চীন মৈত্রী সেতুর সিএনজি টোল মুক্ত করার দাবীতে অবরোধ

মোঃএরশাদ হোসেন, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা সংবাদদাতা : কেরানীগঞ্জ চীন মৈত্রী প্রথম সেতুর নতুন করে টোল নির্ধারন ও আদায়ের বিরুদ্ধে সিএনজির অটোরিকশা টোল মুক্ত করার দাবীতে ২য় দিনেরও সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ব্রীজ অবরোধ করেছে সিএনজি অটোরিক্সা চালক মালিক সমিতি ও শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ। এতে করে দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছে সাধারন যাত্রীরা এ্যাম্বুলেন্স লাশের গাড়ি ফিরিয়ে দিয়েছেন আন্দোলন কারী সিএনজি চালকরা ।

ব্রীজ বন্ধ করায় দূরপাল্লার যাত্রীরা, ব্যাংক, বীমা, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র/ছাত্রী, ব্যবসায়ী, রোগী, গার্মেন্টস চাকুরীজীবিরা চরম বিপদে পড়েছে।

২০১৫ শেষে দিকে সিএনজির টোল মুক্ত টানা তিন দিনের অবরোধ দিয়ে ছিল সিএনজি অটোরিক্সা চালক মালিক শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ কমিটি । স্থানীয় সংসদের আশ্বাসে চীনমৈত্রী প্রথম সেতু টোলমুক্ত করে দেন । সিএনজির ৪ বছর টোল মুক্ত থাকার পর নতুন টেন্ডার প্রদান করে সরকার, সেখানে সিএনজির নতুন টোল ২৫ টাকা নির্ধারন করা হয়। দ্বিতীয় দিনের এ টোল কার্যকর ও আদায়ে অন্ধসঢ়;র ছিল নতুন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কে আলম শিপিং লিঃ ।

তার প্রতিবাদে সিএনজি মালিক চালক ঐক্য শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ কমিটি সকাল থেকে টোল মুক্ত অবরোধ আন্দোলনের ডাক দেন প্রায় ৬ঘন্টা অবরোধ ছিল কোন যানবাহন চলতে দেয়া হয়নি। তাদের একটাই শ্লোগান ছিল “টোল মুক্ত ব্রীজ চাই, টোল মুক্ত ব্রীজ চাই” এ অবরোধ ছিল শান্তি পূর্ন কোন গাড়ি ভাঙ্গার খবর পাওয়া যায়নি।

টোলমুক্ত আবরোধের ও আন্দোলনের নেতৃত্বদেন ঢাকা জেলা জাতীয় শ্রমিকলীগের সভাপতি টোল মুক্ত আন্দোলনের সমন্বয় কমিটির আহবায়ক এমদাদুল হক দাদন টোল মুক্ত আন্দোলনের সাধারন সম্পাদক সামিউল ইসলাম সামু, সহ সভাপতি আব্দুল জব্বার সহ সভাপতি মোঃবাবু ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি মোঃ আনছার আলী । মোঃ সিএনজি মালিক সমিতির সহ সভাপতি আবদুল্লাহ, সিএনজি অটোরিকশা চালক নেতা আফজাল,মোঃ দ্বীন ইসলাম,মোক্তার হোসেন ।

এসময় টোল মুক্ত আন্দোলনের সমন্বয় কমিটির আহবায়ক এমদাদুল হক দাদন সাংবাদিকদের বলেন ,একজন সিএনজি চালক এ পাড় থেকে নদী পাড় হয়ে ৫জন যাত্রী নিয়ে ১০ টাকা করে ভাড়া ৫০ টাকা পান সেখানে ২৫টাকা টোল আপডাউনে ১০০টাকা ভাড়া উঠবে ৫০ টাকা টোল দিলে চালক কিভাবে বাচঁবে। তিনি বলেন, আমরা টোল মুক্ত না করে ঘরে ফিরবো না। সিএনজির এই টোল মুক্ত আন্দোলনের সাথে উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদ ও স্থানীয় বিদ্যুৎ জালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ -এমপি একাত্বতা ঘোষনা করেন।

পরে স্থানীয় বিদ্যুৎ জালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদকে ফোন দিয়ে অবরোধ কারীদের রোড ছাড়ার নির্দেশ দেন। উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদ ফোনের মাধ্যমে লাউড স্পীকারে মাইকে বলেন, বিদ্যুৎ জালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ -এমপি এর সাথে যোগাযোগ মন্ত্রীর রাতে একটি মিটিং হবে সেখানে সিএনজির টোল মুক্ত করার আলোচনা হবে । আমরা ও সিএনজির এই টোল মুক্ত আন্দোলনের সাথে আছি। সেনাবাহিনীর পদ্মাসেতুর মাল আটকে আছে। দু দিন সময় দিন এর সমাধান করতে হবে আপনারা অবরোধ তুলে নিন । পরে অবরোধকারীরা রাস্তা ছেড়ে দেন।

ঠিকাদার কে আলম শিপিং লিঃ সত্বাধীকারী খোরশেদ আলমকে টোলে এলাকায় পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি পরে ফোন করবো মিটিংএ আছি ।পরে তিনি ফোন ও যোগাযোগ করেনি।

দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানা তদন্ত ওসি মোঃ কামাল হোসেন বলেন, কোণ অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই, শান্তি পূর্ন ভাবে অবরোধ হয়েছে। আমাদের প্রশাসন কঠোর অবস্থানে ছিল।