স্বপ্নপূরণের অপেক্ষায় স্বপ্নারা

নিউজ ডেস্ক: ভুটানের সৌন্দর্য ঘেরা থিম্পু শহরের চাংলিমিথায় স্টেডিয়ামে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের ফুটবলের দুঃসহ স্মৃতি। ২০১৬ সালের ১০ অক্টোবর মামুনুল ইসলামরা নির্বাসনে গিয়েছিলেন ভুটানের কাছে এই মাঠেই হেরে। গত ১৮ আগস্ট চাংলিমিথাংয়ে বেদনার আরেকটি কাব্য রচিত হয়। অনূর্ধ্ব-১৫ নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতের কাছে ১-০ গোলে হেরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন মারিয়া মান্ডা-মনিকা চাকমারা। আজ সেই মাঠেই স্বপ্নপূরণের দিন সিরাত জাহান স্বপ্নাদের। অনূর্ধ্ব-১৮ নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম শিরোপা জয়ে বাধা হিমালয়ের দেশ নেপাল। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায়। 

ফাইনালে ভারত নেই বলে স্বস্তির হাওয়া বইছে বাংলাদেশ শিবিরে। প্রতিপক্ষ নেপালকে গ্রুপ পর্বে হারিয়েছিল ২-১ গোলে। কিন্তু যে দলটি ভারতকে হারাতে পেরেছে, বাংলাদেশকেও মাটিতে নামানোর সামর্থ্য তাদের আছে। অবশ্য বয়সভিত্তিক আসরে কখনোই গোলাম রব্বানী ছোটনের দলকে হারাতে পারেনি নেপাল। ২০১০ সালে কক্সবাজারে সিনিয়র সাফের সেমিফাইনালে হিমালয় কন্যাদের কাছে হেরেছিল সাবিনারা। সেটা এখন অতীত। 

যেমন অতীত গত আগস্টে ভারতের কাছে ফাইনালে হারটাও। কোচ ছোটন নতুন কিছুর স্বপ্ন দেখছেন। গতকাল ভুটান থেকে টেলিফোনে সমকালকে বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘ভারতের কাছে ওই হারের কোনো প্রভাবই ফেলবে না। কোনো চাপ নেই। কারণ আগস্টের ফাইনাল এখন অতীত। সেগুলো কারোর মাথায় নেই। আমাদের ফোকাস একমাত্র অনূর্ধ্ব-১৮ আসরের ফাইনাল নিয়েই। এই ফাইনালটা জিততে চাই আমরা।’

শুধু নেপাল বলেই নয়, শিরোপার স্বপ্নটা আরও বড় হয়েছে স্বপ্না ফিরছেন বলে। পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ১৭ গোলের ৭টিই করেছিলেন রংপুরের এ মেয়ে। নেপালের জালেও একবার বল পাঠিয়েছিলেন। গ্রুপ সেরা হওয়ার লড়াইয়ের ম্যাচেই চোটে পড়েছিলেন ৮ গোল করা এ ফরোয়ার্ড। যে ইনজুরি তাকে খেলতে দেয়নি ভুটানের বিপক্ষে সেমিফাইনালে। 

কয়েকদিন বিশ্রামে থাকায় চোটও সেরে গেছে। আজ শুরুর একাদশ থেকেই মাঠে নামবেন স্বপ্না। তাকে পেয়ে আরও উজ্জীবিত বাংলাদেশ। সবাই খুবই আত্মবিশ্বাসী। কেবল স্বপ্না নন, ভুটানের বিপক্ষে গোল করা সানজিদা, শামসুন্নাহারদের ওপরও আস্থা আছে ছোটনের, ‘সেমির ম্যাচে স্বপ্নাকে ইচ্ছা করেই খেলাইনি ফাইনালের জন্য চাঙ্গা রাখব বলে। ওর ইনজুরি বলতে গেলে প্রায় সেরেই গেছে। আশা করি সে ফাইনালে খেলবে। এখন দলের ২৩ খেলোয়াড়ের সবাই সুস্থ আছে। স্বপ্না দলের প্রধান ফরোয়ার্ড। তাকে পাওয়ায় দল আরও আত্মবিশ্বাসী। স্বপ্না থাকায় শিরোপা জিততে আরও প্রত্যয়ী মেয়েরা।’ 

স্বপ্না যেমন একাদশে ফিরছেন, তেমনি করে ফাইনালে দু-একটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত বাংলাদেশ কোচের। আগের লড়াইয়ে নেপালকে হারিয়েছে। তাদের সম্পর্কে ধারণাও আছে। এত কিছুর পরও ফাইনালে আত্মতুষ্টিতে ভুগছে না ১৮ না পেরোনো মেয়েরা। 

বরং হিমালয়ের দেশকে সমীহ করেই নামছে ছোটনের দল, ‘ভারতকে হারিয়ে নেপাল ফাইনালে উঠেছে। সেই ম্যাচটি আমি দেখেছি। এমন নয় যে, ভারত হেরে অঘটনের শিকার হয়েছে। বরং নেপালই চমৎকার খেলেছে এবং যোগ্য দল হিসেবেই ফাইনালে উঠেছে। এখন তারাই আমাদের ফাইনালের প্রতিপক্ষ। যদিও গ্রুপ পর্বে আমরা নেপালকে হারিয়েছিলাম, তাই বলে ফাইনালে তারা আমাদের চেনা বা সহজ প্রতিপক্ষ বলে আমরা খুশি হয়েছি, এমনটা মোটেও বলব না। আমাদের কাছে সব দলই সমান শক্তিশালী এবং সমীহজাগানিয়া। গ্রুপ পর্বে এবং ফাইনালের খেলা দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। ফাইনাল হবে ফাইনালের মতো।’

ছোটনের দাবি, গ্রুপের লড়াইয়ে নেপাল নেতিবাচক ফুটবল খেলেছে। যার কারণেই ইনজুরিতে পড়েছিলেন স্বপ্না। আজকের ফাইনালেও তারা এমন কৌশলে খেলতে পারে বলে ধারণা বাংলাদেশ কোচের। কীভাবে নেপালকে হারাতে হবে, সেটা ভালো করে জানা আছে তার, ‘তারা নেগেটিভ ফুটবল খেলেছিল। ফাইনালেও তারা এমনটা করতে পারে। তাই বলে আমরা ভীত নই। আসলে আমরা নিজেদের নিয়েই ভাবছি। ওরা ওদের মতো খেলবে, আমরা খেলব আমাদের মতো। আমরা টুর্নামেন্টজুড়ে যেভাবে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছি এবং প্রাধান্য বিস্তার করে খেলেছি, সেই স্বাভাবিক খেলাটাই ফাইনালেও খেলতে চাই।’