পটুয়াখালী-৩: আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী রাজু আহমেদ!

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ঈদানন্দের মত নির্বাচনী হাওয়ার উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে শহর থেকে গ্রাম গঞ্জে। প্রতিটি চায়ের দোকানে পছন্দনীয় প্রার্থীর মনোনয়ন আর ভোটাধিকার নিয়ে চলছে আলোচনা, সমালোচনা। মনোনয়ন প্রত্যাশীগণও মনোনয়ন পেতে একদিকে যেমন ঢাকায় লবিং করছেন তেমনি মাঠেও জোর জনসংযোগ করছেন। তারই ধারাবাহিকতায় পটুয়াখালী ৩ আসনে মনোনয়ন পেতে ঢাকায় লবিংসহ এলাকাতেও ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন রাজু আহমেদ। 

উল্লেখ্য পটুুয়াখালী ৩ সব সময় আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও বর্তমানে নেতৃত্বে সংকট অবস্থা। তারই অংশ হিসেবে বিএনপিতে চলছে ঘুরে দাঁড়ানো সংগ্রাম। বিএনপির ধারণা বিগত দিনে পিছিয়ে থাকলেও এবার নির্বাচনে অংশ নেওয়া মানে নিশ্চিত এমপি। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বজ্রকন্ঠে বলছেন, বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হলে এ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে নৌকার প্রার্থী। আর ঐক্যবদ্ধ করতে হলে একমাত্র রাজু আহমেদকেই প্রয়োজন আওয়ামী লীগের নেতা কমীদের।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী(নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) আরো বলেন, বর্তমান এমপি আখম জাহাঙ্গীর হোসাইন সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনলেও স্থানীয় নেতা কর্মীসহ সাধারণ জনগণ তাঁর প্রতি যেমন খানিক-অনাস্থা তেমনি সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনির সাংগঠনিক অবস্থা একেবারেই তলানিতে।

মনোনয়ন প্রত্যাশী রাজু আহমেদের অবস্থা তুলে ধরে স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মীরা বলেন, স্বৈরাচার বিরোধী ৯০’র গণঅভ্যুত্থানে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতা রাজু আহমেদ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ৭১ এর ঘাতক দালাল নির্মুল জাতীয় সমন্বয় কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন। তিনি শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গোলাম আযমের ফাঁসির দাবীতে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত গণ আদালতে তার সহকর্মী এবং ১৯৯২ সালে সাম্প্রদায়ীকতা বিরোধী ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। ২০০১ সালের ১লা অক্টোবরের নির্বাচন পরবর্তী অস্থির রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সময় থেকে ২০০৭ সালের ১/১১ পরবর্তী ২০০৮ সনের ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় পর্যন্ত উল্লেখিত প্রতিকুল রাজনৈতিক পরিবেশ থেকে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সর্বদাই সক্রিয় ছিলেন। ছাত্র রাজনীতির ১৪ বছর এবং জাতীয় রাজনীতির ২২ বছর সর্বমোট ৩৬ বছর, দীর্ঘ-৩-যুগ বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের রাজনীতির মাঠ থেকে সরে দাঁড়াননি কখনো। নিজের অবস্থান থেকে রাজনৈতিক ভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াবার চেষ্টা করেছেন বারবার। সুতরাং রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটের দিক থেকে ক্লিন ইমেজের রাজনৈতিক নেতা হিসেবে যদি রাজু আহমেদের বাইরে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয় তাহলে নৌকার বিজয় কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।