ঘোড়াশাল ইউরিয়া সার কারখানায় উত্পাদন শুরু

নিউজ ডেস্কঃ দীর্ঘ ১৯ মাস গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকার পর গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে পুনরায় গ্যাস সংযোগ দিলেও ৩৮ দিন পর রবিবার রাত ১০টার দিকে উৎপাদন শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঘোড়াশাল সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সাজ্জাত হোসেন।

বিসিআইসি নিয়ন্ত্রণাধীন দেশের বৃহত্তম ১ হাজার ৪ শত ২২ টন ঘোড়াশাল ও ৩ শত টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার উত্পাদন গ্রীষ্মকালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ২০১৭ সালের ১৭ এপ্রিল সারকারখানা দুটিতে সরকারি সিদ্ধান্তে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয় পেট্টোবাংলা। এরপর থেকে ঘোড়াশাল ও পলাশ ইউরিয়া সারকারখানার সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০১৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সরকারি সিদ্ধান্তে পেট্টোবাংলা এ দুটি সারকারখানায় গ্যাস সংযোগ চালু করে। গ্যাস সংযোগ চালুর ৩ দিন পর থেকে পলাশ সারকারখানায় সার উত্পাদন শুরু করলেও ঘোড়াশাল সারকারখানায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন চালু করতে পারেনি সারকারখানা কর্তৃপক্ষ।

ঘোড়াশাল সারকারখানার উত্পাদন বিভাগ জানান, প্রতি মেট্রিক টন সার উত্পাদনে খরচ হয় ১৪ হাজার টাকা। আর একই সার বিদেশ থেকে আমদানি করলে প্রতি মেট্রিক টনে খরচ হয় ৪০ হাজার টাকা। এ বছর ঘোড়াশাল ইউরিয়া সার কারখানার বার্ষিক উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬২ হাজার টন। কিন্তু গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। তিতাসের ঘোড়াশাল সঞ্চালন ও বিতরণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘোড়াশাল সার কারখানায় দৈনিক ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট ও পলাশ সার কারখানায় ১৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়।

ঘোড়াশাল ইউরিয়া সারকারখানার সিবিএ সভাপতি আমিনুল হক ভূইয়া জানান, দীর্ঘদিন কারখানাটি বন্ধ থাকায় একদিকে যেমন আমদানি নির্ভর হয়ে পড়েছিল সরকার। অন্যদিকে দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকায় মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল অনেক যন্ত্রপাতি। আমাদের কারখানার প্রকৌশলীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে রবিবার রাত ১০টার দিকে উত্পাদন শুরু করতে সক্ষম হয়েছি।

এদিকে কারখানার শ্রমিক কর্মচারীরা গ্যাস সংযোগ পাওয়ার পরও কারখানার উৎপাদন চালু করতে না পারায় হতাশার মধ্যে পড়েছিল। রবিবার রাতে উত্পাদন শুরু হওয়ার সাথে সাথে কারখানার শ্রমিক কর্মচারীরা আনন্দ উল্লাস করতে থাকে।