জনগণকে ক্ষমতার মালিক করাই আন্দোলনের লক্ষ্য: ড. কামাল

নিউজ ডেস্ক:   জনগণকে ক্ষমতার মালিক করাই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। আজ বুধবার সিলেটে রেজিস্ট্রি মাঠে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রথম সমাবেশে ভাষণে এ কথা বলেন তিনি। ড. কামাল বলেন, ‘কতিপয় মানুষের উন্নয়ন নয়, সবার উন্নয়ন নিশ্চিত করতেই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা দেশের মালিক, জানেন তো এটা? আপনারা সবাই মালিক, কিন্তু মালিকের ভূমিকা কি রাখতে পেরেছেন? আপনাদেরকে মালিকানা থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। এই মালিকানা যদি পুনরুদ্ধার করতে হয়, জনগণের ঐক্য অপরিহার্য। দলীয় ঐক্য নয়, জাতীয় ঐক্য। তাই আজকে আপনারা নেমেছেন, আপনাদেরকে সম্পৃক্ত করতে হবে, দেশের অন্যান্য দলে যারা আছেন সবাইকে এসে বলতে হবে যে আমরা ক্ষমতার মালিক। আমাদেরকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে।’

সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে মানুষ অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে-এ কথা উল্লেখ করে ড. কামাল বলেন, ‘আমাদের এক নম্বর দাবি হলো অবাধ সুষ্ঠূ নির্বাচন এবং তার সাথে সাথে আমরা আরও ৬টা দফা দিয়েছি। কীভাবে নির্বাচনকে সুষ্ঠু করা যাবে, কীভাবে জনগণ মালিকরা সত্যিকার অর্থে তাদের রায় দিতে পারবে। এইটাই হলো আপনাদেরকে আজকে কষ্ট দেওয়ার কারণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘৭ দফা যেটা আমরা দিয়েছি, সেটা আপনাদের মাঝে বিতরণ করা হবে। আপনারা এটাকে মনযোগ সহকারে দেখার পরে গ্রামে গ্রামে ইউনিয়নে ইউনিয়নে থানায় থানায় জেলায় জেলায় এই ঐক্যকে আরও সুসংহত করবেন। সুসংহত হয়ে সেই দাবিগুলো করবেন, যে আমাদেরকে ভোট দেওয়ার জন্য এই ৭টি দফাকে পালন করতে হবে। এটাকে আপনারা হালকাভাবে নেবেন না। এত বড় জিনিস যেটা হারানো হয়েছে সেটা পুনরুদ্ধার করা, এত সহজ না। কিন্তু এই যে আপনারা সাড়া দিয়েছেন, আপনারা যে বুঝতে পেরেছেন যে আপনাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এখন আপনারা শক্তভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই অধিকার আমরা ফিরিয়ে আনবো।’

গণফোরাম সভাপতি বলেন, ‘দেশের মালিকানা যেন জনগণ আবার ফিরে পায়, অবশ্যই আমরা পাবো। কোটি কোটি মানুষ জীবন দিয়ে এই স্বাধীনতা এনেছিল। দেশের মালিক হচ্ছে জনগণ। জনগণ দেশের মালিক না থাকলে প্রকৃত অর্থে আমরা স্বাধীন থাকি না, আমরা সেই স্বৈরাচারের প্রজা হয়ে যাই। সেই অবস্থা থেকে মুক্ত হতে হলে, সেই স্বৈরাচারের প্রজা থেকে মুক্ত হতে হলে, স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হতে হলে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতার বঙ্গবন্ধুর যে স্বপ্ন ছিল-জনগণ ক্ষমতার মালিক। আসেন আপনরা সবাই মালিক হতে চান? এই যে আমরা সবাই দেশের মালিক।’

‘আমরা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা আবার মালিক হবো, এই রাষ্ট্র আমাদের নিয়ন্ত্রণে আনবো এবং আমাদের যে লক্ষ্যগুলো এখনো অপেক্ষিত সেগুলো আদায়ের দাবিকে সামনে রেখে আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। ইনশাল্লাহ ক্ষমতার মালিক আমরা হবো, এই দেশকে আমরা সবাই মিলে নিয়ে যাব অগ্রগতির দিকে, যাতে সকলেই তাদের সকল অধিকার ভোগ করতে পারে’ বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ড. কামাল হোসেন।
এর আগে বক্তব্য রাখেন সমাবেশের প্রধান বক্তা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশকে কল্যাণধর্মী রাষ্ট্রে পরিণত করাই মূল লক্ষ্য।’ ৭ দফা দাবি মানতে হবে বলেও জানান তিনি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দাবি আদায়ের আন্দোলনে যাওয়ার আগে প্রথমবারের মতো সমাবেশ করছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন সিলেট মহানগরের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

সমাবেশের শুরুতেই বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল কাইযুম জালালী পঙ্কী, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি নাসের রহমান।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সিলেটে ঐক্যফ্রন্টের সমন্বয়ক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজমল বক্ত চৌধুরী সাদেক।

মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, শামসুজ্জামান দুদু, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, আমানউল্লাহ আমান।

এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, ঐক্যফ্রন্ট নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব মোস্তফা আমিন প্রমুখ।