২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ষড়যন্ত্র হাওয়া ভবনেই

নিউজ ডেস্ক: ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলা ষড়যন্ত্রের চূড়ান্ত বৈঠক হয় হাওয়া ভবনে। ওই হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল শেখ হাসিনাকে হত্যা করা। মুফতি আবদুল হান্নানসহ বিভিন্ন আসামির জবানবন্দি ও মামলার অভিযোগপত্রে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এছাড়া, ঘটনার পর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তদন্ত, প্রথম অভিযোগপত্র, নিরীহ মানুষের হয়রানির শিকার হওয়াসহ নানা বিষয় উল্লেখ করা হয় সম্পূরক অভিযোগপত্রে। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহার আকন্দ ২০১১ সালের ৩ জুলাই আদালতে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে আবদুল কাহার আকন্দ উল্লেখ করেন, ‘তদন্তকালে আমি মোট ১৭ জন আসামিকে গ্রেফতার করি। এর মধ্যে মাওলানা শেখ আব্দুস সালাম, আব্দুল মাজেট ভাট, আব্দুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ ওরফে জিএম ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। আব্দুস সালাম পিন্টু, হাফেজ আবু তাহের, আরিফ হাসান সুমন, মুফতি মঈন ওরফে আবু জান্দালকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করি। মুফতি মঈন ওরফে আবু জান্দাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। মুফতি আবদুল হান্নান মুন্সী ২০১১ সালের ৭ এপ্রিল স্বেচ্ছায় দ্বিতীয় দফায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক আরেকটি জবানবন্দি দিয়েছে।’ এর আগে ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর মুফতি হান্নান প্রথম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিল।

 

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ‘মামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শন, জব্দকৃ করা আলামত, প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ, আসামিদের স্বীকারোক্তি ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনায় দেখা যায়, আওয়ামী লীগের প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির ঘোরবিরোধী ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ও সমমনা সাম্প্রদায়িক কিছু রাজনৈতিক দল। মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত কিছু আলেম আফগানিস্তানে তালেবানদের পক্ষে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেয়। তারা সমরাস্ত্র প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তাদের মধ্যে মাওলানা শেখ আব্দুস সালাম, মুফতি আবদুল হান্নান, মাওলানা শফিকুর রহমান, মুফতি আব্দুল হাই, মাওলানা আব্দুর রউফ, মাওলানা সাব্বির, মাওলানা শেখ ফরিদ, হাফেজ ইয়াহিয়া, মাওলানা আবু বক্কর, মাওলানা তাজ উদ্দিন, হাফেজ আবু তাহের, হাফেজ জাহাঙ্গীর বদরসহ তাদের অন্য সঙ্গীরা যুদ্ধ শেষে বাংলাদেশে ফেরত এসে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশ গঠন করে। পরে তালেবান স্টাইলে এই দেশে জঙ্গি তৎপরতা শুরু করে। তাদের এই জঙ্গি তৎপরতার জন্য সরকার এই সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।’

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, ‘তাদের তৎপরতাকে বেগবান করার জন্য তারা দেশের বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে, কিছু কওমি মাদ্রাসা এবং পাহাড়ি ও চর এলাকায় সশস্ত্র প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। কাশ্মিরি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন হিজবুল মুজাহিদিন, তেহরিক-ই-জেহাদিল ইসলামী, লস্কর-ই-তৈয়বা, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই ও বার্মার  (মিয়ানমার) আরাকানের রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) ও অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতা চালাতে থাকে। মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত কিছু ব্যক্তি দেশের প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে ফতোয়া জারি করে বিভিন্ন জায়গায় নিজেদের হাতে আইন তুলে নিয়ে বিচার করতে থাকে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন সংগঠন ফতোয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় এবং ফতোয়ার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা হয়। কিন্তু হাইকোর্টের রায় ফতোয়া প্রদানকারীদের পক্ষে না যাওয়ায় তারা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর ক্ষিপ্ত হয় এবং আওয়ামী লীগকে ইসলাম বিদ্বেষী মনে করে। তারা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করে তাকেসহ দলের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের হত্যা করার জন্য বিভিন্ন সময় আক্রমণ চালাতে থাকে।’

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘এই ধারাবাহিকতায় আসামি মুফতি আবদুল হান্নান মুন্সীর স্বীকারোক্তি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ অনুযায়ী মুফতি আবদুল হান্নান, মাওলানা আব্দুর রউফ, মাওলানা শেখ ফরিদ, মাওলানা সাব্বির আহম্মেদ, জাহাঙ্গীর বদর, হাফেজ ইয়াহিয়া, মুফতি আব্দুল হাই, মুফতি শফিকুর রহমান, মাওলানা আবু বক্কর, আবু মুসা, লোকমান ও অন্যান্য জঙ্গিরা ২০০০ সালের জুলাই মাসের প্রথম দিকে মোহাম্মদপুর সুপার মার্কেটের কাছে তাদের অফিসে বসে (তাদের ভাষায়) আলেম সমাজ ও ইসলামকে বাঁচানোর জন্য আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার মাধ্যমে প্রতিহত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খিলগাঁও থানা এলাকার মুগদা অফিসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ২০০০ সালের জুলাই মাসে কোটালীপাড়ায় তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচির সভায় তাকে হত্যা করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী জঙ্গিরা কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে রাখে। কিন্তু সেটি আগেই উদ্ধার হয়ে যাওয়ায় সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। এ ঘটনায় কোটালীপাড়া থানায় মামলা হয়।’

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর শেখ হাসিনা (ছবি-সংগৃহীত)অভিযোগপত্রে উল্লেখ আছে, ‘‘২০০১ সালে নির্বাচনি প্রচারণা চালানোর সময় সিলেটেও মুফতি হান্নান ও তার সহযোগীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। কিন্তু বোমা আক্রমণে ব্যর্থ হয়ে বোমাসহ সিলেট শহরে ডা. আরিফ আহাম্মদ ওরফে রিফার বাসা (নং-১১৯) ‘শুভেচ্ছা’তে মুফতি হান্নানের সহযোগী আবু মুসা ও লোকমান বোমা নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে মারা যায়। তাদের সহযোগী মাওলানা আবু সাঈদ অন্য কক্ষে থাকায় প্রাণে বেঁচে যায়। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় মুফতি আবদুল হান্নান ও আসামি আবু সাঈদ ওরফে ডাক্তার জাফরসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এভাবে আসামি মুফতি আব্দুল হান্নান, তার জঙ্গিগোষ্ঠী আগে থেকেই আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্য নেতানেত্রীদের হত্যা করার চেষ্টা করতে থাকে।’’

সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল কাহার আকন্দ অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, ‘অন্যদিকে গ্রেফতার আসামি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন পাকিস্তানে মাদ্রাসায় লেখাপড়ার সময় কাশ্মিরভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা, তেহরিক-ই-জেহাদিল ইসলাম (টিজেই) এবং হিযবুল মুজাহিদিনের সঙ্গে জড়িত হয়। তার সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। মুফতি হান্নান উপরোক্ত মামলাগুলোতে অভিযুক্ত হয়ে পলাতক থাকা অবস্থায় ঢাকার বাড্ডা এলাকায় বসবাস করছিল এবং তার সহযোগী ও ভাই মুহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে অভি, শরীফ শাহেদুল আলম বিপুল, মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, মো. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, শাহাদাত উল্লাহ ওরফে জুয়েল, হোসাইন আহম্মেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে খাজা ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ, আরিফ হাসান ওরফে সুমন ওরফে আব্দুর রাজ্জাক, মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে শামিম ওরফে রাশেদ, মো. উজ্জল ওরফে রতন, মাওলানা মো. তাজউদ্দিন, মহিবুল মুত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন, আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন, মো. খলিল, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মো. ইকবাল, আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, লিটন ওরফে মাওলানা লিটন ওরফে দেলোয়ার হোসেন ওরফে জুবায়ের, ওমর ফারুক, শুভ, ফেরদৌস, রাতুল আহম্মেদ বাবু ওরফে রাতুল বাবু, আহসান উল্লাহ কাজল, মো. মাসুদ ও তার অন্য সহযোগীরা বিভিন্ন প্রকার জঙ্গি তৎপরতা চালাতে থাকে। মুফতি হান্নান ও তার কোটালীপাড়া থানার মামলা এবং ফরিদপুর কোতোয়ালী থানা এলাকায় বোমা আক্রমণ সংক্রান্ত হত্যা মামলার সহযোগী আসামি কামাল উদ্দিন শাকেরসহ সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের সঙ্গে যোগাযোগ করে মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার চেষ্টা চালাতে থাকে।’

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি মাওলানা আব্দুস সালাম, মুফতি আব্দুল হান্নান, মাওলানা শফিকুর রহমান, মুফতি আব্দুল হাই, মাওলানা আব্দুর রউফ, মাওলানা সাব্বির, মাওলানা শেখ ফরিদ, হাফেজ ইয়াহিয়া, মাওলানা আবু বক্কর, মাওলানা তাজউদ্দিন, হাফেজ আবু তাহের, হাফেজ জাহাঙ্গীর বদর ও হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশ-এর অন্য নেতারা ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার পর বিএনপির এমপি শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এবং চট্টগ্রামের এমপি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা নেয়।’

অভিযোগপত্র আরও বলা হয়, ‘সাক্ষীদের জবানবন্দি ও আসামিদের স্বীকারোক্তি থেকে জানা যায়, আসামি মুফতি আবদুল হান্নান, আব্দুল মাজেদ ভাট, আব্দুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ জিএম ও মাওলানা আব্দুস সালামের সহায়তায় ২০০৩ সালে কাশ্মিরভিত্তিক সংগঠন হিজবুল মুজাহিদিনের নেতা আসামি আব্দুল মাজেদ ভাট ওরফে ইউসুফ ভাট ও তেহরিক-ই-জিহাদিল ইসলামী (টিজেআই) নেতা মুজাফফর শাহ্ মাওলানা তাজউদ্দিন বাংলাদেশে আসে। পরে তারা পাকিস্তান থেকে গ্রেনেড ও গুলি আনে। এই গ্রেনেডের কিছু অংশ মুফতি হান্নান তার সহযোগীর মাধ্যমে ভারতে পাঠায় এবং কিছু গ্রেনেড মুফতি হান্নান ও মাওলানা তাজউদ্দিন তাদের কাছে রেখে দেয়।

হাওয়া ভবন (ছবি সংগৃহীত)

হাওয়া ভবনে বৈঠক

অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামি মাওলানা আব্দুস সালাম, মাওলানা তাজউদ্দিন, মুফতি হান্নান, মাওলানা আব্দুর রউফ ও আব্দুল মাজেদ ভাট মোহাম্মদপুরের সাত মসজিদে বসে ষড়যন্ত্রমূলক মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেয় যে, তাদের জঙ্গি তৎপরতা চালানোর ‘প্রধান বাধা’ আওয়ামী লীগ বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দলটির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের হত্যা করতে পারলে তাদের কর্ম-তৎপরতা চালানোর কাজ সুগম হবে। তখন বিএনপির নেতৃত্বে জোট সরকার ক্ষমতায় থাকায় এই আক্রমণ চালানো সহজ হবে বলেও তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছে। তাই তারা পুনরায় মুরাদনগরের এমপি মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের সহযোগিতায় ২০০৪ সালের প্রথম দিকে বনানীস্থ হাওয়া ভবনে গিয়ে আসামি তারেক রহমান ওরফে তারেক জিয়া ও আসামি হারিছ চৌধুরীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে পরিচিত হয় এবং শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যাসহ তাদের বিভিন্ন কাজকর্ম চালানোর জন্য সহযোগিতা চায়। তারেক জিয়া উপস্থিত সবার সামনে তাদের কাজকর্মে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেয়। পরে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যা করার জন্য মুফতি হান্নান তার বাড্ডার অফিস, মোহাম্মদপুর ও অন্যান্য জায়গায় তার অন্যান্য সহযোগীদের নিয়ে ষড়যন্ত্রমূলক বৈঠক করে। ওই সময় (২০০৪ সাল) তাদের কাছে থাকা গ্রেনেডের কিছু গ্রেনেড দিয়ে পূর্ব-পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিলেটের মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা বদর উদ্দিন আহাম্মদ কামরান, আওয়ামী লীগ নেত্রী জেবুন্নেসা হক এমপি, আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এবং বৃটিশ হাই-কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা চালিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। সৌভাগ্যক্রমে তারা বেঁচে যান। কিন্তু প্রত্যেকটি ঘটনায় অনেক লোক হতাহত হয়।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পরের দৃশ্যঅভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ আছে, ‘পুনরায় ২০০৪ সালের আগস্ট মাসে মুফতি হান্নান ও তার সহযোগিরা জানতে পারে— সিলেটে গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে ঢাকার মুক্তাঙ্গনে আওয়ামী লীগ প্রতিবাদ সমাবেশ করবে। তখন তারা সিদ্ধান্ত নেয় যে, সেখানে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের ওপর আক্রমণ করবে। তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পুনরায় তারা তারেক জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই অনুযায়ী মুফতি হান্নান ২০০৪ সালের আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে একদিন মাওলানা আবু তাহের, মাওলানা শেখ ফরিদ, মাওলানা তাজউদ্দিনসহ এনজিও সংগঠন আল মারকাজুল ইসলামের অফিসে জমায়েত হয়ে আল মারকাজুল ইসলামের একটি মাইক্রোবাসযোগে আল মারকজুলের মাওলানা আব্দুর রশীদকে সঙ্গে নিয়ে বনানীর তারেক জিয়ার হাওয়া ভবনে যায়। সেখানে মাওলানা রশীদকে ভবনের নিচতলায় রেখে তারা দোতলায় তারেক জিয়ার অফিসে যায়। সেখানে তারেক জিয়া, লুৎফুজ্জামান বাবর, হারিছ চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামী নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, তৎকালীন এনএসআইর ডিজি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুর রহিম, ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন ডাইরেক্টর সিআইবি (পরে মেজর জেনারেল) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীর সঙ্গে ষড়যন্ত্রমূলক বৈঠক করে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের ওপর হামলা করে হত্যার সহযোগিতা চায়। তারেক জিয়া উপস্থিত সবার সামনে মুফতি হান্নান ও তার সহযোগীদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। আশ্বাস মোতাবেক মুফতি হান্নান ও তার অন্য সহযোগীরা মোহাম্মদপুর, বাড্ডাসহ বিভিন্ন জায়গায় পুনরায় মিটিং করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কর্মপন্থা গ্রহণ করে। সেই মোতাবেক ২০০৪ সালের ১৮ আগস্ট তৎকালীন সরকারের উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর বাসায় মাওলানা আবু তাহের, মাওলানা তাজউদ্দিন, মুফতি আব্দুল হান্নান মুন্সী পুনরায় বৈঠক করে। সেখানে আসামি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, হানিফ পরিবহনের মালিক মো. হানিফ ও ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম আরিফ উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতিতে আব্দুস সালাম পিন্টু ও বাবর জানায় যে, হানিফ ও আরিফ তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করবে এবং তাদের সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতা থাকবে।’

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০০৪ সালের ২০ আগস্ট মুফতি হান্নানের সহযোগী আসামি আহসান উল্লাহ কাজল ও মুফতি মঈন ওরফে আবু জান্দাল তৎকালীন উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর ধানমন্ডির বাসা থেকে মাওলানা তাজউদ্দিনের সরবরাহ করা ১৫টি গ্রেনেড সংগ্রহ করে পশ্চিম মেরুল বাড্ডায় আহসান উল্লাহ কাজলের ভাড়া করা বাসায় মুফতি হান্নানের অফিসে নিয়ে আসে এবং সেখানে মুফতি হান্নান মুন্সীসহ হরকাতুল জিহাদের সদস্যরা পুনরায় মিটিং করে এবং ২১ আগস্টের গ্রেনেড আক্রমণের কৌশল ও চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করে।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন