শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা হবে

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান বলেছেন, সনাতন সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে। এটি একটি সার্বজনীন উৎসব। সারাদেশের ন্যায় বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে অনুষ্ঠিত শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা হবে।

পূজা শুরু থেকে বিসর্জন পর্যন্ত যাতে কোন ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড না ঘটে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও পূজায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিজয়া দশমীর দিন (১৯ অক্টোবর) শুক্রবার জুমার নামাজ বিধায় সেদিন বেলা ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মÐপ ও আশপাশের এলাকায় বাদ্য-বাজনা থেকে বিরত থাকতে পূজা কমিটির কর্মকর্তাদের আন্তরিক হতে হবে। আমরা আকস্মিকভাবে পূজামণ্ডুপ পরিদর্শনে যাবো।

কোন ধরনের গোপন তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানাতে হবে। যেখানে অপরাধ সেখানেই মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে। গতকাল সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম আঞ্চলিক টাস্কফোর্স সভা, বিভাগীয় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা, জেলা প্রশাসকগণের সাথে সমন্বয় সভা ও বিভাগীয় রাজস্ব সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বিভাগীয় কমিশনার অফিস সভাগুলোর আয়োজন করেন।

আঞ্চলিক টাস্কফোর্স সভায় তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সড়ক, নৌপথ ও সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে মাদকের সাথে অস্ত্রের চালান আসতে পারে। বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ঘটনাও বৃদ্ধি পাবে। বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ঘটনা ও বৃদ্ধি পাবে। নির্বাচনের আগে ও পরে দেশে যাতে কোন ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় সে বিষয়টি খেয়াল রেখে চলতি মাস থেকে আগামী জানুয়ারি মাস পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহনীকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। সমুদ্রপথে নৌ টহল বৃদ্ধির পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাদেরকে অতন্ত্র প্রহরীর মত দায়িত্ব পালন করতে হবে। চোরাচালান প্রতিরোধে পর্যাপ্ত চেকপোস্ট কার্যক্রম রেখে মাদকদ্রব্য উদ্ধার কার্যক্রম আরো গতিশীল করাসহ ভেজাল খাবার রোধে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

বিভাগের ১১টি জেলার জেলা প্রশাসন কর্তৃক প্রতিমাসে টাস্কফোর্স অভিযানের হার বৃদ্ধিসহ তথ্যাদি যথাসময়ে বিভাগীয় কমিশনার অফিসে প্রেরণ এবং অভিযান পরিচালনায় জেলা প্রশাসকগণকে আরো গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করতে হবে। সীমান্তবর্তী জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে চোরাচালান নিরোধ কমিটির অনুষ্ঠিত সভা ফলপ্রসূ হওয়ার ব্যাপারে জেলা প্রশাসকগণেরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সরকার ভর্তুকি দিয়ে বিদেশ থেকে জ¦ালানি তেল আমদানি করছে। পেট্রোল পাম্প থেকে ডিজেলসহ অন্যান্য জ¦ালানি তেল যাতে পাচার না হয় সে বিষয়ে সীমান্তবর্তী জেলা প্রশাসকগণকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

ফিলিং স্টেশনের মালিকদের সাথে এ ব্যাপারে সভা করে সভার কার্য্য বিবরণী প্রেরণের জন্য জেলাপ্রশাসকবৃন্দকে অনুরোধের পাশাপাশি বিদ্যুতের অপব্যবহার, ব্যাটারি চালিত রিক্সা ও ইজিবাইক বন্ধ করনের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, বিভাগের প্রত্যেক জেলায় অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশে দুর্গাপূজা সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার, চোরাচালানরোধ, জঙ্গি-সন্ত্রাসী এবং চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আশাকরি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অপরাধীরা আর মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে না। এ জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বয়ভাবে কাজ করতে হবে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর ২৫৫টি পূজা মণ্ডুপে শারদীয় দুর্গাপূজা বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছে। পূজাকে ঘিরে এখানে কোন ধরনের আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটার সম্ভাবনা নেই। তবুও মাদক, অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ নজরদারী রয়েছে। পূজামণ্ডুপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। দুর্গাপূজা শেষে নগরীর একটি দুর্গাপূজামণ্ডুপকে সিএমপি’র পক্ষ থেকে পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পৃথক সভাগুলোতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মো. নুরুল আলম নিজামী, বিজিবির রিজিয়ন কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আদিল চৌধুরী, ডিজিএফআই’র অধিনায়ক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল বশির আহমদ, কোস্টগার্ডের অধিনায়ক এস.এম মঈন উদ্দিন, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপ-মহাপরিচালক মো. সামছুল আলম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন (চট্টগ্রাম), তন্ময় দাস (নোয়াখালী), মো. মাজেদুর রহমান খান (চাঁদপুর), আবুল ফজল মীর (কুমিল্লা), মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম (বান্দরবান), অঞ্জন চন্দ্র পাল (ল²ীপুর), একেএম মামুনুর রশিদ (রাঙামাটি), মো. কামাল হোসেন (কক্সবাজার), মো. শহিদুল ইসলাম (খাগড়াছড়ি), মো. ওয়াহিদুজ্জামান (ফেনী), হায়াত উদ-দৌলা খান (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সচিব মো. আবুল হোসেন, শুল্ক, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান, ভ্যাট কমিশনার সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া, কাস্টম কমিশনার ড. একেএম নুরুজ্জামান, কাস্টম, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মো. মাহবুবুজ্জামান, এনএসআই’র অতিরিক্ত পরিচালক মো. তোফাজ্জল হোসেন, নৌবাহিনীর কমান্ডার লে: রথীন ইবনে ওয়াহিদ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মজিবুর রহমান পাটওয়ারী, চট্টগ্রাম অঞ্চলের বনসংরক্ষক জগলুল হোসেন, বিজিবি কক্সবাজার সদর রিজিয়নের প্রতিনিধি মো. কর্ণেল মোহাম্মদ খালেদ, র‌্যাব-৭ এর উপ-পরিচালক মেজর মো. মেহেদী হাসান, রেলওয়ে পুলিশ সুপার নওরোজ হাসান তালুকদার, চট্টগ্রাম জেলা পিপি এডভোকেট একেএম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. সাহাবউদ্দিন, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফফর আহমদ, জেলা ট্রাক-কাভার্ডভ্যান এন্ড মিনি ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি আলহাজ আবদুল মান্নান, হাইওয়ে পুলিশের সিনিয়র এএসপি মোহাম্মদ ফরহাদ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-পরিচালক গাজী গোলাম মাওলা, চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যাপক মো. জসিম উদ্দিন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হাসান মাসুদ, চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক অঞ্জন শেখর দাশ, এফবিসিসিআই’র মেম্বার মাহফুজুল হক শাহ্, বিজিএমই’র সিনিয়র উপ-সচিব মো. করিম উল্ল্যাহ চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের সচিব মমতাজ আলী খান।

বিগত সভার সিদ্ধান্ত ও অগ্রগতি তুলে ধরেন বিভাগীয় কমিশনারের একান্ত সচিব ও সহকারী কমিশনার হাসান বিন মোহাম্মদ আলী এবং সহকারী কমিশনার মো. জাকারিয়া। সভায় বিভাগের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম/প্রিন্স