সিনহার মামলা দুদক আইনে পড়ে কি না দেখা হবে: ইকবাল

নিউজ ডেস্ক: প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার নথি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পৌঁছেছে জানিয়ে কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, ‘এটি দুদক আইনে পড়বে কিনা, তা বিচার বিশ্লেষণ করে দেখা হবে। এ নিয়ে তদন্ত করা হবে। একজন তদন্তকারী নিয়োগ দেয়া হবে।’

এস কে সিনহার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট অ্যালায়েন্সের (বিএনএ) সভাপতি ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার দায়ের হওয়া দুর্নীতির মামলার এজাহার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বুধবার দুপুরে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আইনের বাইরে যাওয়া যাবে না। তদন্ত কর্মকর্তা কি করবেন তা আমি বলতে পারবো না। আমি তো অভিযোগ বিচার বিশ্লেষণ এখনো করতে পারিনি। এটি আদালতের মাধ্যমে দুদকে এসেছে। আদালত তো কিছু না বুঝে আমাদের দেয়নি। তদন্ত আমাদের করতে হবে, এটা স্বত:সিদ্ধ। কিছু একটা না থাকলে আদালত আমাদের দিবে না।’

এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা যদি মনে করেন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন, তাহলে তাকে যথারীতি জিজ্ঞাসাবাদ করবে। সেটা কিভাবে করবে তদন্ত কর্মকর্তা নির্ধারণ করবে। তবে জিজ্ঞাসাবাদ করা ম্যান্ডেটরি না।

প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সিনহাকে দেশে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার সুযোগ রয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের দেশের আইনে সব ব্যবস্থা রয়েছে। আনার প্রক্রিয়া ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশনে আছে। তবে এটা অনেক পরের বিষয়।

ফারমার্স ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এস কে সিনহার ব্যাংক হিসাবে চার কোটি টাকা জমা সংক্রান্ত অনুসন্ধান শেষ পর্যায় বলে জানিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান। এতে যে-ই জড়িত হোক আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘নাগরিক না হয়ে মাত্র ২ বছরে কিভাবে আমেরিকায় বাড়ি কিনলেন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ভাই অনন্ত কুমার সিনহা, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে দুদক।’

আপনাদের কাছে থেকে যতটুকু তথ্য পাওয়া সেখানে দেখা যায় ২ লাখ ৮০ হাজার ডলারে একটি বাড়ি ক্রয় করা হয়েছে। আমরা যতটুকু বুঝেছি দুই বছর আগে যখন কোনো ব্যাক্তি কোনো দেশে যান, তাহলে তার পক্ষে নাগরিক হওয়া সম্ভব না। যেহেতু তিনি নাগরিক হতে পারেননি, সেহেতু তার অবৈধ সম্পদ দেখার বিষয়টি আমাদের দায়িত্ব। সে কারণে অনন্ত কুমার সিনহার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছি।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর শাহবাগ থানায় বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট অ্যালায়েন্সের (বিএনএ) সভাপতি ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার মামলাটি দায়ের হওয়ার পর তা ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতের শাহবাগ থানার জেনারেল রেকর্ডিং (জিআর) শাখায় পাঠানো হয়। মামলাটি দুর্নীতির অভিযোগের হওয়ায় সোমবার বিকেলে দুদক জিআর-এ পাঠানো হয়।