জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা এখন সিলেটে

নিউজ ডেস্কঃ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রথম সমাবেশে যোগ দিতে সিলেটে পৌঁছেছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনসহ শীর্ষ নেতারা। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে ৫টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ওসমানী বিমানবন্দরে পৌঁছান তারা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৭ দফা দাবি আদায়ের লক্ষে বুধবার ঐক্যফ্রন্ট মাঠে নামছে। নগরীর ঐতিহ্যবাহী রেজিস্টারি মাঠে আলোচিত এই সমাবেশের জন্য তাদের ১৪ শর্তে অনুমতি দিয়েছে পুলিশ।

সিলেটে পৌঁছে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য এই সমাবেশ আহবান করা হয়েছে। এটা জনগণের দাবি এবং জনগণ এসেই তাতে সমর্থন দিয়ে যাবে।

রাত ৮টার দিকে ড. কামাল হোসেন, মোস্তফা মোহসিন মন্টু, ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মনসুরসহ কয়েকজন হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর কবর জিয়ারত করেন।

বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলের শীর্ষ নেতারা বিমানবন্দরে শীর্ষ নেতাদের স্বাগত জানান। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা থাকবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা বক্তৃতা করবেন।

মঙ্গলবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, বিএনপির সহ-সভাপতি মো. শাহজাহান, যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু, জয়নাল আবেদীনসহ অগ্রগতি দলের নেতারা পৌঁছান। বুধবার ভোরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ঐক্যফ্রন্টের বাকি নেতারা সিলেটে পৌঁছাবেন বলে জানিয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের স্থানীয় কর্মসূচি সমন্বয়ক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ।

সিলেটে ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম বলেন, ইতিমধ্যে সমাবেশ সফলে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মানুষ স্বতঃস্ফুর্তভাবে এই সমাবেশে যোগ দেবে বলে মন্তব্য করেন এই বিএনপি নেতা।

তিনি জানিয়েছেন, বুধবার সমাবেশের আগে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.) মাজার এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর কবর জিয়ারত করবেন।

এদিকে সমাবেশকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের বাসাবাড়িতে গিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির নেতারা। নগরীতে সমাবেশের প্রচারে মাইকিং করতে গেলে পুলিশ তা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করেন জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম।

তবে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার পরিতোষ ঘোষ এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, এ ধরনের কোন তথ্য নেই। সমাবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আশা করি শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ হবে। যেকোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে থাকবে বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে নগরীর কোর্ট পয়েন্ট থেকে সমাবেশের প্রচারে লিফলেট বিতরণ শুরু করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এতে ‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন ও খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ’ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবিতে এবং ১১ দফা লক্ষ্য বাস্তবায়নে ‘বিশাল জনসভা’ সফলের আহবান জানানো হয়।

এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এমএ হক, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন মিলন, জেলার সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত সাদেকসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া দুপুরে বিএনপির শীর্ষ নেতারা নগরীর রেজিস্টারি মাঠে সমাবেশস্থলের সর্বশেষ প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইনাম আহমদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা ও সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, আবদুর রাজ্জাকসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গত ১৬ অক্টোবর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রথম বৈঠক শেষে ২৩ অক্টোবর সিলেটে সমাবেশ দিয়ে যাত্রা শুরুর কথা বলা হয়েছিল। নগরীর রেজিস্টারি মাঠে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হলে নিরাপত্তার স্বার্থে তাতে সায় দেয়নি পুলিশ। গত ১৯ অক্টোবর ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতাদের বৈঠকে একদিন পিছিয়ে ২৪ অক্টোবর সিলেট সফর কর্মসূচি নির্ধারণ করেন।

প্রথমে পুলিশের পক্ষে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। এ অবস্থায় সমাবেশের অনুমতি চেয়ে গত রোববার উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ। এতে সমাবেশের অনুমতি না দেওয়া কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষনা করা হবে না, তা জানতে রুল জারির আবেদন করা হয়। পাশাপাশি সমাবেশ করতে দেওয়ার নির্দেশনা চেয়েও আবেদন করা হয়।

রিট আবেদনের দিনই মহানগর পুলিশ শর্তসাপেক্ষে রেজিস্টারি মাঠে ঐক্যফ্রন্ট সমাবেশের অনুমতি দেয়। তার আগে গত শনিবার ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে প্রশাসনকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।

গত ১৩ অক্টোবর গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ হয়। সেদিন ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে ৭ দফা দাবি ও ১১ দফা লক্ষ্যের কথা উপস্থাপন করা হয়। বিএনপি ছাড়াও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ও নাগরিক ঐক্য মিলে এই ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছে।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম/জাহিদ