐক্যবদ্ধ করে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা দেওয়া হচ্ছে। বিরোধী দলের সব নেতাকর্মী যারা নির্বাচন করেন তাদের মামলা দিয়ে কারাগারে বন্দি করে রাখাই সরকারের উদ্দেশ্য। শুধু তৃণমূল নয়, শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধেও গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছে। সরকার এটা পরিকল্পিভাবে করছে।

মওদুদ আহমদ আরও বলেন, সরকারের বড় বড় কর্তাব্যক্তি যারা এখন অনেক বড় বড় কথা বলছেন, তাদের অনেকেই নিউইয়র্কে বাড়ি করেছেন। তার কাছে এর ছবিও আছে। একদিন জনগণ এই সম্পদের হিসাব চাইবে।

সম্প্রচার আইন নিয়ে তিনি বলেন, সম্প্রচার আইন পাস হলে সংবাদমাধ্যমের মৃত্যু ঘটবে। এ আইনে সরকার যে কোনো সময়, যে কোনো অজুহাতে সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দিতে পারবে। সরকার ক্ষমতার শেষ দিকে এসে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও সম্প্রচার আইনের অনুমোদন দিয়েছে, যাতে সংবাদমাধ্যম তাদের অপকর্মের কথা তুলে ধরতে না পারে।

সংগঠনের আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান বাচ্চুর সভাপতিত্বে সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব ও সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বক্তব্য দেন।