৭ দফার দাবিতে পরিবহণ ধর্মঘট

নিউজ ডেস্ক: সদ্য পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইনের বিরুদ্ধে এবার আন্দোলনে নেমেছেন পরিবহন মালিক- শ্রমিকেরা। আইনটি সংশোধনসহ ৭ দফা দাবিতে আজ রবিবার সকাল থেকে ঢাকা বিভাগে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘটে নামেন তারা। 

এর আগে, শনিবার বিকালে তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ডে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে ৭ দফা দাবি আদায়ে ঢাকা বিভাগে অনির্দিষ্টকালের পণ্য পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেন বাংলাদেশ পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দ। 

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ সংশোধন করা; সড়ক দুর্ঘটনায় ৩০২ ধারায় মামলা গ্রহণ না করা; ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান বাতিল ও জামিনযোগ্য ধারায় মামলা করা; টাঙ্গাইল জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সদস্য হাসমত আলীসহ মালিক ও শ্রমিক মুক্তি; পুলিশের হয়রানি বন্ধ করা; গাড়ির কাগজপত্র চেকিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা; পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধাসংবলিত ট্রাক টার্মিনাল বা স্ট্যান্ড নির্মাণ করা; গাড়ির মডেল বাতিল করতে হলে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়া; সহজ শর্তে ভারী যানবাহন চালককে ভারী লাইসেন্স দেয়া ও এর আগ পর্যন্ত হালকা বা মধ্যম লাইসেন্স দিয়ে ভারী যানবাহন চালানোর সুযোগ দেয়া; সারা দেশে গাড়ির ওভারলোডিং বন্ধ করা এবং ফুটপাত, ওভারব্রিজ, আন্ডারপাস ও জেব্রাক্রসিং ব্যবহার নিশ্চিত করা।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাস্তায় পণ্যবাহী গাড়ি চলবে না ঘোষণা দিয়ে সমাবেশে নেতারা বলেন, আর দাবি মেনে নেয়া হলে আগামীতে যে কোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকারকে সহযোগিতা করা হবে।

সমাবেশে প্রধান অতিথি ওসমান আলী বলেন, সড়ক আইনের দুর্ঘটনায় চালককে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেফতার, দুর্ঘটনায় ৫ বছর জেল ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং ওয়েস্কেলে তিন বছর জেল ও তিন লাখ টাকা জরিমানার বিধান আমরা মানি না- মানব না। ১২ অক্টোবরের মধ্যে সড়ক আইন সংশোধন করে জামিনযোগ্য ও জরিমানা ৫০ হাজার টাকা করতে হবে।

কথায় কথায় পুলিশের অহেতুক মামলা দেয়া বন্ধ করতে হবে। এর মধ্যে এসব দাবি মেনে নেয়া না হলে শ্রমিক ফেডারেশন বৈঠক করে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে। আবুল কালাম বলেন, সড়ক পরিবহন আইনের ৮৪, ৯৮, ১০৫ ও ১১৭ ধারায় সংশোধনী আনতে হবে। সড়ক নিরাপদ না করে শুধু চালককে দণ্ড দেয়া বন্ধ করতে হবে। 

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি সাদেকুর রহমান হিরুর সভাপতিত্বে এ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন-ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মুকবুল আহমদ, সদস্য সচিব মো. তাজুল ইসলাম প্রমুখ,  ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম, শ্রমিক ফেডারেশনের করিম বকস দুদু, করম আলী প্রমুখ।