গুজরাট ছাড়ছে হিন্দিভাষীরা

নিউজ ডেস্ক: ভারতের গুজরাট ছাড়ছেন শত শত মানুষ। দেশটির বিহার ও উত্তরপ্রদেশ থেকে জীবিকার টানে গুজরাটে যাওয়া হিন্দিভাষীদের ওপরে হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে চোখে পড়ার মতো ভিড় স্টেশনগুলোতে। 

হামলার কথা স্বীকার করে রাজ্য পুলিশের ডিজি শিবানন্দ ঝা’র বক্তব্য, বহিরাগতেরা উৎসবের জন্য বাড়ি ফিরলে তার অন্য মানে করা উচিত নয়। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার

অভিযোগ আছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সংখ্যালঘু হত্যা, নির্যাতন–নিপীড়নের ঘটনাসহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা–হাঙ্গামার ঘটনা বেড়েছে। দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে ২০১৭ সালে ৮২২টি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন ১১১ জন। আর আহত হয়েছেন ২ হাজার ৩৮৪ জন। 

এছাড়া গত মার্চের শেষ সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গ আর বিহার রাজ্যে মোট ১০টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েজন নিহত হয়।

এদিকে সম্প্রতি আসাম রাজ্যে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির (এনআরসি) সম্পূর্ণ খসড়া তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয় ৪০ লাখ ৭ হাজার ৭০৮ জনের নাম। রাজ্যে বসবাসকারী অবৈধ বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করার নামে ১৯৫১ সালের পরে প্রথমবারের মতো আসাম রাজ্যে নাগরিকপঞ্জি হালনাগাদ করা হয়।

এসব ঘটনার পর সম্প্রতি গুজরাটের সবরকণ্ঠা জেলার হিম্মতনগরের কাছে এক শিশুকে ধর্ষণ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিহারের এক বাসিন্দা গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় হিন্দিভাষী বহিরাগতদের ওপরে হামলা শুরু হয়। রাজ্য পুলিশের ডিজি শিবানন্দ ঝা জানান, ছয়টি জেলায় সহিংসতা ছড়িয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা মেহসানা এবং সবরকণ্ঠার। গান্ধীনগর, পাটান ও অমদাবাদেও হামলার অভিযোগ উঠেছে। 

এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৪২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলা হয়েছে ৪২টি। সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ানোর অভিযোগে দু’জনকে চিহ্নিত করেছে সাইবার ক্রাইম সেল। রাজ্য রিজার্ভ পুলিশের ১৭ কোম্পানি বাহিনী পাঠানো হয়েছে উপদ্রুত এলাকাগুলোতে।

অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় নেতাদের ক্রমাগত হুমকির জেরে হিন্দিভাষীদের গুজরাট ছাড়ার হিড়িক পড়েছে। যাদের সেই উপায় নেই, তাদের আপাতত আশ্রয় বন্ধু বা আত্মীয়দের কাছে।

ডিজি বলেন, ভয়ের কারণে কেউ পালাচ্ছেন কি না বাসস্ট্যান্ড ও স্টেশনে গিয়ে খতিয়ে দেখতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি। এমনটা হলে কথা বলে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।

হিন্দিভাষীদের আক্রমণের ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে গুজরাতের ঠাকোর সম্প্রদায়ের দিকে। যদিও এ কথা উড়িয়ে দিয়েছেন ঠাকোর নেতা ও কংগ্রেস বিধায়ক অল্পেশ ঠাকোর। শান্তি-সম্প্রীতির বার্তার পাশাপাশি অল্পেশ হুমকি দিয়েছেন, তার সমর্থকদের ওপর থেকে মিথ্যা মামলা তোলা না হলে আগামী ১১ তারিখ থেকে ‘সদ্ভাবনা অনশন’ শুরু করবেন তিনি। 

অল্পেশের অভিযোগ, বেসরকারি কারখানাগুলোতে অল্প বেতনে কাজ দেওয়া হয়েছে বহিরাগতদের। ৮০ শতাংশ চাকরি স্থানীয়দের পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি। ইতিমধ্যেই শিল্পনগরীগুলোতে মোটরসাইকেলে এসে বহিরাগত কর্মীদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েক জনের বিরুদ্ধে। 

এই কারখানাগুলোর আশপাশেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলেও ডিজি শিবানন্দ ঝা জানান।