বিপ্লবী তরুণদের স্বপ্নের নায়ক কমরেড জসীম মণ্ডল

নিউজ ডেস্কঃ  ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক, মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী, এ দেশের শ্রমিক আন্দোলনের কিংবদন্তী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক উপদেষ্টা, বর্ষীয়ান কমিউনিস্ট নেতা কমরেড জসীম উদ্দীন মণ্ডলের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটি আয়োজিত স্মরণভায় নেতৃবৃন্দ বলেছেন, আজীবন বিপ্লবী কমরেড জসীম উদ্দীন মণ্ডল তরুণদের স্বপ্নের নায়ক। তিনি হাজার হাজার তরুণকে কমিউনিস্ট আদর্শ ও আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করেছেন। সহজ-সরল-সাবলীল অথচ অনলবর্ষী বক্তৃতায় তিনি সহজেই জনতাকে আকৃষ্ট করতেন। তাঁর আশাবাদ ছিল পচা-গলা বর্তমান সমাজকে ভেঙে শোষণহীন নতুন সমাজ বিনির্মাণের লড়াইকে তরুণরা অগ্রসর করে নেবে।

২ অক্টোবর ঢাকার কমরেড মণি সিংহ সড়কস্থ মুক্তি ভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে স্মরণসভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সিপিবির সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় আরও বক্তব্য রাখেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা কমরেড মনজুরুল আহসান খান, বাসদ-এর সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও গণতান্ত্রিক বাম জোটের সমন্বয়ক কমরেড সাইফুল হক, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক কমরেড মো. শাহ আলম, ঐক্য ন্যাপের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাড. এসএমএ সবুর, কমরেড জসীম মণ্ডলের নাতনি লাবনী শবনম মুক্তি।

স্মরণসভাটি সঞ্চালনা করেন সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন। কমরেড জসীম মণ্ডলের জীবনী পাঠ করেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী। স্মরণসভার শুরুতে প্রয়াত কমরেড জসীম উদ্দীন মণ্ডলের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করা হয় এবং তাঁর স্মরণে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন বীর সেনানী, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। এই ভূখণ্ডের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি সামনের কাতারে থেকে লড়াই করেছেন। তিনি এ দেশের শ্রমিক মেহনতি মানুষের মুক্তিসংগ্রামের কিংবদন্তী মহানায়ক। জেল-জুলুম-হুলিয়াকে তিনি পরোয়া করেননি। ৯০-এর দশকে কমিউনিস্ট আন্দোলন তীব্রভাবে আক্রান্ত হলে, তিনি আদর্শের ঝান্ডা নিয়ে বিলোপবাদীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে শ্রমজীবী-মেহনতি মানুষকে সংগঠিত করার কাজে তিনি আত্মনিয়োগ করেছিলেন।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বিপ্লব ও বিপ্লবীর কখনো মৃত্যু নেই। কমরেড জসীম উদ্দীন মণ্ডল শোষণমুক্ত সমাজ নির্মাণের স্বপ্ন আজীবন লালন করেছেন। তাঁর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লড়াইকে অগ্রসর করার মধ্য দিয়েই তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন করতে হবে। সমাজ বদলের লড়াইয়ের মধ্যেই তিনি বেঁচে থাকবেন।