সিনহার বড় ভাইকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

নিউজ ডেস্ক: প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বড় ভাই নরেন্দ্র কুমার সিনহার নামে রাজধানীর উত্তরায় ১০ তলা ভবন থাকার তথ‌্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এক সময় নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরে চাকরি করলেও বর্তমানে অবসরোত্তর জীবন-যাপন করছেন ভাই নরেন্দ্র কুমার সিনহা। প্রতিষ্ঠানের সামান‌্য ওই কর্মচারীর বিরুদ্ধে রয়েছে অঢেল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ।

এমন কিছু অভিযোগ অনুসন্ধানের স্বার্থে বুধবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সোয়া ১টা পর্যন্ত প্রায় তিন ঘন্টা তাকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদকের একটি বিশেষ টিম।

দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে ওই টিমে সহযোগী হিসেবে ছিলেন কমিশনের সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান। তাদের কাছে জানতে চাইলে এ বিষয়ে কোনো ধরনের মন্তব‌্য করতে অস্বীকার করেন তারা।

তবে ছোট ভাই অনন্ত কুমার সিনহার যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের সূত্র ধরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে দুদকের একাধিক উর্ধ্বতন সূত্র রাইজংবিডিকে নিশ্চিত করেছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুদকের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা রাইজিংবিডিকে বলেন,প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বড় ভাই নরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অঢেল সম্পদের মালিক হওয়ার তথ‌্য রয়েছে দুদকের হাতে। ছোট ভাই অনন্ত কুমার সিনহার অনুসন্ধানের সূত্র ধরেই তাকে আজ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে বড় ভাই নরেন্দ্র কুমার সিনহার নামে রাজধানীর উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরে ১০তলা ভবনের মালিকানার বিষয়ে সত‌্যতা স্বীকার করেছেন। এছাড়াও আরো বেশি কিছু অভিযোগের সত‌্যতা পাওয়া গেছে। শিগগিরই তার নামে পৃথক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

আমেরিকায় অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির ভাই অনন্ত কুমার সিনহার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছে দুদক। তার বিরুদ্ধে আমেরিকার নিউ জার্সিতে চার হাজার স্কোয়ার ফিটের ২ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলারের বাড়ি ক্রয়, অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। দুদকের সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধানের নেতৃত্বে দুই সদস্যের টিম বিষয়টি অনুসন্ধান করছে।

এদিকে এস কে সিনহার ব্যাংক হিসাবে চার কোটি টাকা জমা হওয়ার বিষয়ে দুদকে পৃথক আরো একটি অনুসন্ধান চলছে। অভিযোগ অনুসন্ধানে গত ৬ মে ও ২৬ সেপ্টেম্বর মোট আট জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ সেপ্টেম্বর ফারমার্স ব্যাংকের প্রাক্তন এমডি কে এম শামীমসহ ছয় কর্মকর্তাকে সাড়ে ৬ ঘন্টাব্যাপী জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। আর গত ৬ মে দুই ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। যারা এস কে সিনহার ব্যাংক হিসাবে চার কোটি টাকা স্থানান্তরের বিষয়টি স্বীকার করেন।

ওই দিন তাদের সঙ্গে আসা আফাজ মাহমুদ রুবেল এবং নাজমুল আলম নামের দুই আইনজীবী সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন এস কে সিনহাকে তার বাড়ি বিক্রির চার কোটি টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে।

আইনজীবীরা বলেন,এস কে সিনহার উত্তরার ছয় তলা বাড়িটি পাঁচ কাঠা জমির ওপর ছিল। এ বাড়িটি ২০১৬ সালের শুরু দিকে টাঙ্গাইলের বাসিন্দা শান্তি রায় ছয় কোটি টাকায় ক্রয় করেন। এ সময় বায়না দলিলকালে তিনি দুই কোটি টাকা পরিশোধ করেছিলেন। বাকি টাকা পরিশোধের জন্য নিরঞ্জন ও শাহজাহানের সহযোগিতা নেন। নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা শান্তি রায়ের স্বামী রনজিতের চাচা শ্বশুর। আর শাহজাহান রনজিতের বন্ধু। বাড়ি কিনতে বাকি চার কোটি টাকা ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে নিরঞ্জন ও শাহজাহান (দুই কোটি টাকা করে) ঋণ নেন।

তাদের তথ্যানুযায়ী, ২০১৬ সালের মে মাসে জমির বায়না দলিল হয় এবং ওই বছরের ৮ নভেম্বর দুটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে এস কে সিনহা সোনালি ব্যাংক সুপ্রিম কোর্ট শাখার মাধ্যমে চার কোটি টাকা গ্রহণ করেন।

সর্বশেষ প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার দায়ের করা দুর্নীতির মামলার তদন্তভারও পড়েছে দুদকের ওপর। গত ২৭ সেপ্টেম্বর শাহবাগ থানায় বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট অ্যালায়েন্সের (বিএনএ) সভাপতি ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার দায়ের করা মামলায় এস কে সিনহার বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করার অভিযোগ করেছেন।

আদালতের নির্দেশনায় এরই মধ‌্যে দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে কমিশন। আর তদারককারী কর্মকর্তা হিসেবে সংস্থাটির মহাপরিচালক খান মো. নূরুল আমিনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।