প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আনন্দ মিছিল

মো. নজরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ: বহুল প্রত্যাশিত ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের গেজেট ১৪ অক্টোবর রাতে, ২০১৮ প্রকাশিত হওয়ায় ময়মনসিংহ মহানগরসহ জেলাবাসীর মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার। ৯০.১৭৩৬ বর্গ কিলোমিটার এলাকা দিয়ে দেশের ১২তম সিটি কর্পোরেশনগঠিত হয়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার মাহমুদ হাসান জানান, বিধি অনুযায়ী শিগগির স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নবগঠিত ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ করবে এবং সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম শুরু হবে।

এছাড়াও ওয়ার্ডের সীমানা চিহ্নিত, ভোটার ও জনসংখ্যা নির্ধারণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন গঠনের মধ্য দিয়ে এই বিভাগের দীর্ঘদিনের বৃহৎ একটি প্রত্যাশা পূরণ হলো। ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের গেজেট প্রকাশিত হওয়ায় বর্তমান মেয়র ইকরামূল হক টিটুর পক্ষ থেকে উন্নয়নের স্বপ্নদ্রষ্টা দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানিয়ে বিভিন্ন পাড়ায় মহল্লায় আনন্দ মিছিল, শোভাযাত্রা ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন গঠনের মধ্য দিয়ে ঐতিহ্যবাহী মহনগরীর কাঙ্খিত উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে সর্বস্তরের নাগরিকবৃন্দ সুদৃঢ় আশা পোষন করেন।

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা করার জন্য উর্ধ্বতন সরকারী কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ।

পৃথক বিবৃতিতে তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন। যারা কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তারা হলেন- ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার মাহ্মুদ হাসান, ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি, ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ড. সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস, ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, ময়মনসিংহ পৌরসভার সর্বশেষ মেয়র ইকরামূল হক টিটু, ময়মনসিংহের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ হারুন অর রশীদ, ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকা ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এহতেশামূল আলম, ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আমিনুল হক শামীম (সিআইপি), ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান খান ও সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নূরুল আমীন কালাম, ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি এফএমএ সালাম ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম প্রমূখ।

এস, আর, ও নং ৩০১-আইন/ ২০১৮। তফসিলে বর্ণিত পৌর এলাকাা সমন্বয়ে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের ১৪ অক্টোবর রাতে, ২০১৮ প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী ৩২টি মৌজাগুলো হলো- ময়মনসিংহ টাউন, গোহাইলকান্দি, গলগন্ডা, বলাশপুর, কাশর, ভাটিকাশর, সেহড়া, কৃস্টপুর, কেওয়াটখালী, চকছত্রপুর, রাক্তা, ঢোলাদিয়া, মাসকান্দা, বয়রা-ভালুকা, ছত্রপুর, আকুয়া (আংশিক), বাড়েরা, কল্পা, চর সেহড়া, হাসিবাসী, বাদেকল্পা, বাইসাখাই, খাগডহর, সুতিয়াখালী, রহমতপুর(আংশিক), কিসমত, বেলতলী, দাপুনিয়া (আংশিক), চর ঈশ^রদিয়া, গোবিন্দপুর, চর রঘুরামপুর ও জেলখানার চর (আংশিক)।

উল্লেখ্য, ১৭৯১ খ্রিস্টাব্দে ময়মনসিংহ জেলা সদরের পত্তন হয় এবং ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে ময়মনসিংহ শহরের সার্বিক উন্নয়ন এবং ব্যবস্থাপনা করার লক্ষ্যে পৌরসভা গঠিত হয়। ২ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় অনুমোদনের মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন গঠিত হয়। ২০১৮ সালের ১৪ই অক্টোবর ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন এর প্রজ্ঞাপন জারি হয়। এটি বাংলাদেশের দ্বাদশ সিটি কর্পোরেশন। এর আয়তন ৯০ দশমিক ১৭৩ বর্গ কিঃমিঃ।

ময়মনসিংহ শহর হয় ১৮১১ সালে। শহরের জন্য জায়গা দেন মুক্তাগাছার জমিদার রঘুনন্দন আচার্য। ১৮৮৪ সালে রাস্তায় প্রথম কেরোসিনের বাতি জ্বালানো হয়। ১৮৮৬ সালে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ ও ১৮৮৭ সালে জেলা বোর্ড গঠন করা হয়। ময়মনসিংহ পৌরসভা একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী পৌরসভা। ১৮৬৯ সালে পৌরসভাটি স্থাপিত হয়। তখন এর নাম ছিল নাসিরাবাদ টাউন কমিটি। ১৯০৫ সালে নাসিরাবাদের পরিবর্তে ময়মনসিংহ নাম ধারণ করে। ১৯৭২ সালে ময়মনসিংহ টাউন কমিটি বিলুপ্ত করে ময়মনসিংহ পৌরসভা নামকরণ করা হয়।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম/প্রিন্স