রায়ে সন্তষ্ট নয় কোনো পক্ষ!

সুমন দত্ত
চাঞ্চল্যকর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় রায় সন্তুষ্ট করতে পারেনি কোনো পক্ষকে। কেন এমন রায় হলো? এই প্রশ্ন যেমন আওয়ামী লীগের, তেমনি যারা মৃত্যুদণ্ড পেল তাদের প্রশ্ন আমরা কেন এমন সাজা পেলাম? এদিকে বিএনপি একে ফরমায়েশি রায় বলে বিচার প্রত্যাখ্যান করেছে। 
 
২০০৪ সালের এই ঘটনার বিচার হয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে। তাতেই বিচার করতে সময় লেগে যায় ১৪ বছর। বলা হচ্ছে ১০ বছর বিচার কাজ চলেছে। তারপরও প্রশ্ন থাকে, দ্রুত বিচার আদালতে মামলা নিষ্পত্তি যদি এতদিন লাগে তবে সাধারণ আদালতে এই বিচার কতদিন লাগত? সেটা এই মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরাই বলতে পারেন।  
 
 সংক্ষিপ্ত রায়ে সবকিছু পরিষ্কার বোঝা যায় না। তাই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পরই জানা যাবে আইনি প্রক্রিয়ার কোথায় ঘাটতি ছিল, যার কারণে এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীর মৃত্যুদণ্ড না হয়ে এর সহায়তাকারী ও বাস্তবায়নকারীদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা হয়। 
 
এদিকে বিএনপি এই মামলার রায়কে ফরমায়েশি বলে মন্তব্য করেছে। বিএনপি যেহেতু বাবরকে দিয়ে এই মামলার ফরমায়েশি তদন্ত করেছিল এজন্য রায়ও হয়েছে ফরমায়েশি। তাই নয় কি? 
 
তারেক জিয়া এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হয়েও কীভাবে মৃত্যুদণ্ডের সাজা থেকে পার পেলেন এটা অনেকের মাথায় আসছে না। পাশাপাশি কুমিল্লার জঙ্গি সংসদ কায়কোবাদ ও খালেদা জিয়ার সেক্রেটারি হারিছ চৌধুরী কীভাবে যাবজ্জীবন পেলেন এটাও কারো মাথা আসছে না।  তাই এই মামলার রায় নিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক থেকে শুরু করে গ্রেনেড হামলায় নিহত ও আহত পরিবারের সদস্যরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেনি। 
 
জর্জ মিয়া, শৈবাল সাহা পার্থ এদের দিয়ে গ্রেনেড হামলার মামলা সাজিয়েছিল বিএনপি-জামাত জোট সরকার। আর এতে সহায়তা করেছিল জামাতি মনোভাবাপন্ন সেনা ও পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থার কিছু লোক। এদের মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। অনেকের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। বর্তমানে যারা এসব বিভাগে কাজ করছেন তারা এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নেবেন নিশ্চয়। 
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ যতটা কঠোর হয়েছেন সেটা এই ঘটনা থেকে। ২০০৪ সালের মর্মান্তিক এই ঘটনা তাকে নতুন করে ভাবতে শেখায়। যার প্রতিফলন আজ আমরা তার মাঝে দেখছি। 
 
১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতায়, তখন তাকে আইএসআই-জামাত এসব বিষয়ে অবগত করানো হয়েছিল। তখন তার উপলব্ধি হয়নি। কারণ বিএনপি ছেড়ে জামাত তখন আওয়ামী লীগের কোলে আশ্রয় নিয়েছিল। যেমন তার আগে জামাতিরা ১৯৯০ সালে এরশাদের কোল ছেড়ে খালেদার কোলে এসেছিল। 
 
 ২০০১ সালে বিচারপতি লতিফুর রহমানের কাছে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে শেখ হাসিনা যে উদারতা দেখিয়ে ছিলেন তার সঠিক ব্যবহার করতে পারেনি বিএনপি। কারণ বিএনপির ঘাড়ে তখন পাকিস্তানী জামাতিভূত। যেই ভূতের কারণে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ১০ ট্রাক অস্ত্রের চালান ধরা পড়ে। কারণ প্রশাসনের সর্বত্র তখন ছিল জামাতিদের দাপট। দু:খের বিষয় এই জামাতি ভূতকে এখনো মাথায় নিয়ে বয়ে বেড়াচ্ছে বিএনপি ও তার নেতাকর্মীরা। যার ফল হয়তো আগামীতে তারা আরো ভালো করে পাবে।     
 
লেখক: সাংবাদিক