মিথ্যা তথ্যে সংবাদ প্রকাশ না করলে উদ্বেগের কিছু নেই: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন বলেছেন, যেসব সাংবাদিক মনে করেন তারা কোনো মিথ্যা তথ্য দেবেন না, তাদের উদ্বগ্নি হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারো বিরুদ্ধে কোনো তথ্য কিংবা সংবাদ প্রকাশ করলে তা প্রমাণ করতে হবে। প্রমাণ করতে না পারলে সেই সাংবাদিক কিংবা সংশ্লিষ্টদের শাস্তি পেতে হবে। 

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে যোগদানে যুক্তরাষ্ট্র সফরের বিষয়ে জানাতে করা সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বুধবার বিকেল ৪টায় গণভবনে এ সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে যোগদান বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাইবার সিকিউরিটি প্রত্যেক দেশে বিরাট সমস্যা হিসাবে দেখা দিয়েছে। সেখানে সামাজিক, পারিবারিক সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের সমস্যা, পর্ন ইত্যাদি ছড়াচ্ছে। আমরা সে লক্ষ্যে উদ্যোগ নিয়েছি। সরকারের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিষোদ্গার ও ‘নোংরামি’র বিরুদ্ধে লড়তেও কাজে লাগবে।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের পথে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন শেখ হাসিনা। ২৩ সেপ্টেম্বর লন্ডন থেকে নিউইয়র্ক পৌঁছেন তিনি। ২৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে ভাষণ দেন। একই দিন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া সেখানে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর নেদারল্যান্ডসের রানী ম্যাপিমা, এস্তোনিয়ার প্রেসিডেন্ট ক্রেস্টি কালজুলেইদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেইওর সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া সংবর্ধনা সভায়ও যোগ দেন তিনি। এ সময়কালে রোহিঙ্গা সংকট, সাইবার নিরাপত্তা, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, নারীর ক্ষমতায়ন, নারীশিক্ষা এবং বৈশ্বিক মাদকদ্রব্য সমস্যা নিয়ে কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেন শেখ হাসিনা। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা ইন্টার প্রেস সার্ভিস (আইপিএস) প্রদত্ত সম্মানজনক ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করেন তিনি। মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা নাগরিককে আশ্রয়দানের মাধ্যমে মানবিকতার উদাহরণ সৃষ্টি করায় এই পদকে ভূষিত করা হয়ে তাকে।

এছাড়া দূরদৃষ্টির মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলার জন্য গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশনের পরিচালনা পর্ষদ তাকে ‘২০১৮ স্পেশাল রিকগনাইজেশন ফর আউটস্ট্যান্ডিং লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’-এ ভূষিত করে তাকে। ১ অক্টোবর সকালে লন্ডন হয়ে দেশে ফিরলে গণভবনে সংবর্ধনা দেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রীকে।